ইরানকে ঘিরে নতুন করে কড়া অবস্থান নিল যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
হোয়াইট হাউস সূত্র ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুল্কের হার নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না থাকলেও উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশের কথা সামনে এসেছে।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পণ্য ও সেবা আমদানিতে যুক্ত কোনো দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে সেই রপ্তানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের সুযোগ থাকবে। তবে আদেশে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্ক কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প পুনরায় বলেন, ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে পরিস্থিতির পরিণতি “খুবই খারাপ” হতে পারে।
এই আদেশ জারির সময়ই ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে, যা গত জুনে ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর প্রথম সরাসরি সংলাপ। আলোচনায় ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা। বৈঠকে মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে ঘোষিত জাতীয় জরুরি পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় এই নির্বাহী আদেশ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে আদেশ সংশোধন বা পরিমার্জন করতে পারবেন। আদেশে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা, সন্ত্রাসে সমর্থন, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আলোচনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটিকে “ইতিবাচক সূচনা” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, আলোচনা শান্ত পরিবেশে হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে নিজ নিজ রাজধানীতে পরামর্শ শেষে আবার বৈঠকে বসা হবে।
উল্লেখ্য, চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এ ছাড়া ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারতও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সহযোগী। নতুন এই নির্বাহী আদেশ কার্যকর হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক অঙ্গনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সি জোসেফ বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে প্রথম ভাষণেই নিজেকে ‘জনগণের প্রতিনিধি’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। চেন্নাইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বংশ বা প্রভাবশালী পরিবারের উত্তরসূরি না হয়েও জনগণের আস্থায় তিনি এ দায়িত্বে এসেছেন। নতুন মুখ্যমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দেন, তার সরকার মিথ্যা আশ্বাসের রাজনীতি করবে না; বরং ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে প্রশাসন পরিচালিত হবে। একইসঙ্গে সরকারের সব সিদ্ধান্তের দায়ভার নিজের কাঁধে নেওয়ার কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। শপথের পর প্রথম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গৃহস্থালি গ্রাহকদের জন্য ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ এবং নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ বাহিনী গঠনের প্রস্তাবে অনুমোদন দেন বিজয়। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আরব সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিপদগ্রস্ত ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। বুধবার (৬ মে) এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এমভি গৌতম নামের জাহাজটি ওমান থেকে ভারতের পথে থাকা অবস্থায় সমুদ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়ে। ঘটনার পর পাকিস্তান নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে জাহাজটির নাবিকদের জন্য খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করে। এ সময় জাহাজটিতে থাকা ছয় ভারতীয় ও এক ইন্দোনেশীয় নাবিককে নিরাপদে সহায়তা প্রদান করা হয়। অভিযানে পাকিস্তান মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সিও সমন্বিতভাবে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় মেরিটাইম রেসকিউ কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরই এই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। সমুদ্র নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে এ ধরনের যৌথ উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভোট গণনার শেষ পর্যায়ে এসে কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে ফলাফল নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যেখানে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা রুদ্ধশ্বাস পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার (৪ মে) সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৬ রাউন্ড গণনা শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৩৮ ভোটে পিছিয়ে পড়েছেন শুভেন্দু অধিকারী-এর কাছে। এখনও চার রাউন্ডের গণনা বাকি রয়েছে, যা এই আসনের চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে निर्णায়ক ভূমিকা রাখবে। এদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসনে শক্ত অবস্থান ধরে রেখে টানা তৃতীয়বারের মতো জয় নিশ্চিত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল প্রার্থীকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি তার রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রেখেছেন। গণনাকেন্দ্র এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলে গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত হলে মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে বিরোধী কর্মীদের স্লোগানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হস্তক্ষেপ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গণনাকেন্দ্রসংলগ্ন এলাকায় দফায় দফায় উত্তেজনা ও ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটেছে, যার প্রেক্ষিতে প্রশাসন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী নির্বাচনে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমান নির্বাচনে একই আসনে তার রাজনৈতিক অবস্থান নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।