মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উত্তেজনা অব্যাহত থাকছে। সোমবার (৯ মার্চ) পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলার সংঘাত দশম দিনে প্রবেশ করেছে। এখন পর্যন্ত ইরানে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১,২০০ জন, আহত হয়েছেন শত শত ব্যক্তি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানও ইসরায়েল ছাড়াও কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, গত চার ঘণ্টায় কাতারের আকাশে অন্তত ১২টি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। বাহরাইন জানিয়েছে, রাজধানী মানামার দক্ষিণ সিত্রা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় কমপক্ষে ৩২ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শেবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি ড্রোন হামলা চালানো হলেও তা ভূপাতিত হয়েছে এবং তেলক্ষেত্র খালি ছিল।
সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, রাজধানী রিয়াদের উত্তরে দুইটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি ইরান হামলা বন্ধ না করে, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে আক্রমণের জন্য ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতেও প্রজেক্টাইল ভূপাতিত করা হলেও ফুজাইরাহ অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিরিজ হামলা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়াবে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোর সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে, পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ বিরতির পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে গাজা উপত্যকা-এ, যেখানে স্থানীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বাসিন্দারা। শনিবার (২৫ এপ্রিল) রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো গাজার কিছু এলাকায় স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেইর আল-বালাহ শহরকে প্রতীকীভাবে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে অঞ্চলে তাদের প্রশাসনিক উপস্থিতি ও কর্তৃত্বের দাবি আরও সুসংহত করা হচ্ছে। ২০০৭ সালে হামাস গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার চর্চা সীমিত ছিল। এবারের নির্বাচনে বিদ্যুৎ সংকট ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কিছু কেন্দ্র তাঁবুতে স্থাপন করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণের সময়ও সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় প্রায় ৭০ হাজারসহ মোট ১০ লাখের বেশি ভোটার অংশ নেওয়ার যোগ্য। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অঞ্চলটির সব এলাকায় ভোট আয়োজন সম্ভব হয়নি, যার ফলে নির্বাচন আংশিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই স্থানীয় নির্বাচন ভবিষ্যতে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনের পথ খুলে দিতে পারে। তবে রাজনৈতিক বিভাজন ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাও রয়ে গেছে।
আঞ্চলিক সামুদ্রিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা ঘিরে দ্বিমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে—একদিকে ইরান দাবি করেছে তাদের একটি পণ্যবাহী জাহাজ সফলভাবে নজরদারি এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে, অন্যদিকে পৃথক অভিযানে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের রাষ্ট্রীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, চালবাহী জাহাজটি হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকালে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী-এর নৌ ইউনিটের নিরাপত্তা সহায়তায় ওমান সাগর হয়ে নিরাপদে বন্দরে পৌঁছে। এ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায়, ভারত মহাসাগরে পৃথক সামরিক অভিযানে ‘ম্যাজেস্টিক এক্স’ নামের একটি ইরান-সংশ্লিষ্ট তেলবাহী জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন ও তেল পাচার প্রতিরোধে সমুদ্রপথে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনবোধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইনের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগকে ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
ভারতের উত্তর প্রদেশ-এর মির্জাপুর জেলায় একটি মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় সড়ক-১৩৫ এর ড্রামন্ডগঞ্জ উপত্যকার ঢালু পথে ব্রেক বিকল হওয়া একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একাধিক যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজে বিলম্ব হলেও স্থানীয়দের সহায়তায় হতাহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় ট্রাকটির যান্ত্রিক ত্রুটিজনিত ব্রেক বিকল হয়ে এই চেইন-কলিশনের সূত্রপাত ঘটে। ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার প্রেক্ষিতে যোগী আদিত্যনাথ গভীর শোক প্রকাশ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী ড্রামন্ডগঞ্জ উপত্যকার উক্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত, যেখানে পূর্বেও একাধিক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে।