যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেডিকেল ফোর্সের সঙ্গে চিকিৎসা খাতে অংশীদারিত্ব জোরদার করেছে।
ঢাকায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) মার্কিন দূতাবাস জানায়, আর্মি প্যাসিফিকের ১৮তম থিয়েটার মেডিকেল কমান্ডের কমান্ডিং জেনারেল মেজর জেনারেল ই. ড্যারিন কক্স ১৮–২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ সফর করেন।
সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশি মেডিকেল ফোর্সের সঙ্গে সমন্বিত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগের ভিত্তি স্থাপন। সফরে মেজর জেনারেল কক্স ঢাকায় উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন এবং সিলেটের জালালাবাদ সেনানিবাস ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) পরিদর্শন করেন।
যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মুখপাত্র পূর্ণিমা রায় বলেন, এই সম্পৃক্ততা সামরিক স্বাস্থ্যসেবায় সহযোগিতা উন্নয়ন এবং অংশীদারদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও কৌশলগত প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করে।
সফরের মাধ্যমে যৌথ মহড়া, বিশেষজ্ঞ বিনিময় এবং গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কার্যক্রমে অংশীদারিত্বের নতুন পথ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের সামরিক চিকিৎসা খাতে সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করবে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষকে নতুনভাবে সংস্কার করে মর্যাদাশীল ও তাৎপর্যপূর্ণ আকার দেওয়া হয়েছে। স্পিকারের পেছনের উঁচু দেয়ালে স্থাপন করা হয়েছে আরবি ক্যালিগ্রাফিতে পবিত্র কালেমা তাইয়্যেবা, যা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর সংসদ ভবনে সংস্কার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অধিবেশন কক্ষে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” লেখা কালেমা স্থাপনের নির্দেশ দেন। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সচিবালয়ে বসে সরকারি কাজ সম্পাদন করেন এবং বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করেন। সূত্র জানায়, এই উদ্যোগ নতুন সংসদের কার্যক্রমকে নিয়মতান্ত্রিক ও মর্যাদাশীলভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।
জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরুর প্রাক্কালে দেশের উন্নয়ন দর্শন ও রাজনৈতিক লক্ষ্য তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের নীতি ও রাজনৈতিক দর্শনের মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করে তোলা। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সভাপতির নাম প্রস্তাবের সময় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক স্বার্থ রক্ষাই তার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি সংসদের সব দলের নির্বাচিত সদস্যদের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক হলেও একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, নিরাপদ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে জাতীয় ঐকমত্য থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় জাতীয় সংসদকে যুক্তি, বিতর্ক ও নীতিনির্ধারণের কার্যকর কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা হবে। বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদানও স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি আপসহীন অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। সরকারের নীতিগত অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের অংশ। প্রতিটি পরিবারকে অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই সরকার কাজ করবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিএনপির শীর্ষ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) অধিবেশনের উদ্বোধনের পর সংসদ সদস্যদের সম্মতিতে তিনি দায়িত্ব নেন। সভাপতির পদে নির্বাচনের প্রস্তাব সমর্থন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বিরোধীদলের উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। ড. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে আগামী স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন সম্পন্ন হবে।