উত্তরের ব্যাবসা-বাণিজ্য কেন্দ্র নীলফামারীর সৈয়দপুরে ইফতার বাজার জমে উঠেছে। বিকেল হলেই হোটেলগুলোর সামনে বেচাকেনা জমে উঠছে। সবশ্রেণির মানুষ এসব সুস্বাদু ইফতার সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন।
ইফতার সামগ্রীতে রয়েছে জালি কাবাব, সাসলি, শাহি জিলাপি, পিঁয়াজু, নিমকপারা, আলু চাপ, বেগুনি, ডিম চপ, চিড়া ভাজা, নানা ধরনের মিষ্টি ইত্যাদি সাজিয়ে ক্রেতাদের আকর্ষণ করছেন। তবে কেউ কেউ স্বল্প মূল্যে ইফতার সামগ্রী বিক্রি করে সকলের নজরে এসেছেন। বিকেলের পর এসব দোকানে সাধারণ ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড় হচ্ছে।
শহরের সাহেবপাড়ার হানিফ মোড়ে জামিল হোটেলে রোজার জন্য পিঁয়াজু, বেগুনি, আলু চপ প্রতিটি ইফতার সামগ্রী মাত্র ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বুন্দিয়া বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। আর ৩০ টাকায় মিলছে মুরগি বিরিয়ানি। দাম কমিয়ে দেওয়ার প্রতিযোহিতা শুরু হয়েছে যেন এই শহরে। সৈয়দপুর শহরের কলিম মোড়ের বাবু হোটেল ও সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের সামনে একটি হোটেলে ডিমচপ ৫ টাকা, আলু চপ, পিঁয়াজু মাত্র ৩ টাকাসহ সস্তায় ইফতার সামগ্রী মিলছে। এ হোটেলে ছেলে-জামাই ও শ^শুর নিজেরাই কারিগর ও বিক্রেতা।
দোকানিরা জানান, সারাবছই আমরা লাভ করি। এ রমজানের মাসে একটু লাভ কম করছি। তাঁরা বলেন, এসব তৈরির কারিগর আমরা নিজেরাই তাই কমে বিক্রি করতে পারছি। আল্লাহ অবশ্যই আমাদের এ কাজে বরকত দিবেন।
দিনমজুর সজিদ উদ্দিন, রিকশা চালক কালু জানান, রোজা রেখে সারাদিন কাজ করে এসব সস্তা হোটেলে ইফতার করে বাড়ি ফিরতে পারছি। এটি আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদ। এটিই হচ্ছে আমাদের মানবিক সৈয়দপুর। যেখানে রমজানে দাম বাড়ে আর সৈয়দপুরে ইফতাদের দাম কমে।
শহরের জিআরপি হোটেল, নাটের দই ঘর, সিরাজ হোটেল, তাজির হোটেল, আল-সামস হোটেল, বনফুল, দিলকুশা মিষ্টান্ন ভাণ্ডার প্রভৃতি দোকানে মজাদার ও সুস্বাদু ইফতার সামগ্রী বিক্রি জমে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সফুরা বেগম রুমীকে গ্রেফতার করেছে লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গ্রেফতারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রাথমিক আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রযোজ্য ধারায় পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, সফুরা বেগম রুমী লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন। বিস্তারিত আসছে....
বরিশালের ঐতিহ্যবাহী বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু) অভিযোগ করেছেন, তাদের পৈতৃক হাবেলী সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) বরিশাল প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, বর্মন পরিবারের পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিস্তীর্ণ জমির মালিক ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ (শান্তি), অনিল প্রসাদ (বরুন) ও সুনীল প্রসাদ (খোকন)—সম্পত্তি পান। ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের অধীনে কিছু জমি মৌলভী আব্দুস সোবাহানের কাছে হস্তান্তরিত হলেও, দলিলে মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থল উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে ক্রমিক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই জমি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। তিনি সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে নিয়েছেন। সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশত বছরের পুরনো জাগ্রত মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধি আমাদের সংরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও এখন আমরা সেখানে যেতে পারি না, পূজা-অর্চনাও করতে পারছি না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে চূড়ান্ত হলেও বাস্তবে ভোগদখল করতে পারছেন না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সাংবাদিক সমাজ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন জানান, দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে। সুব্রত প্রসাদ বর্মন অভিযোগ করেন, দখলকারীর সঙ্গে বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। উল্লেখ্য, হাবেলীর ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বর্মন বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ডিজেল, মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে হালিম সিকদার নামে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এনএসআই’র বরিশাল জেলা শাখার সদস্যরা সরিকল ইউনিয়নের চর সরিকল গ্রামে তার দোকান ও বাড়িতে অভিযান চালান। এসময় সেখান থেকে প্রায় ৩০০ লিটার ডিজেল, ২০০ লিটার মবিল ও গ্যাস সিলিন্ডার জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি লাইসেন্স না নেওয়া পর্যন্ত ব্যবসা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়। জব্দকৃত জ্বালানি তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।