ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে তেহরান। সোমবার (৯ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী নতুন নেতৃত্বের অধীনে এই হামলা পরিচালনা করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক পোস্টে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা হয়, যেখানে লেখা ছিল—“আপনার সেবায় প্রস্তুত, সাইয়্যিদ মোজতবা।” এ বার্তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতি আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় তার স্ত্রী ও মেয়েসহ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাও প্রাণ হারান বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।
এরপর দেশটির সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোজতবা খামেনি। পর্যবেক্ষকদের মতে, তার নেতৃত্বে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের স্থবিরতার পর সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পুনরায় চালু করেছে ইরান, যা আঞ্চলিক আকাশপথ যোগাযোগে আংশিক স্বাভাবিকতা ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্দিষ্ট কিছু আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর ধাপে ধাপে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারির পর আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক পরিস্থিতির কারণে ইরান আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছিল। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু করা হলেও আন্তর্জাতিক রুটে নিষেধাজ্ঞা বহাল ছিল। রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে তুরস্কের ইস্তাম্বুল, ওমানের মাসকাট এবং সৌদি আরবের মদিনাসহ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আন্তর্জাতিক রুট আরও সম্প্রসারণ করা হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অবশেষে স্বীকার করেছেন যে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি জানান, তার প্রোস্টেটে প্রাথমিক পর্যায়ের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়েছিল এবং এর চিকিৎসা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেটজনিত সমস্যার কারণে অস্ত্রোপচারের পর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় চিকিৎসকরা ছোট একটি টিউমার শনাক্ত করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এটি প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার হিসেবে নিশ্চিত হলেও তা শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েনি। নেতানিয়াহু বলেন, ঝুঁকি বিবেচনায় তিনি দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে বলেও তিনি দাবি করেন। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে তার শরীরে একটি পেসমেকার বসানো হয়েছিল, তবে বর্তমানে হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্বের কারণ হিসেবে তিনি জানান, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার এড়াতেই সময় নেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অভিবাসন নীতি ফের আলোচনায় এসেছে, যেখানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছেন। শেয়ার করা ওই কনটেন্টে রেডিও সঞ্চালক মাইকেল সেভেজ ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশকে অবমাননাকর ভাষায় উল্লেখ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতিকে কেন্দ্র করে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন, এসব দেশ থেকে কিছু ব্যক্তি সন্তান জন্মের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে নাগরিকত্ব সুবিধা গ্রহণ করছে—যা তিনি নীতিগত অপব্যবহার হিসেবে অভিহিত করেন। এই বক্তব্যে আরও বলা হয়, অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করছে এবং পরবর্তীতে পারিবারিক পুনর্মিলনের মাধ্যমে অন্যান্য সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসছে—যা নিয়ে তিনি আইন সংশোধনের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, ট্রাম্প এর আগের এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে একক ব্যতিক্রম হিসেবে দাবি করলেও আন্তর্জাতিক তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি সঠিক নয়; বিশ্বের বহু দেশে এ ধরনের আইন প্রচলিত রয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারত ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা একে ‘বিদ্বেষমূলক বয়ান’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেছেন যে, এ ধরনের বক্তব্য বৈশ্বিক কূটনৈতিক সম্পর্ক ও অভিবাসন নীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এই ধরনের বক্তব্য নির্বাচনি কৌশলের অংশ হলেও তা আন্তর্জাতিক আইনগত ও কূটনৈতিক পরিসরে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।