নীলফামারীর সৈয়দপুরে অফিসে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়ে আব্দুল রাজ্জাক (৩০) নামে এক ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা তাকে ছুরিকাঘাত করে তার সঙ্গে থাকা টাকাভর্তি ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে সৈয়দপুর শহরের রাবেয়া বাজার মন্দির সংলগ্ন ব্রিজের ওপর এ ঘটনা ঘটে। আহত আব্দুল রাজ্জাক সোনাপুকুর চাকলা এলাকার বাসিন্দা এবং আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একটি বেসরকারি ঔষধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিভিন্ন ফার্মেসিতে ঔষধ সরবরাহ ও বিক্রি শেষে সংগ্রহ করা টাকা নিয়ে অফিসে ফিরছিলেন তিনি। এ সময় ব্রিজের ওপর আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। বাধা দিলে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার হাত ও পিঠে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে এবং টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাবাব আসফাক জানান, আহতের হাতের গভীর ক্ষতস্থানে ছয়টি সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে রেজাউল করিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আহত অবস্থায় তিনি অচেতন থাকায় ছিনতাই হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।
বরিশাল নগরীতে পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে আব্দুল বারেক হাজী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে নগরীর পোর্ট রোডের পিয়াজপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারী ও দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আব্দুল বারেক হাজী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কাজলাকাঠী দাঁড়িয়াল এলাকার মৃত সেকান্দার আলীর ছেলে। আটক ব্যক্তিরা হলেন—শুভ, কাওছার হোসেন, সুইটি বেগম ও মাকসুদা বেগম। তাদের মধ্যে শুভ, কাওছার ও সুইটি ওই এলাকার ভাড়াটিয়া ইলিয়াছ হোসেনের সন্তান এবং মাকসুদা বেগম ইলিয়াছের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইলিয়াছ পলাতক রয়েছে। তারা সবাই পোর্ট রোড পিয়াজপট্টি এলাকার মুসলিম হাওলাদারের বাসার ভাড়াটিয়া। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেলে পানির মোটর বন্ধ করা নিয়ে দুই ভাড়াটিয়া পরিবারের নারীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে উভয় পরিবারের পুরুষ সদস্যরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আব্দুল বারেক হাজীর ওপর হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল–এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে আল মামুন উল ইসলাম জানান, ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ইলিয়াছ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে।
জামালপুরে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায় প্রমাণিত হওয়ায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অপরদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার আরেক আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মুহাম্মদ আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার পাকুল্যা মধ্যেপাড়া গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে মো. ফারুক হোসেন, আলী আকবরের ছেলে মুনছুর আলী এবং শফিকুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন। একই মামলায় অপর আসামি জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী পেশায় ব্রয়লার মুরগির ব্যবসায়ী। ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে ব্যবসায়িক কাজে এক ব্যক্তির বাড়িতে যাওয়ার পর দম্পতি বাড়ির পথে ফিরছিলেন। এ সময় সদর উপজেলার পাকুল্লা এলাকায় কয়েকজন তাদের পথরোধ করে। নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়ার পরও তা বিশ্বাস না করে আসামিরা ওই ব্যক্তিকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পরদিন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে চারজন সাক্ষীর জবানবন্দি বিবেচনায় আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী।
বাগেরহাটের ফকিরহাটে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ৯ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামী মোঃ রমজান মোড়ল (৭০) গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে তাকে ফকিরহাট মডেল থানা থেকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত রমজান মোড়ল উপজেলার কামটা গ্রামের মৃত পাচু মোড়লের ছেলে। পুলিশ জানায়, গত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফকিরহাটে শিশুটি খেলতে গিয়ে তাকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফাঁকা বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর ধারালো অস্ত্র (হাসুয়া) দেখিয়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। পাশের বাড়ির একজন নারী ছুটে আসলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। ভিক্টিমের বাবা এ ঘটনার পর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ফকিরহাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামী মামলার চার মাস পর চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে র্যাব-৭ গ্রেফতার করে ফকিরহাট থানায় হস্তান্তর করে। ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এজাহারভূক্ত আসামীকে শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।