ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্স আটকে দেওয়ার অভিযোগে শরীয়তপুরে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট দুই দফায় পথরোধ করে দেড় ঘণ্টার বেশি সময় অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় চিকিৎসা বিলম্বিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত রোগী মারা যান।
নিহত ব্যক্তির নাম জমশেদ আলী ঢালী (৭০)। তিনি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে স্ট্রোকজনিত জটিলতার কারণে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়ার সময় ঢাকা–শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়ার জামতলা এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের একটি দল গাড়িটি আটকে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, বাইরের অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করায় তারা বাধা দেয় এবং দীর্ঘ সময় বাগ্বিতণ্ডার সৃষ্টি করে।
দুই দফা বিলম্ব শেষে অ্যাম্বুলেন্স ঢাকার পথে রওনা হলেও হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছে রোগীর মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা পালং মডেল থানায় মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত এক অ্যাম্বুলেন্সচালক দাবি করেছেন, তিনি কোনো যানবাহন আটকে রাখেননি। এ ঘটনায় এলাকায় ফের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও রোগী পরিবহনে আইনি শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাজশাহীতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় বিএনপি জেলা ও অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু বেগম জিয়াকে উদ্দীপ্ত নক্ষত্র হিসেবে আখ্যায়িত করে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি বলেন, “বেগম জিয়া জনগণের মুর্ত প্রতিক। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তিনি আপোসহীন নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর রেখে যাওয়া দল আগামীতেও দেশের কল্যাণে কাজ করবে।” মিনু তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও শহীদ জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দেশের জন্য কাজ করে যাবে।” সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর বিভিন্ন সংসদ সদস্য প্রার্থী, জেলা বিএনপি ও মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক ও অন্যান্য নেতাকর্মী। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবু সাইদ চাঁদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মেজর জেনারেল শরিফ উদ্দিন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত, অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনসহ অনেকে। অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং তার জীবনী ও রাজনৈতিক অবদানের আলোকে ভবিষ্যতে দলের কাজে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহার ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) শহরের আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইস ব্যবহারসহ নানা অনিয়ম হয়েছে, যা স্বচ্ছ ও ন্যায্য নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তারা দ্রুত পরীক্ষা বাতিল করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া ভবিষ্যতে প্রতিটি কেন্দ্রে ডিভাইস চেকার ও নেটওয়ার্ক জ্যামার স্থাপন, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্বতন্ত্র বোর্ড গঠন এবং প্রশ্নফাঁস বা অনিয়মে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি তোলা হয়। মানববন্ধনে ওমর ফারুক বলেন, ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। ন্যায্যতা না পেলে কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন পরীক্ষার্থীরা। শামসুদ্দিন সুলাইমান বলেন, দ্রুত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা না নিলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসানের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান (বিদ্যালয়) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোকাররম হোসেন শোকরানা। জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ নিয়ে তিনি চতুর্থবার জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুন নাহার মাকছুদা। মোকাররম হোসেন শোকরানা ২০১২ সালের ৫ মে আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার দায়িত্বকালীন সময়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষা, ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে। তিনি পাঁচবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে ২০১৮, ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্বীকৃতি পান তিনি।