ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বাংলাদেশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থান। তার আইনি পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ করে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন— শেখ হাসিনা ভারতে কোন আইনি স্ট্যাটাসে অবস্থান করছেন, তিনি ‘অনুপ্রবেশকারী’ নাকি ‘শরণার্থী’? এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কঠোর অবস্থানের কথা বললেও কেন্দ্র সরকার এ ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করছে, যা রাজনৈতিক দ্বৈতনীতির ইঙ্গিত বহন করে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, নাগরিক তালিকা ও ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনে হস্তক্ষেপের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা সাংবিধানিক ভারসাম্যের প্রশ্ন তুলছে। বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রত্যর্পণ ইস্যু ঘিরে বিষয়টি এখন কূটনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের শীর্ষ নেতা মোজতবা খামেনিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদন। ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকলেও মোজতবা খামেনি ভিডিও ও অডিও যোগাযোগের মাধ্যমে সীমিত আকারে নীতি নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে যুক্ত থাকছেন। এদিকে, ইসলামাবাদে ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপটে তার শারীরিক সক্ষমতা ও নেতৃত্বগত অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ইরান সরকার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও পরিস্থিতি ঘিরে আঞ্চলিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মধ্যে বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতির মধ্যে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে—যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনে বিদেশি অংশীদারদের সহায়তা নিতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে অভিযোগ উঠেছে, সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহ গোপন রাখতে তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে চালান প্রেরণের কৌশল গ্রহণ করা হতে পারে। তবে বেইজিং আনুষ্ঠানিকভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। চীনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন, সংঘাতে কোনো পক্ষকেই তারা অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য ‘ভিত্তিহীন’। এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল বর্তমানে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং শর্ত আরোপের কারণে এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সাফল্য এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে যুদ্ধ সমর্থনে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে বলে একাধিক জরিপে উঠে এসেছে। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউট (আইডিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর সময় জনমতের বড় অংশ সমর্থন দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমর্থন দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। জরিপে দেখা যায়, শুরুতে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠ ইসরায়েলি যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও বর্তমানে সেই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একইসঙ্গে আরব জনগোষ্ঠীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও সামগ্রিকভাবে সমর্থন কাঠামোয় পরিবর্তন স্পষ্ট। নিরাপত্তা বিশ্লেষণ ও জনমত জরিপে আরও উঠে এসেছে, যুদ্ধের লক্ষ্য ও ফলাফল নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংশয় তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা এবং দৈনন্দিন জীবনের বিঘ্ন জনমনে ক্লান্তি সৃষ্টি করেছে। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ (আইএনএসএস)-এর পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব লক্ষ্য নিয়ে জনসমর্থন ছিল, সময়ের সঙ্গে সেগুলোর প্রতি আস্থা কমেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন বা সম্পূর্ণ সামরিক বিজয়ের প্রত্যাশা আগের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘায়িত সংঘাত সাধারণত জনমতকে যুদ্ধবিরতির দিকে ঠেলে দেয়—ইসরায়েলের ক্ষেত্রেও এখন সেই প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে, যেখানে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে মতামত ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।