বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য কাজী রেজাউল ইসলাম (৪০) গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি উপজেলার ছোট বাহিরদিয়া এলাকার মৃত শহিদুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) রাত ১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানার এএসআই অসিম রায় ও এএসআই মিন্টু বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল ছোট বাহিরদিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। রেজাউল ইসলাম বিভিন্ন থানায় দায়ের করা চারটি ডাকাতি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে বুধবার (০৪ মার্চ) সকালে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তিন এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৩। রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন—রায়হান রিতু (৩০), জসিম (৩২) ও জিতু (৩৪)। তারা সবাই ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। র্যাব জানায়, নিহত শিমু আক্তার (৩১)-এর সঙ্গে রায়হান রিতুর প্রায় ১৩ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যৌতুক দিতে অপারগতা জানালে নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। গত ৯ এপ্রিল সকালে স্বামীর বাড়িতে শিমুকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করতে তাকে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হলে ১০ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল নিহতের বাবা বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর র্যাব-১৩ গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে এবং অভিযানের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে। সংস্থাটির সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেফতারকৃতদের পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যেই ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে অস্বাভাবিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং গণপিটুনির ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া এলাকায় স্থানীয়দের হাতে আটক হন মো. ইমরান হাসান, যিনি সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, তিনি মাদক মামলার এক আসামির বাড়িতে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে এবং পরে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আহত অবস্থায় তিনি অসহায়ভাবে পড়ে আছেন এবং স্থানীয় কয়েকজন তাকে ঘিরে রেখেছে। তবে ঘটনাটি ঘিরে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত এএসআই দাবি করেন, তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট পরিবারের দাবি, ঘটনাটি ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত। সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনাটির কারণ ও পরিস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নীলফামারীর জলঢাকায় সিংগীমারী শ্মশান কালী মন্দিরের কাছে প্রভাত চন্দ্র রায় (৫০) নামে এক কৃষকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের দোলাপাড়া এলাকার ওই মন্দির সংলগ্ন স্থান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত প্রভাত চন্দ্র রায় স্থানীয় নীলকান্ত চন্দ্র রায়ের ছেলে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে কলাপাতা কাটতে বাড়ি থেকে বের হন প্রভাত চন্দ্র রায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়রা মন্দিরের পাশে তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নামজুম আলম জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।