সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ৬০ বছর বয়সী এক হাকিম ও তরুণীর বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নবদম্পতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, বিয়েটি প্রেমের সম্পর্ক এবং পরিবারের সম্মতি দুয়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর বলেন, “মন যদি তরুণ থাকে, বয়স কোনো বাধা নয়। এটি শরিয়তসম্মত বিয়ে, কোনো অবৈধ সম্পর্ক নয়।” স্ত্রীও বলেন, আন্তরিক ভালোবাসা থাকলে বয়স পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; কেউ বয়সের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ বৈধতা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। বিষয়টি এখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তীব্র বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবার চালু হচ্ছে আগরতলা-ঢাকা- কলকাতা সরাসরি আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকার কমলাপুর বাস ডিপো থেকে পরীক্ষামূলকভাবে রয়েল মৈত্রীর একটি বাস আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সীমান্তপথে ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা প্রবেশ করে। আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা বাস সার্ভিসের জিএম ওয়ারিছ আলম ডিএস জানান, আপাতত সপ্তাহে দুই দিন পরীক্ষামূলকভাবে চলবে। তার পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে গেলে সপ্তাহে তিন দিন করে নিয়মিত এই বাস পরিষেবা শুরু হবে। ঢাকা হয়ে আগরতলা - কলকাতা এই বাস পরিষেবা আগেও চালু ছিল। তবে গত দেড় বছর ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর ভিসা জটিলতায় সাময়িকভাবে তা বন্ধ ছিলো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও ভিসা জটিলতার কারণে বন্ধ থাকা বাস সার্ভিস দেড় বছরের বেশি সময় পর মৈত্রী ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের সূত্র ধরেই এ পথে পরীক্ষামূলকভাবে ফের যাত্রা শুরু করে। ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জানান, এই পরিষেবা পুনরায় চালু হওয়ার ফলে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যাবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তিনি। এছাড়া আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত বাস পরিষেবা ফের চালু হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহাও। প্রসঙ্গত, ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা থেকে ট্রেনে গুয়াহাটি হয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে প্রায় দেড় হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। তবে বাসে ঢাকা হয়ে সেই যাত্রাপথ অনেকটাই কমে যায়। আগরতলা থেকে ঢাকা হয়ে বাসে কলকাতায় মাত্র ৫০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের একতরফাভাবে বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত রায়ে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে রয়েছে, প্রেসিডেন্টের নয়। আদালত বলেছে, ট্রাম্পের পদক্ষেপ ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছে এবং পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। একই দিনে ট্রাম্প নতুনভাবে ‘সেকশন ১২২’-এর আওতায় ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্বাহী আদেশে সই করেন, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হবে। এই আদেশে কিছু কৃষি ও শিল্পপণ্য, ওষুধ ও ইলেকট্রনিকসের উপর ছাড় রাখা হয়েছে। আদালতের রায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির বিরুদ্ধে মামলা করা অঙ্গরাজ্য ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসসহ ছয়জন বিচারক ট্রাম্পের শুল্কের বিপক্ষে ভোট দেন। রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক প্রায় ০.৭ শতাংশ বেড়ে দিন শেষ করেছে। তবে শুল্ক ফেরত এবং অর্থের বাস্তবায়ন এখনও অনিশ্চিত। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আদালতের রায় এবং ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ভারসাম্য পরীক্ষায় পড়েছে।
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ভারতীয় বিদ্যাপীঠ এডুকেশনাল কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত “দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোতে শান্তি রক্ষা ও সহযোগিতায় সাংবাদিকতার ভূমিকা” শীর্ষক সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিক, গবেষক, মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবী। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা স্থবির হলেও সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা জনমানুষের মধ্যে আস্থার সেতু গড়ে তুলতে এবং শান্তি নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ। আলোচকরা উল্লেখ করেন, দায়িত্বহীন সাংবাদিকতা উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, অথচ সংযত ও যাচাইপ্রাপ্ত তথ্যভিত্তিক রিপোর্টিং আঞ্চলিক সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদারে সহায়ক। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে ভুয়া খবর ও অপপ্রচার আঞ্চলিক শান্তির জন্য বড় হুমকি, যা প্রতিহত করতে সাংবাদিকদের নৈতিকতা ও পেশাগত মান বজায় রাখা প্রয়োজন। সেমিনার থেকে পিস জার্নালিজম চর্চা জোরদার করা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।