পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খারাগ দ্বীপকে ঘিরে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিস্ফোরক বার্তায় জানিয়েছেন, “যদি কেউ খারাগ দ্বীপে পদার্পণ করে, তাদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।”
এ বার্তার সঙ্গে তিনি মার্কিন পতাকায় মোড়ানো কফিনের ছবি শেয়ার করে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করেছেন।
এই হুঁশিয়ারি আসে তখন, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খারাগ দ্বীপের তেল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি এখন পর্যন্ত দ্বীপে বড় ধরনের হামলা চালাননি “ভদ্রতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রক্ষার জন্য,” তবে হুমকি দিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে দ্বীপের অবকাঠামোকে ধ্বংস করা হবে।
খারাগ দ্বীপকে এখন দুই দেশের চলমান উত্তেজনার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে সামরিক হস্তক্ষেপে যে ধরনের প্রলয়ঙ্করী প্রতিক্রিয়া হতে পারে, তারই ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দ্বীপকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চলতে থাকলে পারস্য উপসাগরে সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যাবে।
চলমান সংঘাত পরিস্থিতিতে যুদ্ধ সমাপ্তি নিয়ে নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ পূর্ণাঙ্গভাবে সংরক্ষিত হলেই কেবল যুদ্ধবিরতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত বিবেচনায় নেওয়া হবে। সোমবার (৩০ মার্চ) তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট সংশ্লিষ্ট সকল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতেও জনগণের জন্য নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। তিনি আরও নির্দেশনা দেন, আগ্রাসন মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় জোরদার করতে হবে এবং বর্তমান সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই কৌশলগত অবস্থান বজায় থাকবে।
রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার কারণে বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পারমাণবিক সংঘাত এখন আর এড়ানো সম্ভব নয়। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপকে এই ‘প্রলয়ঙ্করী পরিস্থিতির মূল কারণ’ হিসেবে দায়ী করেছেন। মেদভেদেভের মতে, ওয়াশিংটন প্রশাসন পারমাণবিক হুমকি নিয়ন্ত্রণের কথা বললেও, বাস্তবে তাদের পদক্ষেপ উত্তেজনাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে। তিনি সতর্ক করেছেন, চলমান সামরিক অভিযানগুলো কোনো স্থায়ী সমাধান আনছে না, বরং অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্যকে ভঙ্গুর করে একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত উত্তেজনার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তেহরানের ওপর সামরিক হামলা ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য এবার আর গোপন নয়, যা মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কটকে আরও জটিল করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মার্কিন ও ইসরায়েলি ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিস্তৃত ও বিপজ্জনক করেছে। এই বিবৃতিটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহারকেই এখন বৈশ্বিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুইডেনে একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বিচার মুখোমুখি হচ্ছেন এক ব্যক্তি, যাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দেশটির প্রসিকিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দেহব্যবসায় বাধ্য করা, একাধিক ধর্ষণ, শারীরিক হামলা ও মানবিক শোষণের সুস্পষ্ট অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রকাশ, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের স্ত্রীকে জোরপূর্বক অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করতেন। এ ঘটনায় অন্তত ১২০ জন ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিকল্পিতভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহক সংগ্রহ, সাক্ষাতের আয়োজন এবং পুরো কার্যক্রম তদারকি করতেন। অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী নারীকে শারীরিক নির্যাতন, হুমকি এবং তার মাদকাসক্তির সুযোগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে শোষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে মাদক সরবরাহের অভিযোগও আনা হয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। ৬২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে গত বছরের অক্টোবরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আটটি ধর্ষণের অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রসিকিউশন উল্লেখ করেছে। সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর ঘটনাটিকে ‘নির্মম ও ধারাবাহিক শোষণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও অভিযুক্ত ব্যক্তি সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, মামলার বিচার কার্যক্রম আগামী ১৩ এপ্রিল শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।