মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, সদর উপজেলার পৌলী গ্রামে নুরজাহান বেগম (৫৫) হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহত নুরজাহান স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার ব্যক্তি মোশাররফ হোসেন (৪৫), পৌলী গ্রামের বাসিন্দা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অর্থনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, ১০ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র ও বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করে নুরজাহান বেগমকে হত্যা করা হয়। পরে ভিকটিমের কিছু মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে আসামি আত্মগোপনে চলে যান।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশ দল তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের মাধ্যমে ১৩ জানুয়ারি ভোর আড়াইটার দিকে শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেফতার করে।
আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছেন। উদ্ধার হওয়া আলামত আদালতে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে এবং দ্রুত তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
নরসিংদীর মাধবদীতে কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় বিএনপি নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মহিষাসুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান, তার ছেলে ইমরান দেওয়ান, ধর্ষক নূরার চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব এবং এবায়দুল্লাহ। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন বখাটে কিশোরীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এই ঘটনায় স্থানীয় মেম্বার ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ান বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, তিনি অপরাধীদের সঙ্গে রফাদফা করে মোটা অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেন এবং কোনো বিচার না করেই ঘটনাটি ধামাচাপা দেন। পাশাপাশি ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ প্রয়োগ করা হয়। ঘটনার বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ১৫ দিন পর বখাটে চক্রটি ভিকটিম কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকেই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে তাকে পুনরায় গণধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দীর একটি সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে রাখে।
রাজশাহী নগরীতে পূর্ববিরোধের জেরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকার পবা রাইসমিলপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. সাব্বির (২১) স্থানীয় শাহিন ইসলামের ছেলে। তিনি পারিবারিক হোটেল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একই এলাকার বাসিন্দা মো. জাসন (২৫) নামের এক ব্যক্তি তাকে ছুরিকাঘাত করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও এলাকায় বিশৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সাব্বিরকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, বুকে গভীর আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিরূপ সম্পর্ক চলছিল। এর আগের দিন ভুক্তভোগীর পিতাকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে। শাহমখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে; তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় প্রাসঙ্গিক ধারায় হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়নের সাতপোতা বেডবাড়ি গ্রামে মুরগির খামারের দুর্গন্ধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে ইব্রাহিম হোসেন (২৮) নামে এক ভ্যানচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বড় ভাই রুহুল আমিন (৩৪)। পুলিশ একই পরিবারের চারজনকে আটক করেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইব্রাহিম ওই গ্রামের ছলেমান শেখের ছেলে। তিনি এক সন্তানের জনক এবং তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। নিহতের স্ত্রী মেঘলা খাতুন জানান, বাড়ির পাশের একটি মুরগির খামারের দুর্গন্ধ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিবেশী জামাল উদ্দিনের ছেলে আরিফুল ইসলাম তার স্বামী ও ভাসুরকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ইব্রাহিমকে কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং রুহুল আমিনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলারোয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফারজানা রহমান জানান, বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইব্রাহিমকে হাসপাতালে আনা হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচএম শাহিন জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে আরিফুল ইসলাম (২৮), তার স্ত্রী সাথী আক্তার (২৫), পিতা জামাল উদ্দিন (৬২) ও মা শাহানারা খাতুন (৫৫)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।