খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (রেড মার্ক) ভোটকেন্দ্রগুলোতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বিএনপিসহ চার প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ওয়াদুদ ভূইয়া। এ সময় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দিনময় রোজায়া, ইনসানিয়্যাত বিপ্লবের নুর হোসেন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, খাগড়াছড়ি আসনের ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ (রেড মার্ক) হিসেবে চিহ্নিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যে এই পরিস্থিতি উঠে এসেছে, যা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু সশস্ত্র সংগঠন ভোট আদায়ের উদ্দেশ্যে ভোটারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে এবং কোথাও কোথাও হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এতে প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের প্রচারণা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে ভোটের অন্তত তিন দিন আগে দুর্গম এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ সেনা মোতায়েন, নিয়মিত টহল জোরদার এবং নির্বাচনপূর্ব রাত থেকে কেন্দ্রভিত্তিক কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি, ইউপি সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে আস্থাশীল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানানো হয়।
নীলফামারীতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে পেট্রোল ও অকটেনের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, চালক ও কৃষকরা। কোথাও সীমিত সরবরাহ এলেও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন তেল পাম্পে “তেল নেই” নোটিশ ঝুলছে। অন্যদিকে পাম্পে জ্বালানি না মিললেও হাট-বাজারের খুচরা দোকানগুলোতে অতিরিক্ত দামে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি হচ্ছে। প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা এবং অকটেন ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত দামের প্রায় তিনগুণ। মোটরসাইকেল চালকদের অভিযোগ, কিছু পাম্প মালিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তেল সরবরাহ করছেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকরা পাম্পে তেল না পেলেও বেশি দামে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। মোটরসাইকেল চালক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষক জাবেদুল ইসলাম জানান, সেচ মৌসুমে তেলের অভাবে জমিতে পানি দেওয়া যাচ্ছে না, ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাড়িচালক আব্দুস সামাদও একই দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তবে ফিলিং স্টেশন মালিকরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছেন না। মেসার্স মোজাম্মেল ফিলিং স্টেশনের মালিক মোজাম্মেল হক ও মেসার্স হক ফিলিং স্টেশনের মালিক শামসুল হক জানান, সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেউ অবৈধভাবে তেল মজুত বা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়া এবং ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সায়লা সাঈদ তন্বী এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। এদিকে, গত সোমবার সৈয়দপুর উপজেলায় বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাব্বির হোসেনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। নীলফামারী জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম জানান, সরকার নির্ধারিত দামের বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশের সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের শৈশবের ক্রীড়া দক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার প্রাথমিক প্রশিক্ষক মোহাম্মদ হাকিম জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই ফুটবল, সাঁতার ও দৌড়ে অসাধারণ পারদর্শিতা দেখিয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কোচ উল্লেখ করেন, জাইমা রহমান ছিলেন স্বাভাবিকভাবে প্রতিভাবান, শারীরিকভাবে সক্ষম এবং প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার অধিকারী। তার মতে, ক্রীড়াক্ষেত্রে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। চেলসির বয়সভিত্তিক দলে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন সুযোগ পাওয়া তার সক্ষমতার মধ্যেই ছিল। বর্তমানে পেশাগত জীবনের পাশাপাশি সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতেও সক্রিয় থাকলেও, তার ক্রীড়া প্রতিভার এই দিকটি নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে।
সাতক্ষীরার আগরদাঁড়ি গ্রামের সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ বাহারউদ্দিন (৫৮) পবিত্র ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। আহত নেতাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় বাহারউদ্দিন বাড়িতে নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াত সমর্থিত ৩০-৩৫ জন হামলাকারী বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে খুনের উদ্দেশ্যে পিটুনি দেয়। এই সময় তার বাম বাহু, পিঠ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় এবং ডান চোখ নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়। হামলার সময় তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও আহত হন। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ রাহুল দেব রায় জানিয়েছেন, বাহারউদ্দিনের ডান চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি মোঃ মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো তার দপ্তরে নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহারউদ্দিন জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনায় তার বাড়ি ও ব্যবসায় লুটপাট চালানো হয়েছিল এবং আগুন লাগানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ঈদের আগে বাড়িতে ফেরেন তিনি। ঘটনার পর হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে চলে যায়।