কুমিল্লা-৮ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন। হলফনামা অনুযায়ী তাঁর বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৫৯ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। কুমিল্লা জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থীদের মধ্যে বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি এই প্রার্থীর।
ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে প্রায় ৬৪৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপির এই নেতা সহ ৩১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি মনোনীত কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন-এর।
দুদকের উপপরিচালক আফরোজা হক খান মামলাটি দায়ের করেছেন বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের দিলকুশা শাখার গ্রাহক প্রতিষ্ঠান মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেড জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. মনসুর আলী এবং সিইও সৈয়দ মাহতাব উদ্দিন মাহমুদ ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এই অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য আসলামুল হকের স্ত্রী মাকসুদা হক, ন্যাশনাল ব্যাংকের সাবেক এমডি এম এ ওয়াদুদ, চৌধুরী মোসতাক আহমেদ, ডিএমডি সৈয়দ রইস উদ্দিন, এ এস এম বুলবুল এবং সাবেক পরিচালক মনোয়ারা সিকদার।
তদন্তে উঠে এসেছে, ন্যাশনাল ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশে “মানহা প্রিকাস্ট টেকনোলজি লিমিটেড” নামে একটি কাগুজে বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করা হয়।
পরে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে জাল নথিপত্র প্রস্তুত করে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ উত্তোলন করা হয়।
দুদকের তদন্তে আরও দেখা গেছে, ঋণ অনুমোদনের সময় প্রতিষ্ঠানটির কোনো বাস্তব ব্যবসায়িক কার্যক্রম ছিল না। অথচ ব্যাংকের নিয়মনীতি উপেক্ষা করে একের পর এক ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।
উত্তোলিত অর্থ মূল ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেনা পরিশোধ, পে-অর্ডার এবং বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করা হয়। এতে করে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে।
আসনটিতে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আগ্রহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে মাঠের রাজনীতিতে।
ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ দুর্বল থাকায় বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক পুরোপুরি সক্রিয় হচ্ছে না। স্থানীয়রা বলছেন, নেতৃত্বের প্রতি আস্থা সংকট ও মাঠপর্যায়ের নিস্ক্রিয়তা বিএনপিকে বরুড়ায় কোণঠাসা করে ফেলছে।
এই আসনে বরুড়া উপজেলাটি ১টি পৌরসভা ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৭৭হাজার ১শত ৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৯১৩ জন। মহিলা ভোটার ১ লক্ষ ৮৩ হাজার ২৪২ জন।হিজড়া ভোটার ৫ জন।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অবৈধভাবে ডিজেল মজুদ ও বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিবি পুলিশের ওসি মো. মহিনউদ্দিন। পুলিশ জানায়, অভিযানে চর মটুয়া ইউনিয়নের উদয় সাধুর হাট এলাকার একটি অয়েল স্টোর থেকে ১৪০০ লিটার ডিজেল এবং একটি ভাউচার গাড়ি জব্দ করা হয়। আটকরা হলেন—মো. রাশেদ (৩৮), মো. নাছির উদ্দিন (৪৭), মো. শিহাব উদ্দিন (২২) ও মো. মাকসুদ (৩২)। ডিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুদ করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়। ওসি মো. মহিনউদ্দিন বলেন, আটকদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বরিশালের গৌরনদীতে চেকপোস্টে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে সাত্তার হোসেন (যুবক)কে আটক করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ভুরঘাটা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি পূর্ব বর্থী গ্রামের আব্দুল হাকিম মৃধার ছেলে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের খাঞ্জাপুর চেকপোস্টে অতিরিক্ত গতির কারণে একটি পিকআপ থামানো হয় এবং কাগজপত্র না থাকায় মামলা দেওয়া হয়। এ সময় সাত্তার নিজেকে এসবি সদস্য পরিচয় দেন। পরিচয়পত্র বা বিপি নম্বর চাইলে তিনি তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ভুয়া পরিচয় দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। পুলিশ জানায়, তাকে আটক করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তবে সাত্তার হোসেন দাবি করেন, তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য নয়, পুলিশ পরিবারের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
রংপুরে পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় আসামি পারভেজ রহমান পলাশ (২৬)-কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মার্জিয়া খাতুন এ রায় ঘোষণা করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকায় মাদকাসক্ত পলাশের ছুরিকাঘাতে হারাগাছ থানার এএসআই পিয়ারুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ হত্যা ও মাদক আইনে পৃথক মামলা দায়ের করে এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করে। মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পলাশকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এছাড়া অন্যান্য ধারায় তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।