পঞ্চগড়ের আটোয়ারীতে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষ মিলিয়ে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের রমজানপাড়া এলাকায় সংঘর্ষটি ঘটে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্বাচনী ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়, যা পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। বিএনপির পক্ষ দাবি করেছে, তাদের ইউনিয়ন সভাপতি আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তাদের শোডাউন শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে একজন নারীসহ আটজন আহত হন।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কুমিল্লা সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) টানা আট ঘণ্টা বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানটি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়। র্যাব কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানিয়েছেন, অভিযানকালে দুটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, একটি রিভলভার, দুটি একনালা বন্দুক, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং ৩৩টি দেশীয় অস্ত্র। মেজর সাদমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্রের একটি চালান কুমিল্লায় প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ নজরদারির পর নিশ্চিত হয় যে অস্ত্রগুলো একটি পুকুরে লুকানো ছিল। পরে পাশের আরেকটি পুকুর থেকে আরও কিছু বস্তা উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আগামী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। র্যাব–১১ সিপিসি–২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “উদ্ধারকৃত অস্ত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনী অফিসে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নতুন বাবুপাড়া এলাকায় অফিসে হামলা চালানো হয়। এতে ৯ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বুলেট বাবু ও কর্মী শাকিল আহমেদ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে রংপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম অভিযোগ করেছেন, সাবেক যুবলীগ নেতা ও বর্তমানে জামায়াত নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে উগ্র সন্ত্রাসীরা অফিসে হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর ও মালামাল তছনছ করেছে। তিনি তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহদী ইমাম জানান, অফিস থেকে টাকা বিতরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, এবং যারা হামলায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শাখার নায়েবে আমীর শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলায় জামায়াত জড়িত নয়।
খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এলাকার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে, তাদের প্রতিহত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই সময় তিনি পানছড়ি উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের পূজগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এলাকার উদ্যোগী মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান এবং হতদরিদ্রদের মাঝে হুইলচেয়ার ও শীতকম্বল বিতরণের আয়োজনকেও উল্লেখযোগ্য করেছেন। অনুষ্ঠানে সেনা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।