বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য কাজী রেজাউল ইসলাম (৪০) গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এএসআই অসিম রায় ও এএসআই মিন্টু বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল ছোট বাহিরদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন থানায় দায়ের করা চারটি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমান গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ঈমাম জানান, আহত শিক্ষককে জরুরি বিভাগে আনা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওয়ার্ডে নেওয়ার সময় আসমা সাদিয়া রুনার মৃত্যু হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, মাথায় একাধিক আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন। ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপর।
সুন্দরবনে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে কয়রা উপজেলার নারায়ণপুর এলাকা থেকে কুখ্যাত বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য আফজাল সরদার (৩২)কে আটক করেছে। আফজাল খুলনার কয়রা উপজেলার বাসিন্দা। কোস্টগার্ডের নেভিগেশন কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার জামিলুর রহমান জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বাহিনীর কিছু সদস্য পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিল। সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখার জন্য কোস্টগার্ড, নলিয়ান আউটপোস্ট, স্টেশন কয়রা এবং পুলিশের যৌথ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আফজালকে আটক করে। আটককালে তার কাছ থেকে ১টি শটগান, ১টি একনলা বন্দুক, ২১ রাউন্ড কার্তুজ এবং ১টি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। আফজাল দীর্ঘদিন ধরে ডাকাতি ও অস্ত্র-গোলাবারুদের সরবরাহে জড়িত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে কয়রা ও ডুমুরিয়া থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবং জব্দকৃত অস্ত্র-গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এক নৃশংস দ্বৈত হত্যাকাণ্ডে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া এলাকা থেকে পৃথক স্থান থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন—সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)। ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা টিনশেড বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নাতনিকে অপহরণের চেষ্টায় বাধা দেওয়ায় দাদিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ নিকটবর্তী গম ও সরিষা ক্ষেতে ফেলে রাখা হয়। সকালে বাড়ির আঙিনা ও ক্ষেত থেকে পৃথকভাবে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।