দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পিছিয়ে পড়া হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছেন ‘হিজড়া মানব কল্যাণ সংস্থা’র সভাপতি মুন্নি আক্তার। ভিক্ষাবৃত্তি ও মানবেতর জীবন থেকে হিজড়াদের মুক্ত করাই সংগঠনটির মূল লক্ষ্য।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডাকযোগে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টাসহ সরকারের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে স্মারকলিপি পাঠান মুন্নি আক্তার। স্মারকলিপিতে দেওয়ানগঞ্জের হিজড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্থায়ী আবাসন ব্যবস্থা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত করে ভিক্ষাবৃত্তি স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপি পাঠানোর পর সাংবাদিকদের মুন্নি আক্তার বলেন, ২০২৪ সালে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সেলাই মেশিন প্রতীকে নির্বাচন করে ৮৪ হাজার ৩৬১ ভোটের মধ্যে ২৩ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। তবে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে তাকে অপসারণ করা হয়। ফলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদ পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে বলেন, এসব পদ পুনর্বহাল হলে জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
জামালপুরের বকশীগঞ্জে নকল সিগারেট মজুত ও বিক্রির অভিযোগে বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করে ধ্বংস করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। একই ঘটনায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে পৌর এলাকার মোদকপাড়া মহল্লায় অভিযান চালিয়ে এসব নকল সিগারেট উদ্ধার করা হয়। পরে জনসম্মুখে তা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে উত্তম মোদক (৫০) নামে এক ব্যবসায়ীকে নকল সিগারেট মজুত ও বাজারজাতের অভিযোগে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জামালপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ২০০ শলাকা নকল সিগারেট জব্দ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নকল ও ভেজাল পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাড়ি নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও আর্থিক হয়রানির অভিযোগ তুলে পিরোজপুরের নেছারাবাদে পৌর প্রকৌশল অফিসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী—এ ঘটনায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরূপকাঠি পৌরসভা-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী মোছা. মৌসুমী আক্তার দাবি করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে বাড়ি নির্মাণ অনুমোদনের ফাইল আটকে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিকবার অর্থ আদায় করা হয়েছে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ধারাবাহিকভাবে অর্থ দিতে হলেও চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে চরম চাপের মুখে পড়েন। ঘটনার দিন নতুন করে অর্থ দাবি করা হলে তিনি অফিসেই কান্নায় ভেঙে পড়েন বলে জানা যায়। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের মধ্যে মো. মহসিন আংশিক অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করলেও নির্দিষ্ট হিসাব বা প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য এড়িয়ে যান। অন্যদিকে মো. আবুল হোসেন অভিযোগের কিছু অংশ স্বীকার করলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির বিষয়টি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক অমিত দত্ত বলেন, সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের কোনো বিধান নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। শীতলক্ষ্যা নদী-এর কেরোসিন ঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে বুধবার (৬ মে) সকালে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহতের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর হলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কয়েকদিন পানিতে থাকার কারণে মরদেহে পচন ধরেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ নৌপুলিশ জানায়, স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হলেও মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পরিচয় শনাক্তে পিবিআই কাজ করছে।