বর্তমান যুগে স্মার্টফোন কেবল যোগাযোগের একটি মাধ্যম নয়—এটি বিনোদন, শিক্ষা, সামাজিক যোগাযোগ, এমনকি আত্মপ্রকাশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু যখন এই প্রযুক্তির ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন তা হয়ে ওঠে আসক্তি, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক জীবনে।
১. ঘুমের ব্যাঘাত: রাতে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ঘুমের সময় হ্রাস করে এবং মানসিক অবসাদ তৈরি করে।
২. মনোযোগ কমে যাওয়া: পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কাজে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
৩. সামাজিক বিচ্ছিন্নতা: ভার্চুয়াল জগতে ডুবে গিয়ে বাস্তব সামাজিক সম্পর্ক দুর্বল হয়ে যায়।
4. নিজেকে নিয়ে নেতিবাচক অনুভূতি: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের 'পারফেক্ট' জীবন দেখে হীনমন্যতা জন্ম নেয়।
৫. উদ্বেগ ও অবসাদ: প্রতি মিনিটে নোটিফিকেশন চেক করা, প্রতিক্রিয়া না পাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ফোন ছাড়া থাকার অভ্যাস গড়ে তুলুন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, বই পড়া বা হাঁটতে যাওয়া হতে পারে বিকল্প।
স্মার্টফোনের সেটিংসে গিয়ে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সীমাবদ্ধ করে দেওয়া যায়।
সব কিছু শেয়ার না করা, অনলাইন নেতিবাচকতা থেকে দূরে থাকা, এবং আত্মমর্যাদা বজায় রাখা জরুরি।
ড্রইং, গান, লেখালেখি, খেলাধুলা বা কোনো নতুন দক্ষতা অর্জন স্মার্টফোনের বিকল্প হতে পারে।
মনের প্রশান্তি ও স্ট্রেস কমাতে ধ্যান বা মাইন্ডফুলনেস কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
অভিভাবকদের উচিত কিশোরদের ফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা, কিন্তু নজরদারির চেয়ে বন্ধুর মতো আচরণ করা আরও কার্যকর।
কিশোর বয়সে মানসিক স্বাস্থ্য সবচেয়ে নাজুক থাকে। এই সময়টাই হলো আত্মপরিচয়ের গঠনকাল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারে, তৈরি করতে পারে বিচ্ছিন্নতা ও আত্মহীনতা। তাই প্রযুক্তিকে বন্ধুর মতো ব্যবহার করলেও, সেটির দাস না হওয়াই শ্রেয়।
স্মার্টফোন আমাদের জীবন সহজ করেছে ঠিকই, কিন্তু অতিরিক্ত ব্যবহার কিশোর-কিশোরীদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, ভারসাম্য এবং বিকল্প অভ্যাস। কিশোরদের উচিত নিজেকে ভালোবাসা শেখা, বাস্তব জগতে সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করা, আর স্মার্টফোনকে যেন "সহায়ক", কিন্তু "শাসক" না বানানো।
হাম হলো এক প্রকার সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত নাক ও গলার মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। রোগটি শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি বা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। হামের কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সংক্রমিত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি দিয়ে হাম বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ায়। ভাইরাসের সংস্পর্শে না আসা বা টিকা না নেওয়া ব্যক্তি সহজেই আক্রান্ত হতে পারে। আক্রান্ত হলে উচ্চ জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া, নাক দিয়ে পানি পড়া, মুখের ভেতরের ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে লাল দাগের র্যাশের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ পরামর্শ দিচ্ছে, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং অন্যদের সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ব্যবহার ও ঘন ঘন হাত ধোয়া, ব্যবহৃত টিস্যু ফেলার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া পানীয়, খাবারের বাসন ভাগ না করা এবং ঘন স্পর্শের পৃষ্ঠ জীবাণুমুক্ত রাখা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হাম প্রতিরোধে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টিকা নিলে সংক্রমণের ঝুঁকি যথেষ্ট কমে যায়।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবার দেশের স্কুল পর্যায়ে রোবটিক্স শিক্ষা চালু করতে উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক স্কুলে এ পাঠ্যক্রম চালু করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় “ভূমিকা ভিত্তিক রোবটিক্স” শীর্ষক একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করা হয়েছে। এতে থাকবে সহজ প্রোগ্রামিং, সেন্সর ব্যবহার, অটোমেশন ধারণা, এবং ছোটখাটো রোবট তৈরি ও পরিচালনার হাতে-কলমে শিক্ষা। ভবিষ্যতের কর্মদক্ষতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক হাফিজুর রহমান বলেন, “বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। আমাদের শিক্ষার্থীরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্যই এই প্রস্তুতি।” তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে যাতে তারা ক্লাসে রোবটিক্স বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরতে পারেন। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে ইতোমধ্যে কিছু বেসরকারি স্কুল পরীক্ষামূলকভাবে রোবটিক্স ক্লাব পরিচালনা করছে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষার্থী সানজিদা রহমান জানায়, “আমরা নিজেরাই ছোট একটি রোবট বানিয়েছি, সেটি চলতে পারে এবং নির্দেশ মানতে পারে—এটা ভীষণ রোমাঞ্চকর।” কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপ এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছে একাধিক দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। ‘টেকল্যাবস বাংলাদেশ’ নামের একটি স্টার্টআপ ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুলে লো-কোস্ট রোবটিক্স কিট সরবরাহ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মত প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রাথমিক স্তরে রোবটিক্স শিক্ষা ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেকাট্রনিক্স এবং অটোমেশন সেক্টরে দক্ষ কর্মশক্তি গড়ার ভিত্তি তৈরি করবে।