কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেন। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, সড়ক নিরাপত্তা, বাজার মনিটরিং, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং অপপ্রচার রোধসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য, কৃষি, সমাজসেবা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জ্বালানি তেল পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তেল সংকটে পড়েছেন ক্রেতারা। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামেও মিলছে না পেট্রোল ও ডিজেল। ফলে কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, নৌযান ও সড়কপথের যানবাহন চালাতে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের বিভিন্ন বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক খুচরা জ্বালানি তেল বিক্রির দোকান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব দোকানের অর্ধেকের বেশি বন্ধ হয়ে গেছে। যে কয়েকটি দোকান খোলা আছে সেখানেও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। সরকারি নির্ধারিত দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার পেট্রোল ১১৬ টাকা ৬০ পয়সা হলেও খুচরা বাজারে তা ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিজেল ১০০ টাকা ৬০ পয়সার পরিবর্তে ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক দোকানদার আবার তেল না থাকার কথা জানিয়ে দোকান বন্ধ রেখেছেন। খুচরা বিক্রেতারা জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ১০ ড্রাম তেল বিক্রি হতো। কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সপ্তাহে ২ থেকে ৪ ড্রাম তেল জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে দুই-তিন দিন বিক্রির পর বাকি সময় দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এদিকে ছোলমবাড়িয়া খেয়াঘাটে ট্রলার চালকরা ডিজেল না পেয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বেশি দামে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ঘাট পরিচালক সুবল পাটনি বলেন, প্রতিদিন এ ঘাট দিয়ে দুই থেকে তিন হাজার মানুষ নদী পারাপার করেন। কিন্তু তেলের সংকটে ট্রলার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কৃষক, ট্রলার চালক ও সাধারণ ক্রেতাদের দাবি, দ্রুত তেলের সংকট দূর করে পূর্বের মতো খুচরা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, উপজেলার খুচরা দোকানগুলোতে জ্বালানি তেলের সংকটের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে টানা দুই দিন ধরে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তিনি এই কর্মসূচি শুরু করেছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের ঢেলাপীর পুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোছা. সাকিলা খাতুন (১৮) একই ইউনিয়নের কাছারি বোসনিয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ পারভেজ ইসলাম (২৫)-এর বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পারভেজের বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বুধবার (১১ মার্চ) পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আড়াই বছর আগে পারভেজ ইসলামের কাছে প্রাইভেট পড়ার সময় তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে সাকিলা এসএসসি পাস করলে পারভেজের পরিচালিত একটি কোচিং সেন্টারে তাকে শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একপর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগী সাকিলা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পারভেজ ইসলাম তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করছেন। তাই বাধ্য হয়ে তিনি প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেছেন। সাকিলার বাবা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা খুব অসহায় মানুষ। প্রাইভেট পড়ানোর সময় থেকেই ছেলেটি আমার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন মেয়েটি তাকে বিয়ে করতে চায় বলেই সে ছেলের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করছে।” অভিযুক্ত পারভেজ ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। বোতলাগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান জুন বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। রমজান মাস হওয়ায় ইফতারের পর স্থানীয়দের উপস্থিতিতে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ইসলামিক বিধান অনুযায়ী, সুদভিত্তিক ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করা শারীয়ত দ্বারা বৈধ নয়। যারা এমন ঋণ নিয়েছেন, তাদের জন্য জরুরি হলো দ্রুত ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে সুদ থেকে আল্লাহর কাছে তওবা করা। ঋণের ধরণ অনুযায়ী জাকাত হিসাব পরিবর্তিত হয়। দীর্ঘমেয়াদী বা কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে, সেই বছরের মধ্যে যেটুকু টাকা/সম্পদ পরিশোধ করা হয়েছে, সেটুকুই জাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ দিতে হবে। সম্পূর্ণ ঋণকে একবারে বাদ দিয়ে জাকাত হিসাব করা সঠিক নয়। জাকাত ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার মূল উপায়। নিসাব (স্বর্ণ ৭.৫ ভরি বা রূপা ৫২.৫ ভরি) পরিমাণ সম্পদ যদি এক বছরের জন্য সঞ্চিত থাকে, তবে তার ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত প্রদান ফরজ। এই নিয়ম সম্পদকে পবিত্র রাখে এবং সমাজে ন্যায্য বিতরণ নিশ্চিত করে।