বাংলাদেশ

রংপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

Icon
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশঃ এপ্রিল ১, ২০২৬


উত্তরাঞ্চলে জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে রংপুর বিভাগজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামে আক্রান্ত চার শিশুকে শনাক্ত করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিকভাবে জ্বর, সর্দি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া এসব শিশুর শরীরে পরবর্তীতে র‌্যাশ দেখা দিলে চিকিৎসকরা হামের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। সংক্রামক রোগ হওয়ায় অন্যান্য রোগীর ঝুঁকি এড়াতে আক্রান্তদের পৃথক ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, একই হাসপাতালে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতায় শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। গত তিন দিনে এ ধরনের উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে কেউ হামে আক্রান্ত ছিল কিনা তা নিশ্চিত করা যায়নি।
চিকিৎসকরা জানান, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে উচ্চ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, অচেতনতা এবং শরীরে র‌্যাশ দেখা যাচ্ছে, যা হামের জটিল লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত। পরিস্থিতি বিবেচনায় আইসিইউ ও সিসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ হামের বিস্তার রোধে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্তদের পৃথকীকরণ, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।

বাংলাদেশ

আরও দেখুন
বাগেরহাটে পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষে প্রান্তিক কৃষকের বাম্পার সাফল্য

  বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামে এবার কৃষকের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের ঢেউ। পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা স্বল্প সময়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। মাত্র ৩৩ শতক প্রতি বিঘা জমিতে ৭–৮ মন সূর্যমুখী ফলন পাচ্ছেন তারা। প্রতিটি মন থেকে ১৩ কেজি তেল উৎপাদন হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০–৩৫০ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পার্টনার ফিল্ড স্কুলের ২৫ প্রান্তিক কৃষক একই মাঠে ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এছাড়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজার সংলগ্ন ৫ বিঘা এবং পঞ্চকরণ গ্রামের পৃথক মাঠেও চাষ সফল হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য কৃষকের ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ফলন অনুযায়ী তারা ৮৫ দিনের মধ্যে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি তারা উৎপাদিত ভেজাল মুক্ত তেল স্থানীয় ও বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। প্রতিবছর পাশ্ববর্তী গ্রামের মানুষও এই মনোরম সূর্যমুখীর মাঠ দেখতে আসছেন। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সোমাদ্দার জানান, কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে বিঘা প্রতি ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যেখানে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের ৩৫ বিঘা জমি অত্যন্ত ভালো ফলন দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং আবহাওয়ার সহায়ক অবস্থা সফলতার মূল চাবিকাঠি। কৃষকরা আশা করছেন, এই সফলতা আগামী বছরে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তার করবে এবং প্রান্তিক চাষীর আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।  

মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0

রংপুরে বাড়ছে হামের প্রকোপ তিন দিনে ৫ শিশুর মৃত্যু

পশ্চিম সুন্দরবনে জলদস্যুর তাণ্ডব, ১০ জেলের অপহরণে আতঙ্ক

সাতক্ষীরায় জ্বালানি সংকটে ফিলিং স্টেশন বন্ধ, ভোগান্তিতে জনজীবন

ছবি: প্রতিনিধি
১ এপ্রিল চরমোনাইয়ে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল শুরু

    বরিশালের চরমোনাইয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ ফাল্গুনের বার্ষিক মাহফিল আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে। তিন দিনব্যাপী এ মাহফিলে লাখো মুসল্লির সমাগম হবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পহেলা এপ্রিল জোহর নামাজের পর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করিমের উদ্বোধনী বয়ানের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সূচনা হবে। তিন দিন তিনি ফজর ও মাগরিবের পর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করবেন। এছাড়া নায়েবে আমিরুল মুজাহিদীন মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদরা অংশ নেবেন। আয়োজকরা জানান, মুসল্লিদের সুবিধার্থে ছয়টি বড় মাঠ প্রস্তুত করা হয়েছে। মাইকিং, সাউন্ড সিস্টেম, আলোকসজ্জা, স্যানিটেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য ১৫০ শয্যার অস্থায়ী হাসপাতালও রাখা হয়েছে। মাহফিলের দ্বিতীয় দিনে জাতীয় ওলামা-মাশায়েখ সম্মেলন এবং তৃতীয় দিনে বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের বৃহৎ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১ এপ্রিল শুরু হয়ে ৪ এপ্রিল ফজর নামাজের পর আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে। এসময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হবে।  

বরিশাল মার্চ ৩১, ২০২৬ 0

অদৃশ্য প্রভাবে দণ্ডপ্রাপ্ত সার্ভেয়ার শহিদুল এখনো কর্মস্থলে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন!

ছবি: প্রতিনিধি

দেবীগঞ্জে খোলা বাজারে পেট্রোল বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ৭ দিনের জেল ও ২৭ লিটার পেট্রোল জব্দ

ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফিরিয়ে দিলেন পুলিশ সদস্য

ছবি: প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে সড়ক প্রশস্তকরণে খাল-ফসলি জমির মাটি কাটার অভিযোগ

  নোয়াখালীর আলেকজান্ডার-সোনাপুর-মান্নান নগর সড়কের প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে খাল ও ফসলি জমি কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সড়ক ও বসতভিটা ধসে পড়তে পারে এবং কৃষিজমির উর্বরতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগ জানায়, নোয়াখালী অংশের ১৮ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের জন্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিয়াভেল বিল্ডার্স। সরাসরি দেখা যায়, মান্নান নগর, হানিফ চেয়ারম্যান বাজার, নুরুপাটোয়ারীর হাট, সুবর্ণচরের চেওয়াখালী বাজার ও আজাদ নগর এলাকায় খাল, ফসলি জমি, বাড়ির বাগান ও মসজিদের জমি থেকে ভেকু ব্যবহার করে মাটি কেটে সড়কের পাশে ফেলা হচ্ছে। খালের গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় সড়ক ও আশপাশের বাড়িঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, সড়ক সংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের খাল থেকে মাটি কাটার ফলে অর্ধশতাধিক পোল ও কালভার্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এছাড়া ফসলি জমির উর্বর মাটি নষ্ট হওয়ায় কৃষি উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা একাধিকবার বাধা দিলেও ঠিকাদারি দলের লোকজন তা উপেক্ষা করেছে। এক ঠিকাদারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দরপত্র অনুযায়ী মাটি ভিন্ন স্থান থেকে আনা হওয়ার কথা থাকলেও প্রভাব খাটিয়ে পাশের খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটছে, যা পূর্ণতই অনিয়ম। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঠিকাদারকে পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খাল ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি খাল বা ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; প্রমাণিত হলে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী দ্রুত অনিয়ম বন্ধ ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

নোয়াখালী প্রতিনিধি> মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

সৈয়দপুরে স্কাউটের বেসিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন

ছবি: প্রতিনিধি

বাকেরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৭

ছবি: প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে ইয়ুথ ভলান্টিয়ার অ্যাওয়ার্ড নিয়ে জেলা কমিটির সভা

0 Comments