দেশীয় স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নতুন করে স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক লাফে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দরে ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকায়।
এর মাত্র এক দিন আগেই, ৬ ফেব্রুয়ারি বাজুস একই অঙ্কে স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের ভরি ছিল ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে আবারও মূল্য বৃদ্ধি করা হলো।
চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ২৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ দফা দাম বেড়েছে এবং ৯ দফা কমেছে। আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে, মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—যার মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়।
এদিকে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়। ২১ ক্যারেটের দাম ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্বর্ণের দামের এই ঘন ঘন ওঠানামা ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে, যা সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
নীলফামারী জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। অন্যথায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সৈয়দপুর শহরে অনুষ্ঠিত সমিতির জরুরি সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আইয়ুব ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন–এর স্বত্বাধিকারী আলহাজ্ব মো. একরামুল হক জানান, জেলার ছয়টি উপজেলায় মোট ৩৮টি পেট্রোল পাম্প রয়েছে। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় পাম্প পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে রেশনিং না থাকলেও বাস্তবে সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন প্রতিটি পাম্পে ২ থেকে ৩ হাজার লিটার করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। ফলে প্রতিদিন পাম্পে যানবাহনের চালকদের ভিড় বাড়ছে এবং প্রায়ই উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি জলঢাকা উপজেলার টেঙ্গনমারিতে একটি ফিলিং স্টেশনে তেল সরবরাহকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে এক কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। সমিতির নেতারা বলেন, এ পরিস্থিতিতে পাম্প পরিচালনা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত না হলে পাম্প বন্ধ রাখা ছাড়া বিকল্প থাকবে না। একই দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সমিতি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পাম্প মালিকরা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স বিভাগ সোমবার (১৫ মার্চ) দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর সংলগ্ন শাখা ও বুথগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী খোলা থাকবে। পোশাক শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় ১৮ ও ১৯ মার্চ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে, তবে গ্রাহকের লেনদেন হবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। বন্দর সংলগ্ন শাখাগুলো নিজেদের ব্যবস্থায় লেনদেন নিশ্চিত করবে। তবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ঈদের দিন (২১ মার্চ) সব ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং শিল্পখাতে বেতন-ভাতা পরিশোধের কার্যক্রম সচল রাখা হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে।
আজ বুধবার (১১ মার্চ) দেশের বাজারে সোনার দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী। ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৩০ টাকা, যা গতকালের তুলনায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বেশি। টানা দুই দিনে সোনার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ হাজার ৪৫২ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় আজ থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে ভালো মানের রুপার দামও বেড়ে ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৭০৭ টাকা হয়েছে। ২১ ক্যারেট সোনার দাম এখন ২ লাখ ৫৮ হাজার ১২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট সোনা ২ লাখ ২১ হাজার ২৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৮০ হাজার ৬১৭ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, সোনার বিক্রয়মূল্যে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। দেশীয় বাজারের এই ওঠানামার মূল কারণ হলো বিশ্ববাজারে সোনার অস্থিরতা, যা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের পর আরও তীব্র হয়েছে। গত ৩০ দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ২২৫ ডলার, আর ছয় মাসে বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১,৫৯০ ডলার। সংক্ষেপে, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা ও স্থানীয় চাহিদার কারণে দেশের বাজারে সোনার দাম গতকাল ও আজ দুই দিন ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।