বরিশালের চরমোনাই এলাকায় বাৎসরিক মাহফিলকে কেন্দ্র করে যাত্রীবাহী একটি রিজার্ভ লঞ্চ ডুবির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে প্রায় ৩০০ যাত্রী নিয়ে আসা এমভি মানিক-৪ নামের লঞ্চটি রাতে জোয়ারের সময় নদীতে পানি বেশি থাকায় বালুর বস্তার ওপর উঠে যায়। পরে দুপুরে ভাটা শুরু হলে পানি কমতে থাকে এবং একপর্যায়ে লঞ্চটি কাত হয়ে ডুবে যায়।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল ইউনিটের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এছাড়া উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখনো কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি। তবে উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে জনজীবন চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনের বেলায় অধিকাংশ বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না, আবার রাতেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক পরিবারকে মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে রান্না করতে হচ্ছে। সরেজমিনে জানা গেছে, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে অনেক এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যার পর অনেক স্থানে চুলা নিভু নিভু করে জ্বলে, আবার কখনো পুরো দিনই গ্যাস থাকে না। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন গৃহিণী, শিশু ও বয়স্করা। পৌরসভার এক বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক বলেন, “আমরা দুজনেই সকালে স্কুলে যাই। গ্যাস না থাকায় প্রায়ই নাস্তা করতে পারি না। রাতে রান্না করা ঠান্ডা খাবার নিয়েই দুপুর পার করতে হয়। বাধ্য হয়ে লাইনের গ্যাস থাকা সত্ত্বেও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে, যা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ।” স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দিন দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। কেউ কেউ ছাদে বা উঠানে মাটির চুলা ব্যবহার করে কাঠ-খড়ি জ্বালিয়ে রান্না করছেন। অন্যদিকে, হোটেল-রেস্তোরাঁর ওপরও বাড়ছে চাপ। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বসুরহাট অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আমান উল্যাহ বলেন, “বর্তমানে সারা দেশেই গ্যাস সংকট রয়েছে। ফেনী অঞ্চলের ট্রান্সমিশন লাইন থেকে চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে।” স্থানীয়দের দাবি, সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, কোম্পানীগঞ্জের গ্যাস ক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়া গ্যাসের একটি অংশ স্থানীয়ভাবে সংযুক্ত করা গেলে সংকট অনেকটাই কমে আসবে। এলাকাবাসী আশা করছেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরুল ইসলাম এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবেন।
শেরপুরের শ্রীবরদীতে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা একটি স্টিলের ট্যাংকের ভেতর থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার তাঁতিহাটি নয়াপাড়া ঢালিবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত ট্যাংক পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। দীর্ঘ সময় একই স্থানে পড়ে থাকার পর ট্যাংকটির ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে তারা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্যাংকের তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী ওই নারীর হাত-পা বাঁধা ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েকদিন আগে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা মরদেহটি ট্যাংকের ভেতরে রেখে যায়। শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল আলম জানান, মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২০ মার্চ শেরপুর শহরের মোবারকপুর এলাকায় একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনারও এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ, যা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার পঞ্চকরণ ইউনিয়নের খারইখালী গ্রামে এবার কৃষকের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের ঢেউ। পতিত জমিতে সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকরা স্বল্প সময়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। মাত্র ৩৩ শতক প্রতি বিঘা জমিতে ৭–৮ মন সূর্যমুখী ফলন পাচ্ছেন তারা। প্রতিটি মন থেকে ১৩ কেজি তেল উৎপাদন হচ্ছে, যার বাজার মূল্য প্রতি কেজি ৩০০–৩৫০ টাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের পার্টনার ফিল্ড স্কুলের ২৫ প্রান্তিক কৃষক একই মাঠে ২৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। এছাড়া ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজার সংলগ্ন ৫ বিঘা এবং পঞ্চকরণ গ্রামের পৃথক মাঠেও চাষ সফল হয়েছে। এক বিঘা জমিতে চাষের জন্য কৃষকের ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। ফলন অনুযায়ী তারা ৮৫ দিনের মধ্যে প্রতি বিঘা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। কৃষকরা জানাচ্ছেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ ও আধুনিক চাষ প্রযুক্তি ব্যবহার করায় এ সফলতা অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি তারা উৎপাদিত ভেজাল মুক্ত তেল স্থানীয় ও বাজারে বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছেন। প্রতিবছর পাশ্ববর্তী গ্রামের মানুষও এই মনোরম সূর্যমুখীর মাঠ দেখতে আসছেন। পঞ্চকরণ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপংকর সোমাদ্দার জানান, কৃষি বিভাগ প্রান্তিক চাষীদের বিনামূল্যে বিঘা প্রতি ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় এ বছর ১৩৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে, যেখানে পঞ্চকরণ ইউনিয়নের ৩৫ বিঘা জমি অত্যন্ত ভালো ফলন দিয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং আবহাওয়ার সহায়ক অবস্থা সফলতার মূল চাবিকাঠি। কৃষকরা আশা করছেন, এই সফলতা আগামী বছরে সূর্যমুখী চাষ আরও বিস্তার করবে এবং প্রান্তিক চাষীর আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।