পৌষ সংক্রান্তি ও নবান্ন উৎসব উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শেরপুরে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী মাছের মেলা। কুশিয়ারা নদীর তীরে আয়োজিত এই মেলা এখন শুধু বাণিজ্যিক আয়োজন নয়, বরং এ অঞ্চলের মানুষের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত থেকে শুরু হয়ে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পর্যন্ত চলা এ মেলা সদর উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের শেরপুর বাজারসংলগ্ন মাঠ ও নদীর পাড়জুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, মেলার ইতিহাস প্রায় একশ বছর হলেও প্রবীণদের অনেকে এর বয়স দেড়শ থেকে দুইশ বছর বলে দাবি করেন।

মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বাঘাইড়, বোয়াল, আইড়, চিতল, কাতলা, রুইসহ নানা প্রজাতির বড় দেশি মাছ বিক্রি করছেন। মাছের আকার ও প্রজাতিভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হাজার থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। এ বছর একটি বড় বাঘাইড় মাছের দাম হাঁকা হয়েছে এক লাখ টাকা।
মাছের পাশাপাশি মেলায় কৃষিপণ্য, পিঠাপুলি, বাঁশ–বেত ও কাঠের সামগ্রী, খেলনা, শীতবস্ত্রসহ নানা লোকজ পণ্যের দোকান বসেছে। প্রতিদিন মৌলভীবাজারসহ আশপাশের জেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় ভিড় করছেন।
মেলার ইজারাদার আব্দুল হামিদ জানান, এ বছর প্রায় ২০টি পাইকারি ও আড়াই শতাধিক খুচরা মাছের দোকান বসেছে। কয়েক কোটি টাকার বেচাকেনার আশা করছেন আয়োজকেরা।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হাসান বলেন, প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে মেলার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখা হয়েছে। মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রবীণদের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় হাওর ও কুশিয়ারা নদীর মাছ বিক্রির মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই মেলা আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী মাছের মেলায় পরিণত হয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন মুন্সি (৪৬), তার মা মাজেদা বেগম (৭৫), স্ত্রী সাথী বেগম (৩৫), ভাই আমানুল্লাহ মুন্সি (৫৫), ভাতিজা মাসুম প্রিন্স (২৬), মো. আবির (২৩) ও আশিক হাওলাদার। তাদের মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫–৬ জনের একটি সশস্ত্র দল গভীর রাতে বসতঘরে প্রবেশ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। হামলার সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। একপর্যায়ে বোমা সদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহতদের স্বজনরা দাবি করেছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হতে পারে। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও বিরোধের ইঙ্গিত দিয়েছেন তারা। তবে হামলাকারীদের কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। বোরহানউদ্দিন থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায় মডেল থানা পুলিশ প্রায় ২০ টন চুরি হওয়া সুপারি উদ্ধার করেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সুপারির আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৯৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা। মামলার আসামিরা হলেন: • মামুন খান (৩৮), খুলনার রূপসা উপজেলার তালতলা গ্রামের মোঃ ছলেমান খানের ছেলে • তুহিন খান (৫৫), খুলনা হরিণটানা থানাধীন মোস্তফার মোড় এলাকার মোঃ ছুলাইমানের ছেলে • মনি শেখ (৪৩), ফকিরহাট উপজেলার বারাশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ শেখের ছেলে পুলিশ জানিয়েছে, থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত সুপারি মোংলা বন্দরের মাধ্যমে বেনাপোল বর্ডারের উদ্দেশ্যে পরিবহন করা হচ্ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২৫০ বস্তা সুপারি গাড়িতে তুহিন খানের মালিকানাধীন গাড়িতে পাঠানো হয়, চালক ছিলেন মামুন খান। ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মালামাল পৌঁছানো যায়নি। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফকিরহাট উপজেলার সাতশৈয়া গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে চটের বস্তায় রাখা ২৫০ বস্তা সুপারি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মালামাল পরিবহনের দায়িত্বে থাকা চালক ও গাড়ির মালিক পরস্পরের যোগসাজশে সুপারিগুলো আত্মসাৎ করে তৃতীয় ব্যক্তির কাছে গচ্ছিত রাখেন। মামলার বাদী গোপাল চন্দ্র ঘোষ পুলিশকে জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অন্যান্য জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে ছাত্রী হোস্টেলে কনডম পাওয়া নিয়ে উত্তেজনা, বিক্ষোভে অধ্যক্ষকে তালাবদ্ধ করলেন শিক্ষার্থীরা। সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রী হোস্টেলে কনডম পাওয়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ চালান। আন্দোলনকারীরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অফিসে আটকে দেন। ঘটনার সূত্রপাত আসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় হোস্টেলে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করা সেনা সদস্যরা বাথরুম পরিষ্কার করার সময় কনডমের প্যাকেট পায় বলে জানা যায়। এরপর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বেলা ১১টায় মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, কলেজ প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন পদক্ষেপ নিয়েছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল বলেন, দুই শিক্ষককে হোস্টেলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।