অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ উদ্বেগজনক

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

Icon
রতন লাল ,সিনিয়র রিপোর্টার
প্রকাশঃ জুন ২৫, ২০২৫

বাংলাদেশের অর্থনীতি চলতি (২০২৪–২৫) অর্থবছরে প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে এগোচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫.৩ শতাংশ হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক কম।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ, বিদেশি রিজার্ভ সংকট, এবং টাকার অবমূল্যায়ন এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের পেছনে বড় কারণ।

মূল্যস্ফীতি ও আমদানি নির্ভরতা

এপ্রিল মাসে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.২ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ। খাদ্যদ্রব্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল ও মুরগির মাংসে।

বাজারে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। একজন ভ্যানচালক বলেন,
“আগে ২০০ টাকায় একবেলার বাজার হতো, এখন ৫০০ টাকায়ও পেট ভরে না।”

রেমিটেন্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

২০২৩ সালের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও তা পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬.৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে ২০২১ সালে এটি ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে।

এর ফলে এলসি খোলা, আমদানি পণ্য ছাড়, এবং আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধে চাপে পড়ছে সরকার ও বেসরকারি খাত।

সরকার কী বলছে?

অর্থমন্ত্রী কামাল সংসদে বলেন,
“আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, যুদ্ধ ও জলবায়ুজনিত সমস্যার কারণে আমাদের কিছুটা ধাক্কা খেতে হচ্ছে। তবে সরকার দক্ষভাবে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।”

সরকার এবার কৃষি, গার্মেন্টস, ও এসএমই খাতে বেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি বলেন,
“আমদানিতে জটিলতা, ঋণের উচ্চ সুদহার, এবং কর কাঠামোর অনিশ্চয়তা ব্যবসার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে। সরকারের উচিত প্রণোদনা ও নীতিগত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।”

বিশ্লেষকদের মত

অর্থনীতিবিদ ড. সালেহীন মাহমুদ বলেন,
“সরকার যদি অবকাঠামো উন্নয়ন ও মুদ্রানীতি সঠিকভাবে পরিচালনা করে, তবে পরবর্তী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে সতর্ক থাকতে হবে—মূল্যস্ফীতির লাগাম না টানলে সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।”

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যেখানে উন্নয়নের চিত্র আছে, সেখানেই আছে দুর্বল মুদ্রানীতি, রিজার্ভ সংকট ও মূল্যস্ফীতির চাপ। আগামী ছয় মাসে সরকারের নীতিগত পদক্ষেপগুলোই নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে না কি আরও চাপে পড়বে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশি টাকার আজকের আন্তর্জাতিক বিনিময় হার

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও লেনদেন সহজ করতে বাংলাদেশি টাকার বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শনিবার (৩ জানুয়ারি) অনুযায়ী প্রধান মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার হারের তালিকা হল: •    ইউএস ডলার: ১২২.৩৫ টাকা •    ইউরো: ১৪৩.৭১ টাকা •    ব্রিটিশ পাউন্ড: ১৬৪.৮৯ টাকা •    অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮১.৬৬ টাকা •    জাপানি ইয়েন: ০.৭৮ টাকা •    কানাডিয়ান ডলার: ৮৯.১৫ টাকা •    সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৫.১৭ টাকা •    চীনা ইউয়ান রেনমিনবি: ১৭.৫৩ টাকা •    ভারতীয় রুপি: ১.৩৬ টাকা •    শ্রীলঙ্কান রুপি: ২.৫৩ টাকা •    মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০.১৬ টাকা •    সৌদি রিয়াল: ৩২.৬০ টাকা •    কুয়েতি দিনার: ৩৯৭.১৬ টাকা •    সুইডিশ ক্রোনা: ১৩.৩০ টাকা উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠা-নামার কারণে যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হারে পরিবর্তন ঘটতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ৩, ২০২৬ 0

ডলারের দাম বাড়ছে: কী প্রভাব পড়ছে আমদানি-রপ্তানিতে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নীতিমালা: বাজারে কেমন প্রভাব পড়বে?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

শেয়ার বাজারে অস্থিরতা: বিনিয়োগকারীদের কী করণীয়?

ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?
ই-কমার্স ব্যবসায় আবারো চাঙ্গা ভাব: পুনর্জাগরণের সময়?

গত কয়েক বছর ধরে নানা চ্যালেঞ্জ ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর, বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত আবারো ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে। কিছু বড় বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পতনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে অনাস্থা তৈরি হলেও, বর্তমানে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের আস্থা ফিরছে। নতুন উদ্যোক্তারা এ খাতে প্রবেশ করছে, পুরোনো খেলোয়াড়রাও নিজেদের পুনর্গঠনে ব্যস্ত। সব মিলিয়ে ই-কমার্সে এক ধরনের চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ই-কমার্স খাত একটি বড় সুযোগ পেয়েছিল। ঘরে বসে কেনাকাটা মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান সেই আস্থা ধরে রাখতে পারেনি। গ্রাহকের টাকা আটকে যাওয়া, পণ্যের সময়মতো ডেলিভারি না পাওয়া এবং অনিয়মিত রিফান্ড প্রক্রিয়ার কারণে এই খাত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। সরকারের হস্তক্ষেপ ও নীতিমালার অনুপস্থিতিও সংকটকে আরও তীব্র করেছিল। তবে সেই ধস কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে এই খাতটি। এখন অনেক প্রতিষ্ঠান সরকারের ডিজিটাল কমার্স গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন (ই-ক্যাব) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশ কিছু কঠোর নিয়ম-কানুন বাস্তবায়ন করছে, যাতে গ্রাহকের অধিকার সুরক্ষিত থাকে। এতে ক্রেতারা আবারো আগ্রহী হচ্ছেন অনলাইন কেনাকাটায়। নতুন উদ্যোক্তারা অনেক বেশি স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। অনেকেই কাস্টমার কেয়ার, ট্র্যাকিং সিস্টেম, ক্যাশ অন ডেলিভারি এবং সহজ রিফান্ড পলিসি চালু করে গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছেন। এর পাশাপাশি ফেসবুক ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ছোট ছোট অনলাইন দোকান গড়ে উঠেছে, যারা স্থানীয়ভাবে দ্রুত সার্ভিস দিয়ে মানুষের চাহিদা পূরণ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ই-কমার্সের এখনও বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের তরুণ প্রজন্ম, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং স্মার্টফোন প্রবৃদ্ধি ই-কমার্সকে শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে। তবে এই খাতকে স্থায়ী ও বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং গ্রাহকসেবায় উদ্ভাবন খুব জরুরি। সব মিলিয়ে বলা যায়, ই-কমার্স আবারো জেগে উঠছে। এটি শুধু ব্যবসার পুনর্জাগরণ নয়, বরং গ্রাহক-ভিত্তিক একটি নতুন ও সুসংগঠিত ডিজিটাল বাণিজ্য সংস্কৃতির সূচনা। এখন সময়, আস্থার সেই ভাঙা সেতু পুনরায় গড়ে তোলার।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0
স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ উচ্চতায়, কেন এত চাহিদা?

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম

0 Comments