দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মেয়ের গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ‘স্মার্ট টেকনোলজিস’ থেকে কেনা হলো বডিওর্ন ক্যামেরা।
এই ক্যামেরা দিয়ে এবারের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ। সেই ক্যামেরা যথাযথ কাজ না করলে বেশ সমস্যায় পড়তে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ আমলে পুলিশের সব টেন্ডার পেয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে এবারের বডিওর্ন ক্যামেরা আমদানিতেও। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে ক্যামেরা পৌঁছে গেলেও তথ্য দিতে নারাজ পুলিশের টেলিকম বিভাগ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় দুর্নীতি ও নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চক্রান্ত করছে প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা।
নির্বাচনের সময় ক্যামেরা যথাযথভাবে কাজ না করলে সমস্যায় পড়তে হবে পুলিশকে।
এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, এরই মধ্যে ক্যামেরাগুলো পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। এর চেয়ে বেশি তিনি কিছু জানেন না।
আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের নদী, খাল ও জলাশয় খননের মাধ্যমে বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলা শহরের ঝিনাইকুড়ি খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর নির্দেশনায় সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল ও জলাশয় খনন করা হবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে এবং একযোগে বহু জেলায় খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের উন্নয়ন ঘটবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঝিনাইকুড়ি খালের প্রায় ৩ কিলোমিটার খননের মাধ্যমে অন্তত ১৫ হাজার মানুষের পানি সংকট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা দূর হবে। প্রতিমন্ত্রী অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, জিয়াউর রহমান–এর শাসনামলে খাল খননের মাধ্যমে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আবারও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। এতে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত এবং প্যানিকের কোনো কারণ নেই। সোমবার (২৩ মার্চ) রাজধানীতে নিজের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “তেল আছে এবং আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করছি। জনগণ আতঙ্কিত বা অতিরিক্ত সংগ্রহ করবেন না। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সমস্যা সমাধানে আমরা দিন-রাত কাজ করছি।” মন্ত্রী আরও জানান, ভর্তুকি ভিত্তিতে তেল আমদানি অব্যাহত রয়েছে, তাই দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন হয়নি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণ জনগণের কো-অপারেশন থাকলে কোনো ঘাটতি হবে না।” এদিকে, বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সতর্ক করেছেন যে, জ্বালানি ঘাটতি এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের সব পেট্রোল পাম্প যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংগঠনটি দাবি করেছে, পাম্পগুলোতে তেল পরিবহনের সময় লুটের ঝুঁকি রয়েছে, যা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমস্যার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। সংক্ষেপে, মন্ত্রণালয় তেলের সরবরাহ সচল ও পর্যাপ্ত বললেও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার অভাবে উদ্বিগ্ন, এবং জনগণকে উদ্বেগমুক্ত থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীতে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে সহায়তা দেওয়ার পর এবার বিয়ে বাড়ির স্বর্ণালংকার বহনেও নিরাপত্তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার (২২ মার্চ) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নাগরিকরা চাইলে নিকটবর্তী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে গহনা ও মূল্যবান সামগ্রী পরিবহনে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা নিতে পারবেন। তিনি বলেন, ঈদের সময় নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় বা ব্যাংকের ভল্টে স্বর্ণালংকার সংরক্ষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল এবং এখন বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত গহনা পরিবহনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের নিয়মিত টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে—দিনে ৮০টি ও রাতে ৪০টি টিম দায়িত্ব পালন করছে, পাশাপাশি জরুরি সাড়া দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ডিএমপি জানিয়েছে, নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় এই উদ্যোগ একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আরও জোরদার করা হবে।