হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি এমকিউ–৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংঘটিত এ ঘটনায় ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি কোনো পক্ষের হস্তক্ষেপে ভূপাতিত হয়েছে—তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, পারস্য উপসাগর এলাকায় নির্ধারিত নজরদারি মিশন শেষে ঘাঁটিতে ফেরার পথে ড্রোনটি জরুরি সংকেত (‘কোড ৭৭০০’) প্রেরণ করে এবং দ্রুত উচ্চতা হারাতে থাকে। পরবর্তীতে এর সঙ্গে সকল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য যে, ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘটিত হয়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে।
প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই কৌশলগত নজরদারি প্ল্যাটফর্মটির নিখোঁজ হওয়া সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে সাম্প্রতিক বিমান হামলায় এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির বাংলাদেশ দূতাবাস। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) হামরা এলাকায় সংঘটিত এ হামলায় ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার বাসিন্দা দিপালী শেখ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দূতাবাস সূত্রে জানানো হয়, নিয়োগকর্তার পরিবারের সঙ্গে অবস্থানকালে হামলার শিকার হন তিনি। একই ঘটনায় তার নিয়োগকর্তা ও পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও স্থানীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ বৈরুতের একটি হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ও কনস্যুলার কার্যক্রম সম্পন্নে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এ হামলায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই কুয়েতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতের এ ঘটনায় কুয়েত সরকার সরাসরি ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমন্বিতভাবে পরিচালিত এ হামলায় দেশের ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উদ্বেগজনক করে তুলেছে। অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুদ্ধবিরতির সময়ে তাদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়নি। বরং তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, ঘটনাটি তৃতীয় কোনো পক্ষের পরিকল্পিত উসকানি হতে পারে। আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, যদি হামলার ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা ‘বহিরাগত শক্তির’ কৌশলগত প্রচেষ্টা, যার উদ্দেশ্য চলমান যুদ্ধবিরতি নস্যাৎ করা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা। ঘটনাটি ঘিরে কুয়েত আন্তর্জাতিক মহলে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ-প্রতিআরোপ চলতে থাকলে বর্তমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।
ইরানের ওপর পরিচালিত সামরিক হামলাকে “একতরফা ও উসকানিবিহীন আগ্রাসন” হিসেবে অভিহিত করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার (৮ এপ্রিল) স্পুতনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেন, এই অভিযানে ওয়াশিংটন ও তেলআবিব “শোচনীয় পরাজয়” বরণ করেছে। তিনি বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই এই সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে এবং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে। জাখারোভার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই; বরং কূটনৈতিক উদ্যোগই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। রাশিয়ার অভিযোগ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। যদিও এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্নমত লক্ষ্য করা গেছে, মস্কো পুনরায় সংলাপভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।