ইরানের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হলে বড় পরিসরের নতুন সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন—এমন তথ্য উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে। প্রস্তাবিত অভিযানের নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতি ফের তীব্র হলে পূর্বের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নাম পরিবর্তন করে নতুন এই শিরোনামে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, কূটনৈতিক অচলাবস্থা, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি না থাকায় পুনরায় সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে। নতুন নামকরণকে সম্ভাব্য আইনগত ও কৌশলগত কাঠামোর মধ্যে আলাদা সামরিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরান পাঁচ দফা শর্ত পূরণ না হলে আলোচনায় না বসার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সম্পদ ফেরত, যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ ও আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা।
উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে নতুন এই সামরিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রাশিয়া নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) ‘সারমাত’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই অস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত দৃশ্যে দেখা যায়, কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার সের্গেই কারাকায়েভ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে সফল উৎক্ষেপণের বিষয়টি অবহিত করছেন। পুতিন জানান, চলতি বছরের মধ্যেই ‘সারমাত’ আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড ধ্বংসক্ষমতা প্রচলিত পশ্চিমা সমমানের অস্ত্রের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। রাশিয়ার সামরিক সূত্র অনুযায়ী, ‘সারমাত’ সাব-অরবিটাল গতিপথে চলতে সক্ষম এবং এর পাল্লা ৩৫ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। এটি বিদ্যমান ও ভবিষ্যতের সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম বলেও দাবি করা হয়। পশ্চিমা সামরিক মহলে ‘সাটান–২’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পুরোনো সোভিয়েত যুগের ভয়েভোদা ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে উন্নয়ন করা হচ্ছে। ২০১১ সালে প্রকল্পটি শুরু হলেও একাধিক ব্যর্থতা ও প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে এর অগ্রগতি ধীর ছিল, এর আগে একাধিক পরীক্ষায় ব্যর্থতা ও বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পরই দুর্নীতি তদন্তে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও সাবেক মন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সল্টলেকে ইডির দপ্তরে প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়। মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে বিধাননগর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, দমদম পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান থাকাকালে কর্মী নিয়োগে অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরেই তদন্ত এগোচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার তাকে তলব করা হলেও নির্বাচনী ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। উল্লেখ্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের দমকলমন্ত্রী ছিলেন সুজিত বসু। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিধাননগর আসনে পরাজয়ের পর রাজনৈতিকভাবে চাপের মুখে ছিলেন এই তৃণমূল নেতা।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নতুন রাজনৈতিক বিন্যাসে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে পরিণত হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত শোভনদেব এবার বালিগঞ্জ আসনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে টানা দশমবারের মতো বিধানসভায় নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ আসনে পরাজিত হয়ে বিধানসভায় প্রবেশাধিকার হারান, ফলে নেতৃত্বের কাঠামোয় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে শোভনদেবকে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্বে আনা হয়। রাজনৈতিক জীবনে কংগ্রেস থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুক্ত থাকা শোভনদেব শ্রমিক রাজনীতি, ট্রেড ইউনিয়ন ও সংগঠন বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। একসময় ভবানীপুর আসনে জয়ী হলেও দলীয় আহ্বানে তিনি আসন ছেড়ে দেন এবং পরে উপনির্বাচনে খড়দহ থেকে পুনরায় বিধানসভায় ফিরে আসেন।