ইউরোপ, ২৬ জুন ২০২৫ – আগামী সেপ্টেম্বরে শুরু হতে যাওয়া ইউরো ২০২৫ ফুটবল টুর্নামেন্টের উত্তেজনা ইতিমধ্যে পুরো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপের ২৪টি সেরা জাতীয় দল কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রয়েছে। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে খেলোয়াড়রা নিজেদের ফিটনেস বৃদ্ধি, কৌশলগত দক্ষতা ও দলগত সমন্বয়ের দিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম সেরা দল জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, ইতালি ও নেদারল্যান্ডস তাদের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে শক্তিশালী দল গঠন করেছে। জার্মানির প্রধান কোচ হান্স মুলার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন,
“আমরা ইউরো জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামছি। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়রা গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে মিলিয়ে আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল গড়ে তুলেছি।”
স্পেনীয় কোচ মিগুয়েল রামোস নতুন কৌশল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“ফুটবল ক্রমশ পরিবর্তিত হচ্ছে। গত কয়েক বছর আমরা একটি নতুন খেলার ধরন অনুশীলন করেছি। ইউরো ২০২৫-এ আমরা সেই নতুন কৌশল মাঠে প্রয়োগ করবো এবং প্রতিপক্ষদের চমকে দেব।”
ইংল্যান্ডের কোচ লরেন্স হারপারের মতে, তরুণদের সঙ্গে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঠিক সমন্বয় দলকে শক্তিশালী করবে, এবং তারা এই টুর্নামেন্টে উচ্চমানের খেলা প্রদর্শন করবে। তিনি বলেন,
“আমাদের যুবপ্রজন্ম ফুটবলের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। তাদের সঙ্গে অভিজ্ঞদের একসাথে কাজ করার ফলে আমরা আশাবাদী।”
টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব ইউরোপের বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ইউরো ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে নতুন তারকাদের আবির্ভাব হবে, যারা বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যত গড়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিশ্ব ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের ইউরো হবে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ টুর্নামেন্ট। বিভিন্ন দল তাদের সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে নামবে এবং দর্শকদের জন্য মনোমুগ্ধকর মুহূর্ত উপহার দেবে।
বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তরা উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছেন এই আসরের জন্য, যেখানে তাদের প্রিয় দল এবং তারকারা একসঙ্গে ফুটবল ইতিহাস রচনা করবে।
দীর্ঘ ২৫ বছর পর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) হ্যানয়ের হাং জু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হওয়া ম্যাচকে সামনে রেখে কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা শক্তিশালী একাদশ ঘোষণা করেছেন, যেখানে শেষ মুহূর্তের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরীকে রাখা হয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ১৮১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম অবস্থান করছে ১০৫ নম্বরে, যা দুই দলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান নির্দেশ করে। তবুও প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন কোচিং স্টাফ। দলে গোলরক্ষক হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন মেহেদী হাসান শ্রাবণ। রক্ষণভাগে আছেন শাকিল আহাদ তপু, তারিক কাজী ও সাদ উদ্দিন। অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পালন করবেন সোহেল রানা। কার্ড জটিলতা কাটিয়ে একাদশে ফিরেছেন ফাহমিদুল ইসলাম, আর আক্রমণভাগে থাকছেন সামিত সোম ও জায়ান আহমেদ। বাংলাদেশ দল পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নামছে, যেখানে কৌশলগত ভারসাম্য ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম-এ আজ রোববার (৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। স্বাগতিক ভারতের সামনে রয়েছে নতুন ইতিহাস গড়ার সুযোগ। জয়ে তারা প্রথম দল হিসেবে তিনটি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শিরোপা অর্জনের পাশাপাশি টানা দুই আসরে ট্রফি ধরে রাখার রেকর্ড গড়তে পারে। তিন বছর আগে একই মাঠে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাজয়ের স্মৃতি পেছনে ফেলে নতুন সাফল্যের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে রোহিত শর্মার দল। ফাইনালের আগে প্রস্তুতিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই); এমনকি দলের হোটেলও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ম্যাচের ফল নির্ধারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত দ্বৈরথ বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। নিউজিল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ওপেনার ফিন অ্যালেন-কে থামানোর দায়িত্ব থাকবে ভারতের প্রধান পেসার যশপ্রীত বুমরা-র ওপর। সেমিফাইনালে মাত্র ৩৩ বলে সেঞ্চুরি করা অ্যালেন পাওয়ারপ্লেতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন সঞ্জু স্যামসন। তবে তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন কিউই পেসার ম্যাট হেনরি, যিনি অতীতে কয়েকবার স্যামসনকে আউট করেছেন। এছাড়া মধ্য ওভারে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব এবং নিউজিল্যান্ডের স্পিনার মিচেল স্যান্টনার-এর লড়াইও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের ধারাবাহিক ব্যাটার টিম সাইফার্ট-কে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব থাকবে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া-র ওপর। সাত ইনিংসে তিনটি অর্ধশতক করা সাইফার্ট এই টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। ফলে ফাইনালের এই দ্বৈরথগুলোই শেষ পর্যন্ত শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
নবনিযুক্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পল্লবীতে নিজের বাসভবনে প্রথম সংবাদ সম্মেলনে দেশের ক্রীড়া ও কূটনৈতিক নীতি নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি জানান, সরকার ভারতের সঙ্গে চলমান ইস্যু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে চায় এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি উল্লেখ করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাংলাদেশ ভারতের চলমান টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, তবে শপথ গ্রহণের পর ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি সমাধান সম্ভব হবে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভাবনাও তুলে ধরে তিনি জানান, জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা ও সাকিব আল হাসানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সহনশীল ও নমনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, “যে মামলাগুলো রয়েছে, সেগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে দ্রুত সমাধান করা হবে যাতে খেলোয়াড়রা বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারে।” প্রতিমন্ত্রী দেশব্যাপী ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিভা বিকাশ ও গ্রাসরুট পর্যায়ে খেলাধুলা প্রসারে তার পরিকল্পনার কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জনতার সঙ্গে সংলাপে তিনি সবাইকে আশ্বাস দেন, “আমি মন্ত্রী হয়েছি, তবে আপনাদের সেই আমিনুলই আছি। আমার দরজা সব সময় খোলা।”