সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ আদালত এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
দুদক ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত আয়ের বাইরে প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গোপন ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
আদালতের এই আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী হত্যা মামলাগুলোতে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি রোধে প্রশাসনিক পর্যায়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। বুধবার (৬ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক সম্মেলনের এক সেশন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তালিকা জেলা প্রশাসকদের কাছে চাওয়া হয়েছে এবং যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হবে। তিনি বলেন, আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরপরাধদের অব্যাহতি নিশ্চিত করা হবে এবং প্রতিটি মামলার তথ্য জেলা ও মহানগরভিত্তিকভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এছাড়া পূর্ববর্তী সময়ে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এ ধরনের মামলাগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে যাচাই করে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC) অনুসারে প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকার বলছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি হামিদুল আলম মিলনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি গতকাল মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। দুদক সূত্র জানায়, হামিদুল আলম মিলন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ছিলেন। রাষ্ট্রপতির আদেশে গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তাকে শাস্তি হিসেবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মিলনের বিরুদ্ধে স্ত্রী শাহজাদী আলম লিপিকে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে দুদক একটি মামলা করে। মামলার এজাহারে জানা যায়, শাহজাদী আলম লিপি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য ও উৎস গোপন করে মিথ্যা হিসাব ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে তা ভোগ-দখলে রাখেন। স্বামীর সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতি ও ঘুসের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দ্বারা শাহজাদী আলম লিপি ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদ অর্জন করেন এবং সম্পদের উৎস গোপন বা আড়াল করার অসৎ উদ্দেশ্যে তা রূপান্তর, স্থানান্তর বা হস্তান্তর করেন। এসব অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। এছাড়া চাকরিতে থাকা অবস্থায় জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৬১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও একটি মামলা আছে মিলনের বিরুদ্ধে। এ মামলায় হামিদুল আলম মিলনের সঙ্গে তার তিন বোন আজিজা সুলতানা, আরেফা সালমা ও শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা অবৈধ সম্পদ অর্জন মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে দুদকের আইনজীবী অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। এর আগে গত ৮ মার্চ আদালত এ মামলায় অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। দুদক ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলা দায়ের করে এবং পরবর্তীতে তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে চার্জশিট দাখিল করে। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘোষিত আয়ের বাইরে প্রায় ১১ কোটি টাকার বেশি সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা ব্যাংক হিসাব, বিনিয়োগ ও বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে গোপন ও রূপান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। আদালতের এই আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হলো।