সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ৬০ বছর বয়সী এক হাকিম ও তরুণীর বিয়ের ভিডিও ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
নবদম্পতির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তারা জানিয়েছেন, বিয়েটি প্রেমের সম্পর্ক এবং পরিবারের সম্মতি দুয়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর বলেন, “মন যদি তরুণ থাকে, বয়স কোনো বাধা নয়। এটি শরিয়তসম্মত বিয়ে, কোনো অবৈধ সম্পর্ক নয়।” স্ত্রীও বলেন, আন্তরিক ভালোবাসা থাকলে বয়স পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ নয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে; কেউ বয়সের পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, কেউ বৈধতা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে সমর্থন জানাচ্ছেন। বিষয়টি এখনো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তীব্র বিতর্কের মধ্যে রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শনিবার (১১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনাটি ইতোমধ্যেই ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি ভবন ও কূটনৈতিক দপ্তরসমূহের সমন্বয়ে গঠিত ‘রেড জোন’ এলাকাকে সম্পূর্ণভাবে জনসাধারণ ও যান চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানি প্রতিনিধিদলের আগমন উপলক্ষে পাকিস্তান আকাশসীমা ও রাজধানীজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা প্রোটোকল সক্রিয় করা হয়। দেশটির শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় ১০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং রাজধানীতে সাময়িক বিধিনিষেধও জারি রয়েছে। কনভয় চলাচলে এলিট নিরাপত্তা ইউনিটের পাশাপাশি বিশেষ বাহিনীর সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু আঞ্চলিক কূটনীতির জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংবেদনশীল শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পৌঁছেছে। শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য বৈঠককে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং জরুরি সেবা ছাড়া জনজীবন আংশিকভাবে সীমিত করা হয়েছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে এসেছে। দলে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কূটনৈতিক, নিরাপত্তা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন, যা আলোচনার জটিলতা ও বহুমাত্রিকতা নির্দেশ করে। অপরদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলেও রয়েছেন শীর্ষ পর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও বিশেষ দূতরা, যা এ আলোচনার কৌশলগত গুরুত্বকে প্রতিফলিত করে। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরসন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর ৪০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রদান করেছেন দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সমন্বিত সামরিক হামলার মাধ্যমে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের শামিল। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানে সংঘটিত হামলায় খামেনির মৃত্যু ঘটে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনাকে ‘ইসলামি উম্মাহর বিরুদ্ধে আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি জনগণকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রীয় ঐক্য ও প্রতিরোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, শোকাবহ এই সময়কে কেন্দ্র করে দেওয়া বক্তব্যটি মূলত অভ্যন্তরীণ সংহতি সুদৃঢ় করা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশলগত প্রয়াস।