দেশে ব্যাপকভাবে প্রচলিত ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে মেটাল বা ভারী ধাতব উপাদান ব্যবহারের কারণে ত্বক ও কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সর্তকতা জারি করেছেন এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাজারে পাওয়া বেশ কিছু নামিদামি ফেয়ারনেস ক্রিমে পারদ (Mercury), সিসা (Lead), আরসেনিক (Arsenic) এবং ক্যাডমিয়াম (Cadmium)-এর মতো ক্ষতিকর উপাদান অনুমোদিত সীমার বহু গুণ বেশি পরিমাণে রয়েছে।
চিকিৎসকদের উদ্বেগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহানা পারভীন বলেন, “এসব ক্রিমের ব্যবহারে ত্বক ফর্সা হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা ত্বকের স্থায়ী ক্ষত, চুলকানি, ফুসকুড়ি ও পিগমেন্টেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এগুলো কিডনি ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপরও প্রভাব ফেলে।”
তিনি আরও জানান, অনেক নারী দীর্ঘদিন এসব ক্রিম ব্যবহারের পর ত্বকের স্বাভাবিক রঙ হারিয়ে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ গুরুতর সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।
বাজারে অনিয়ন্ত্রিত পণ্য
বাজারে অনেক পণ্য বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে বাজারজাত করা হলেও তাদের যথাযথ নিবন্ধন নেই। কিছু ক্রিমের গায়ে উপাদানের উল্লেখ থাকলেও তা ভুয়া বা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা
নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মী সালমা খাতুন বলেন, “টিভি বিজ্ঞাপনে দেখে একটা ক্রিম কিনেছিলাম। কয়েকদিন ব্যবহারের পর মুখে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। পরে ডাক্তার দেখিয়ে জানতে পারি তাতে ক্ষতিকর রাসায়নিক ছিল।”
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্বক ফর্সাকারী পণ্যে আকৃষ্ট না হয়ে প্রাকৃতিক পরিচর্যায় গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বক ভিন্ন ভিন্ন কারণে কালচে হতে পারে—তাই সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া যেকোনো ক্রিম ব্যবহার বিপজ্জনক।
সরকারি অবস্থান
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং অচিরেই বাজার থেকে ক্ষতিকর ক্রিমগুলো জব্দ করা হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের সচেতন করার জন্য গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌস আরা আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে শিশুদের মধ্যে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, এই অবস্থার পেছনে বায়ুদূষণই মূল কারণ। জাতীয় শিশু হাসপাতালের শ্বাসযন্ত্র বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫০ জন শিশু শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ শিশুই হাঁপানির লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। দূষণই মূল দায়ী: ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেহরাজুল ইসলাম বলেন, “শিশুরা বায়ু দূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার। ধুলাবালি, গাড়ির কালো ধোঁয়া ও শিল্পবর্জ্যের কারণে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র কণাগুলো তাদের ফুসফুসে গিয়ে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা তৈরি করছে।” তিনি আরও জানান, শুধু শহর নয়, এখন গ্রামীণ এলাকাতেও হাঁপানির হার বেড়েছে, কারণ ধানের খড় পোড়ানো, ইটভাটা ও স্থানীয় সড়কের ধুলোবালি শিশুরা সহজে সহ্য করতে পারে না। অভিভাবকদের উদ্বেগ: রাজধানীর মুগদা এলাকার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “আমার ৬ বছরের ছেলের প্রতিদিন সন্ধ্যার পর কাশি ও নিঃশ্বাসের কষ্ট শুরু হয়। ডাক্তার বলেছেন, এটা হাঁপানি। মাস্ক পরানো ও ঘরের বাইরে কম যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।” স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগ: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিশুদের হাঁপানির প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। শহরাঞ্চলে স্কুলগামী শিশুদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: চিকিৎসকরা শিশুদের ধুলাবালি ও ধোঁয়ার সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বাসায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত ইনহেলার ব্যবহার এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। উপসংহার: শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি সচেতনতা ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। নইলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের প্রভাবে আমরা দিন দিন অলস হয়ে পড়ছি। শরীরচর্চার অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ নানা অসুস্থতায় ভুগছেন বহু মানুষ। অথচ প্রতিদিন মাত্র ৩০ মিনিট নিয়মিত হাঁটলেই অনেক বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। হাঁটা কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁটা শরীরের জন্য একটি সহজ, স্বাভাবিক এবং ঝুঁকিহীন ব্যায়াম। এটি কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে সক্রিয় করে, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ তারেক বলেন, “সাধারণ হাঁটা প্রতিদিনের রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, হৃৎপিণ্ড সুস্থ থাকে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিও ঘটে।” কোন কোন উপকারিতা পাওয়া যায়? নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটার ফলে শরীর ও মনের উপর যেসব প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু নিচে তুলে ধরা হলো: হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায় রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে ওজন কমাতে ও স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে অস্থি ও পেশির শক্তি বাড়ায় মানসিক চাপ কমায় ও মন ভালো রাখে ঘুমের মান উন্নত হয় কখন হাঁটা সবচেয়ে উপকারী? গবেষণায় দেখা গেছে, সকালে খালি পেটে হালকা হাঁটা বা বিকেলের দিকে সূর্যাস্তের আগের সময়টি হাঁটার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে সময়ের অভাবে কেউ যদি রাতে খানাপিনার কিছুক্ষণ পর হাঁটেন, তবুও সেটি উপকারি। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, হাঁটার সময় যেন জুতার আরাম, রাস্তার নিরাপত্তা এবং শরীরের পানির চাহিদা খেয়াল রাখা হয়। হাঁটার সময় কীভাবে হাঁটবেন? হাঁটার সময় কিছু বিষয় অনুসরণ করলে উপকারিতা আরও বাড়ে: সোজা হয়ে হাঁটুন গতি ধীরে বাড়ান এবং ধীরে কমান প্রতিদিন একই সময়ে হাঁটার চেষ্টা করুন আরামদায়ক ও হালকা জুতা পরুন মোবাইল বা হেডফোনে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে চারপাশের দিকে খেয়াল রাখুন হাঁটার অভ্যাস গড়বেন কীভাবে? হঠাৎ করেই দীর্ঘ সময় হাঁটা শুরু না করে ধাপে ধাপে অভ্যাস তৈরি করা উচিত। প্রথমে প্রতিদিন ১০-১৫ মিনিট হাঁটার মাধ্যমে শুরু করুন, এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ান। চাইলে পরিবারের কাউকে সঙ্গী করতে পারেন। এমনকি অফিসে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করাও একটি কার্যকর উপায়। প্রযুক্তির ব্যবহারেও সুবিধা বর্তমানে স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের অ্যাপগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন কত পা হাঁটলেন বা কত ক্যালোরি খরচ হল তা সহজেই নজরদারি করা যায়। এ প্রযুক্তি মানুষকে হাঁটার প্রতি আগ্রহী করতে সাহায্য করছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাঁটা একটি "মেডিসিন-বিহীন থেরাপি"। এমন অভ্যাস গড়ে তুললে ঔষধের উপর নির্ভরতা কমে, স্বাস্থ্যব্যয় কমে এবং জীবনযাত্রা আরও সহজ হয়। তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বাংলাদেশ ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ফোরাম ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদের মতামত