জামালপুরের সাংবাদিক প্রদীপ চন্দ্র মম এর ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালত পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে আরও তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলা এখন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই)-এর হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জামালপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র বিচারক রোমানা আক্তার এই আদেশ দেন। আদালত নির্দিষ্ট করেছেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ভুক্তভোগীর মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে পিবিআইকে তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হবে।
মামলার এজাহার ও সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল বিকেলে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাড়ির আঙ্গিনায় পরিকল্পিত হামলার শিকার হন সাংবাদিক প্রদীপ চন্দ্র মম। হামলাকারীরা লোহার রড, বাঁশের লাঠি ও দা দিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়। পরে মাটিতে পড়ার পর ইট দিয়ে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সাংবাদিকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও সামাজিক অন্যায় নিয়ে লেখালেখির কারণে প্রদীপ চন্দ্র মমকে টার্গেট করা হয়েছে। পিবিআই তদন্তে যাওয়ায় মামলাটিতে নতুন গতি আসার প্রত্যাশা করছে পরিবার ও সাংবাদিক সমাজ।
জামালপুর জেলা গোয়েন্দা শাখা-২ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় প্রসাধনী পণ্যসহ দুজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন মো. আবু সাঈদ (৩৫) ও মো. সুজন মিয়া (২৮), শেরপুর জেলার শ্রীবর্দী থানার বাসিন্দা। অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রুহুল আমিন তালুকদার জানান, গোয়ালদী ও বালুরচর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পন্ডস ব্রাইট বিউটি এন্টি ডালনেস ফেইস ওয়াস ৩৬৪৮ পিস (মূল্য ৫ লাখ ৪৭ হাজার ২০০ টাকা), পন্ডস সুপার লাইট জেল ৮৬৪ পিস (মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার ৮০ টাকা) এবং গার্নিয়ার ফেইস ওয়াস ৪৬৮ পিস (মূল্য ৭০ হাজার ২০০ টাকা) জব্দ করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানসহ সকল অবৈধ কর্মকাণ্ডে জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। আইনি ব্যবস্থা জোরদার করে জামালপুরকে নিরাপদ ও চোরাকারবারীমুক্ত করার জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর সঙ্গে বেতিলা এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথে ভ্যানের ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে যান। সেখানে আনসার সদস্য আবু সাঈদ ও শাহাদাৎ হোসেন তাদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামীকে বিষয়টি জানান। পুলিশ দ্রুত পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসারদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে কিশোরী দুই অভিযুক্তকে শনাক্ত করেন। পুলিশ তাদের আটক করেছে। ওসি ইকরাম হোসেন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।” হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আমরা মর্মাহত। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পূর্ব কাসেমাবাদ এলাকায় এক ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মঞ্জু বেপারী (৫০) পূর্ব কাসেমাবাদ গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ বেপারীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রী নামিয়ে রাতে বাড়ি ফেরার পথে মৃত ইয়াসিন খানের বাড়ি সংলগ্ন নির্জন এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. টিপু সুলতান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।