ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করার একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাচন অফিস জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শুরুর আগে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে থেকে ভোটগ্রহণের পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় ভোটাররা মনে করছেন, সিসি ক্যামেরা থাকায় জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই বা কেন্দ্র দখল কমে আসবে। এতে ভোটারদের আস্থা বাড়বে এবং কেন্দ্রের কর্মকর্তারাও আরও দায়িত্বশীলভাবে কাজ করবেন।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা বলছেন, সিসি ক্যামেরা সঠিকভাবে ব্যবহার ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হলে এবারের নির্বাচন ও গণভোটে আস্থার সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রতিটি কেন্দ্রের জন্য ৫ থেকে ৭টি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে সহিংসতা ও অনিয়ম প্রতিরোধে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার এবারের নির্বাচনে প্রথম।
ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও আশপাশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং গুজব ও অপপ্রচারের হাত থেকে ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা করা নির্বাচনে সিসি ক্যামেরার মূল উদ্দেশ্য।
ঠাকুরগাঁওয়ে সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ সমস্যা ও সড়কজুড়ে দীর্ঘ লাইনের মধ্যেই এক বিয়ের অনুষ্ঠানে জন্ম নিলো বিরল দৃশ্য। সদরের বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের রাজাপুকুরে বর রাতুল হাসান সাফি হাতে পেয়েছেন ৫ লিটার অকটেন। উপস্থিত অতিথিদের চোখে কৌতূহল এবং হাসির সঞ্চার ঘটেছে এই ব্যতিক্রমী উপহারের কারণে। উপহারদাতা জহিরুল ইসলাম জানান, দৈনন্দিন কাজের জন্য তেলের ঘাটতি এবং ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষার পরিস্থিতিতে বর-কনের যাতায়াত সহজ করার উদ্দেশ্যে এই অকটেন উপহার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন তেলের জন্য চরম ভোগান্তিতে পড়ছে। সেই সময় বর-কনে যাতে স্বস্তি ও স্বাচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে, তাই এ ধরনের ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” অতিথিরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময় এমন উপহার শুধু মজার নয়, বরং ব্যবহারিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। বর রাতুল হাসান সাফি মন্তব্য করেন, “অকটেন হলেও এটি সংকটময় মুহূর্তে আমাদের কাজে আসবে। এটি সত্যিই একটি স্মরণীয় এবং প্রাসঙ্গিক উপহার।” এই ঘটনাটি ঠাকুরগাঁওয়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব এবং জনগণের দৈনন্দিন জীবনে পড়া অসুবিধারও একটি অনন্য প্রতিফলন হয়ে দেখা দিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদীর পুনঃ খনন কাজের উদ্বোধনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খাল খনন কর্মসূচিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ মিললে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের আমানত নিয়ে যারা অসৎ কর্মকাণ্ড করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তি এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, খাল খনন দেশের কৃষি বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রকল্পের অর্থ যেন সরাসরি জনগণের কল্যাণে ব্যবহার হয়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি থাকবে। এছাড়া খাল ও নদী খনন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, মাছ চাষ ও হাঁস পালনের সুযোগ তৈরি এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলার জন্য উৎপাদন বৃদ্ধির গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন এবং বলেন, কৃষি ও কৃষিবান্ধব প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় কৃষকরা পুনঃ খননের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে অঞ্চলের কয়েক হাজার একর জমিতে সেচ সুবিধা সহজতর হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দ্বিতীয় দিনে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটনস্থলে পরিবার-পরিজনসহ হাজার হাজার মানুষ ঘুরতে ছুটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহর ও জেলার ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল। বড়দের পাশাপাশি শিশু ও তরুণরা আনন্দের সঙ্গে ছবি তুলছে, সেলফি নিচ্ছে এবং বন্ধু ও আত্মীয়ের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠেছে। শহরের ৫ কিলোমিটার বাইপাস সড়কেও বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। আইচক্রিম, কোকোকোলা, চা, ফুসকা ও কফি হাউসগুলোতে তরুণদের ক্রমাগত চাহিদা মেটাতে বিক্রেতাদের ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। দর্শনার্থীরা ঘুরেছে সাতক্ষীরা দেবহাটার বনবিবি তলা (বটগাছ), রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র, সীমান্তের ইছামতি নদীর তীরের টাকীর ঘাট, সুন্দরবনের কলাগাছিয়ার আব্দুর রাজ্জাক শিশু পার্ক, শহরের মোজাফ্ফর গার্ডেন, মুন্সিগঞ্জের আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম, উড়াল উড়াল মন ট্যুরিজম, কারামোরা ম্যানগ্রোভ ভিলেজ, লিমপিড গার্ডেন, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, নলতা রওজা শরীফ ও সোনাবাড়িয়া মঠ মন্দিরসহ অন্যান্য আকর্ষণীয় কেন্দ্রগুলোতে। শিশু ও তরুণদের সঙ্গে অভিভাবকরাও সাময়িকভাবে আনন্দে মগ্ন থাকলেও পুরো পরিবার মিলিয়ে সময় কাটাচ্ছে। গ্রাম থেকে শহরে পিকআপ, মাইক্রোবাস বা মোটরসাইকেলে আসে হাজার হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজ আক্তার বলেন, ঈদের দিনে মানুষ তাদের নিজ এলাকায় ফিরে এসেছে এবং অনেকেই বিনোদনকেন্দ্রে ঘুরতে বের হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। এই উৎসবমুখর পরিবেশে জেলা মাতোয়ারা আনন্দে মুখরিত, যেখানে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই ঈদের ছুটিকে আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করছে।