মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে বাহরাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ মার্চ) প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর বাহরাইনের প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানিটির শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সরকারি সূত্রে ধারণা করা হয় যে ইরানের ড্রোন হামলার ফলে স্থাপনাটিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে হাইপারসনিকসহ মোট চার ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েল ও অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির বরাতে জানায়, এ হামলাটি ছিল ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) পরিচালিত ৩৪তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান। এতে তিন ধরনের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির কাছে অবস্থিত আল-ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের জুফায়ার এলাকায় থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। এছাড়া ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটি ও হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দরেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত একটি গোপন ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনাতেও আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। তবে এসব হামলার ফলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার (৯ মার্চ) তেহরানে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, সম্প্রতি তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানের দিকে সংঘটিত হামলার সঙ্গে ইরানের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। তিনি এ ঘটনাকে ‘সাজানো কাহিনী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন, শত্রুপক্ষ ইরান ও অন্যান্য দেশের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির জন্য হামলার কাহিনি তৈরি করতে পারে। বাঘাই আরও বলেন, “আমরা বারবার বলেছি, আমরা যুদ্ধ শুরু করিনি বা উসকানি দেইনি। এটি কোনো পছন্দের যুদ্ধ নয়; এটি আমাদের ওপর চাপানো একটি প্রয়োজনের যুদ্ধ।” তিনি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে বলেন, “এই মুহূর্তে কোনো আলোচনা প্রাসঙ্গিক নয়। এখন আমাদের একমাত্র মনোযোগ মাতৃভূমি রক্ষা এবং চলমান সামরিক সংঘর্ষ পরিচালনা।” এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান স্পষ্টভাবে হামলার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছে যে, পরিস্থিতি রাজনৈতিক প্রয়োজন অনুযায়ী গঠনমূলক বা বিভ্রান্তিমূলক হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
উত্তর সাইপ্রাসের আকাশসীমায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে তুরস্ক তার সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, “অঞ্চলের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্কের এই পদক্ষেপ কৌশলগত দিক থেকে আঞ্চলিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং উত্তেজনা মোকাবিলায় নেওয়া একটি প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।