ময়মনসিংহ বন বিভাগের ভালুকা রেঞ্জের কাদিগড় বিট প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য গন্তব্য। প্রাকৃতিক বন ও মানুষের সৃজিত বনের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই এলাকা যেন সবুজের জীবন্ত পাঠশালা। এখানকার মনমোহিনী গজারী বাগান, সেগুন বাগান এবং ঘন সবুজের আবরণে সূর্যের আলো, বাতাসে পাতার মর্মর ও পাখির কিচিরমিচির মিলেমিশে সৃষ্টি করেছে এক মোহময় পরিবেশ।

কাদিগড় জাতীয় উদ্যানে হনুমান, বানর, শিয়াল, বনবিড়াল, বাগডাশ ও বেজীসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী দেখা যায়। এছাড়া সাপ, ব্যাঙ, তক্ষক ও গুইসাপের মতো প্রাণীকূলও এই বনভূমিতে বিচরণ করে। রঙিন প্রজাপতির উড়াউড়ি এবং হরেক প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির বনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।

অবস্থানগতভাবে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ময়মনসিংহ শহর থেকে ৫৬ কিমি দক্ষিণে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান থেকে ৪৫ কিমি উত্তরে এবং ভালুকা সদর থেকে ২০ কিমি দূরে অবস্থিত। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহগামী বাসে সিডস্টোর বাজারে নেমে সেখান থেকে সিএনজি যোগে সহজে পৌঁছানো যায়। তবে বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচলে কিছুটা ভোগান্তি থাকে।

পর্যটকদের সুবিধার্থে এখানে ওয়াচ টাওয়ার, দুটি ইকো কটেজ, দুটি গোলঘর, পিকনিক স্পট এবং পুকুরপাড় নির্মাণ করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে বনভোজনপ্রেমীরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এই এলাকায় আসেন। স্থানীয়ভাবে কাদিগড়ের নামের উৎপত্তি ‘কাদির মিয়ার জঙ্গল’ থেকে, যিনি একসময় এই বন ও কাঠের টেন্ডারে একক আধিপত্য বজায় রাখতেন।

পরিকল্পিত সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা জোরদার হলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান ময়মনসিংহ অঞ্চলের অন্যতম ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে পরিচিতি পাবে। প্রকৃতির কোলে শান্তি ও সবুজের সমারোহ উপভোগ করতে চাইলে কাদিগড় জাতীয় উদ্যান হতে পারে নিখুঁত ঠিকানা।
পদোন্নতি নীতিমালা ও শিক্ষক সংকট নিরসনের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’-এ অচল হয়ে পড়েছে ক্যাম্পাস, বন্ধ রয়েছে সব একাডেমিক কার্যক্রম। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়-এ ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। শিক্ষক অনুপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে নেমে আসে নীরবতা, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, ২০১৫ সালের বিধিমালা অনুযায়ী পদোন্নতি কার্যকর করতে হবে এবং দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট দ্রুত সমাধান করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে লাগাতার শাটডাউনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। এর আগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে একজন অধ্যাপক আমরণ অনশনে গেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে অন্যান্য শিক্ষকরা একদিনের কর্মবিরতি পালন করে বুধবার থেকে পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। শিক্ষক প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষকের ঘাটতি থাকায় একাধিক বিভাগে সীমিত জনবল দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে, ফলে একেকজন শিক্ষককে অতিরিক্ত কোর্সের চাপ নিতে হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নির্দেশনার আলোকে নতুন পদোন্নতি কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবি জানিয়েছেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর প্রথম দিন মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মিত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ছয়টি কেন্দ্রে বাংলা বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কোনো কেন্দ্রেই অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কেন্দ্রে মোট ২৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়— • সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৯৪৪ জনের মধ্যে ৯৪১ জন উপস্থিত। • সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৫৪৬ জনের মধ্যে ৫৪৫ জন উপস্থিত। • সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কেন্দ্রে ৭৯৩ জনের মধ্যে ৭৮৩ জন উপস্থিত। • লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪৬৭ জনের মধ্যে ২ জন অনুপস্থিত। • সানফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজ (ভেন্যু কেন্দ্র) দাখিল পরীক্ষায় ৩৬৩ জনের মধ্যে ৩৫১ জন উপস্থিত। • সৈয়দপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোকেশনাল পরীক্ষায় সকল পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে এবং কঠোর নজরদারি বজায় রয়েছে।
কাপ্তাই হ্রদের মাছের প্রজনন ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ২৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে সকল ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন এবং হ্রদের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। নিষেধাজ্ঞাকালে হ্রদে মাছ ধরা, পরিবহন, বাজারজাতকরণ, শুকানো ও মজুদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। আদেশ অমান্য করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। মহালছড়ি উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। এ সময় নিবন্ধিত জেলেদের ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়মিতভাবে দেওয়া হলেও এ বছর পানির স্তর ও প্রাকৃতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে।