মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বাহরাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর বাহরাইনের প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিটির শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রে ধারণা করা হয় যে ইরানের ড্রোন হামলার ফলে স্থাপনাটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে, যেখানে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্যে গুরুতর অধিকার লঙ্ঘনের চিত্র উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক অনুসন্ধান অনুযায়ী, সদে তেইমান আটককেন্দ্র-সহ কয়েকটি বন্দিশিবিরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জেনেভা কনভেনশনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মানবাধিকার সংগঠন বি’সেলেম, ইউরো-মেডিটেরেনিয়ান মানবাধিকার মনিটর এবং প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস-এর প্রতিবেদনেও একই ধরনের অভিযোগ উঠে এসেছে। সংস্থাগুলোর দাবি, এসব কেন্দ্র ধীরে ধীরে নিয়মিত আটককেন্দ্রের সীমা অতিক্রম করে নির্যাতনমূলক ব্যবস্থায় রূপ নিচ্ছে, যার উদ্দেশ্য বন্দিদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া। অন্যদিকে জাতিসংঘ-এর সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের ওপর জোর দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত, দায় নিরূপণ এবং আইনি জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রভাবে সরবরাহ বিঘ্ন ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির কারণে বৈশ্বিক তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বাজারে ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত সংকট অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তা সংস্থা এএফপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির ধীরগতির কারণে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এলএনজি সরবরাহে প্রায় ১২ হাজার কোটি ঘনমিটার ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে নতুন গ্যাস উৎপাদন প্রকল্প চালু হলে সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তা সত্ত্বেও ২০২৬ ও ২০২৭ সালজুড়ে বাজারে সরবরাহ সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে, ইরান–যুক্তরাষ্ট্র এর মধ্যকার চলমান যুদ্ধবিরতির নির্ধারিত মেয়াদ রোববার (২৬ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে, যা ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে ইসরায়েল-কে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম কান পাবলিক ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন–এর বরাতে জানা যায়, ওয়াশিংটন প্রশাসন তেল আবিবকে জানিয়েছে যে প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত সময়সীমা অচিরেই শেষ হচ্ছে এবং এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতির সম্ভাবনা সীমিত। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত একটি রাজনৈতিক বোঝাপড়ায় পৌঁছানোর ওপর জোর দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর সমঝোতা অর্জন নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের একাংশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্যপ্রবাহের অভাবে তারা কেবল গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণার মাধ্যমেই ওয়াশিংটনের অবস্থান জানতে পারছেন, যা কূটনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এর আগে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সাময়িকভাবে বৃদ্ধি করা হলেও তা ছিল শর্তসাপেক্ষ, যেখানে তেহরানকে একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। কিন্তু বর্তমান অগ্রগতির অভাবে আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো সমঝোতা না হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও ওয়াশিংটন–তেহরান আস্থাহীনতা এখন প্রধান অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।