বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হিন্দু সম্প্রদায় কোনো সংখ্যালঘু নয়; তারা এই দেশের পূর্ণ নাগরিক। নিজের অধিকার আদায়ে কাউকে নির্ভর না করে নিজেদের পায়ের ওপর দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গলিমবাবুর হাটে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “আমার যে অধিকার আছে, ঠিক একই অধিকার আপনাদেরও আছে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই—আপনারা নিজেদের অধিকারের জন্য নিজের পায়ের ওপর দাঁড়ান। কেউ যেন আপনাদের ওপর অন্যায় বা অত্যাচার করার সাহস না পায়।”
নির্বাচনের পাশাপাশি চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার ও পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “কে সংস্কার চায় আর কে চায় না—তা এই গণভোটেই স্পষ্ট হবে। যারা সংস্কার চায় তারা ‘হ্যাঁ’ বলবে, আর যারা চায় না তারা ‘না’ বলবে।”
বিএনপি সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কার চাই, পরিবর্তন চাই। দরজাটা ঠিক হোক, জানালাটা ঠিক হোক—এটা কি আমরা চাই না? আমরা চাই না দেশ আবার এক ব্যক্তির শাসনে নষ্ট হোক, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক। আমরা চাই জবাবদিহিতা থাকুক। এটাকেই আমরা বলছি ‘হ্যাঁ’ ভোট।”
তিনি আরও বলেন, ভোটাররা দুটি ব্যালট পাবেন—একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য, আরেকটি গণভোটের জন্য। “গণভোটে আপনারা যদি সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন, তাহলে সংস্কার হবে। আর যদি না দেন, তাহলে আবার আমরা পেছনে পড়ে যাবো। তাই সবাই মিলে সংস্কার ও পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সিল মারতে হবে,” বলেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ আগের মতো চলবে নাকি নতুনভাবে, সুন্দর করে চলবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান একজন তরুণ, উদ্যমী মানুষ। আমি চাই দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন একজন তরুণ, যিনি নতুন চিন্তা ও নতুন ভাবনা নিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন। এজন্য ধানের শীষে ভোট দিতে হবে।”
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, “একটি কথা সবসময় মনে রাখবেন—আমরা বিএনপি আপনাদের পাশে আছি। অতীতেও ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো। এখানে থাকা আমাদের নেতাকর্মীরাও আপনাদের পাশে থাকবে।”
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক চলার মধ্যে মুখ খুলেছেন সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট ও জনপ্রিয় উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, তার স্ত্রী ফাহমিদা হকের সংসদ সদস্য মনোনয়ন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পৃক্ততার ধারাবাহিক ফল। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে তিনি জানান, ফাহমিদা হক লেখালেখি, সামাজিক উদ্যোগ ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত থেকে জনপরিসরে ভূমিকা রেখে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায়ই তার রাজনৈতিক অগ্রযাত্রা। জিল্লুর রহমান আরও বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় একই পরিবারে ভিন্ন ভিন্ন জনভূমিকা থাকতে পারে, তবে পেশাগত স্বাধীনতা ও নৈতিকতা অক্ষুণ্ন রাখা অপরিহার্য। সাংবাদিকতা ও নীতি গবেষণার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন। তিনি ফাহমিদা হকের নতুন দায়িত্বের সাফল্য কামনা করে আশা প্রকাশ করেন, তিনি সংসদীয় কার্যক্রমে ইতিবাচক অবদান রাখবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলামকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ ঘোষণায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ-এর স্বাক্ষরে ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। দলীয় সূত্র জানায়, বিলকিস ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক একেএম তাজুল ইসলাম ডালিম বলেন, বিলকিস ইসলাম একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মূল্যায়নের এ সিদ্ধান্তে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিলকিস ইসলাম নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর গ্রামের বাসিন্দা।
শেরপুর-৩ আসনের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছেন। ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রুবেল তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আলহাজ মাসুদুর রহমান মাসুদকে প্রায় এক লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে জানান, ১২৮টি কেন্দ্রে গণনার ফলাফলে রুবেল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়েছেন, আর মাসুদের ভোট ৪৭ হাজার ৫১। ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। মোট ভোটারের মধ্যে ৫০.৫২ শতাংশ অংশগ্রহণ করেছেন। কিছু কেন্দ্রে অভিযোগে জড়িতদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে।