ময়মনসিংহে শহর কিংবা গ্রাম— সর্বত্রই বিদ্যুৎ আসা–যাওয়া এখন নৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গরমের সময় ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। বিদ্যুৎ বিভাগের ভাষ্য, উৎপাদন কম ও চাহিদা বৃদ্ধির কারণে লোডশেডিং বেড়েছে। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে Power Grid Bangladesh PLC বাস্তবায়ন করছে সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প—“বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন”।
এই প্রকল্পের আওতায় ময়মনসিংহ- নেত্রকোণা ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট (LILO) সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়ার বিরুদ্ধে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ২৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন "বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন" প্রকল্পের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) প্রবীর চন্দ্র দত্ত।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪.৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সঞ্চালন লাইনের কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। এটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে অনুমোদিত এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ ও মানসম্মত, নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিতের লক্ষ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত ৩৬০ মেগাওয়াট আরপিসিএল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন এবং কেন্দ্রটিতে ব্যাক-ফিড সরবরাহ নিশ্চিত করতে লাইনের নির্মাণ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্নের নির্দেশনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দাবি, লাইনের সব টাওয়ারের পূর্তকাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২১টি টাওয়ারের মধ্যে ১৪টির ইরেকশন শেষ হয়েছে। অবশিষ্ট টাওয়ারগুলোর ইরেকশন ও স্ট্রিংগিং জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষিত রয়েছে। বিদ্যুৎ আইন ২০১৮ ও বিদ্যুৎ বিধিমালা ২০২২ (সংশোধিত) অনুযায়ী টাওয়ার নির্মাণে ব্যবহৃত জমির মূল্য জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে।

ক্ষতিপূরণ গ্রহণের পরও বাধার অভিযোগ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়া জেলা প্রশাসনের কার্যালয় থেকে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৬৯ টাকা ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু এরপরও তিনি টাওয়ার নির্মাণ ও লাইন স্ট্রিংগিং কাজে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প দপ্তরের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ ও আলোচনার চেষ্টা করা হলেও ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসেন। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি। টিটি-২ টাওয়ারের জমির মালিক চান মিয়া পিজিসিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাওয়ার গ্রিডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী
মোঃ আমিনুল হক, হ্যানবেক কোঃ লিঃ এর জেনারেল ম্যানেজার সুবির সিনহা, প্রজেক্ট কোর্ডিনেটর মুন্সি নুরুন্নবী, প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহিন হাদি, এবং সাইট ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম সহ সাংবাদিকবৃন্দ।
পাওয়ার গ্রিডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের বাঁধা জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে এবং এটি বিদ্যুৎ আইন লঙ্ঘনের শামিল।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও সমাজকর্মী ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে এবং ভোগান্তি কমাতে এ প্রকল্প দ্রুত শেষ করা অত্যন্ত জরুরি। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে কেউ যাতে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কাজ সম্পন্ন হলে লোডশেডিং কমবে এবং জনদুর্ভোগও হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আশরাফুল করিম জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আজিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ইউএনওকে দায়িত্ব দিয়েছি বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য।
দেওয়ানগঞ্জের যমুনা নদীতে আমিনুল ইসলাম খোকা নামের এক বৃদ্ধের লাশ ভেসে উঠে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায়। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। নিহত উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মোল্লারচর গ্রামের বাসিন্দা। থানা সূত্র জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বৃদ্ধ আমিনুল ইসলাম খোকা (৭৩) অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে মোল্লারচর এলাকা থেকে যাত্রীবাহী নৌকাযোগে রওনা দেয়। মাঝ নদীতে পৌঁছালে নৌকা থেকে নদীতে পড়ে যায়। স্রোত ডুবে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান। বহু খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মৃত লাশ দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি ইউনিয়নের যমুনা নদীর ফুটানিবাজার ঘাটে ভেসে উঠে। খবর পেয়ে স্বজনরা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে। দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর আহম্মেদ জানান, দুর্ঘটনার ঘটনাটি অবগত হয়েছি। বাহাদুরাবাদ নৌথানা পুলিশ এই বিষয়টি তদারকি করছে। স্বজনদের অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার একটি পূকুর থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক যুবক(৪০) এর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ। কালিয়াকৈর হাসপাতাল রোড সংলগ্ন পুকুর থেকে আজ রোববার(২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা একটি মরদেহ পুকুরে ভাসতে দেখে কালিয়াকৈর থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ অজ্ঞাত ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। নিহতের পরিধানে কলার ওয়ালা হাফ হাতা নেভি ব্লু রংয়ের পলো শার্ট ছিল। নিহতের মুখে হাল্কা দাড়ি ও গোফ ছিল। কালিয়াকৈর থানার পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন জানান নিহতের পরিচয় জানা যায়নি। পরিচয় জানতেও ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ফকিরহাট উপজেলার মানসা বাজারে তানভীর টেলিকম এন্ড ইলেকট্রিক্স দোকানে ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে নগদ টাকাসহ দোকানের সকল মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানান, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে বন্ধ দোকানের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সদস্য ঘটনাস্থলে এসে প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ সকল মালামাল ও জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দোকান মালিক তানভীর আহম্মেদ জানান, এদিন রাত ১০টার দিকে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। রাত ১১টার দিকে খবর পেয়ে দ্রুত দোকানে চলে আসেন। কীভাবে আগুন লেগেছে তা সঠিকভাবে তিনি বলতে পারেনি। আগুনে তার প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়েছে। দোকানের সবকিছু পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা। তবে বৈদু্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে মানসা পশ্চিমপাড়া এলাকায় নিমাই নামে এক পানচাষীর লিজ নেয়া জমিতে একটি পানের বরজে আগুন লাগে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওই জমির মালিক মিজান হালদারসহ স্থানীয়রা।