রাজনীতি

কর ফাঁকির মামলায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত

Icon
বরিশাল ,প্রতিনিধি
প্রকাশঃ জানুয়ারী ৩, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধেই বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলের কম-বেশি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে।
তবে সবাইকে পেছনে ফেলে বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু দুর্নীতি আর কর খেলাপি মামলার শীর্ষে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি এলাকায় চাউর হওয়ার পর এনিয়ে দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে।
নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি থেকে ক্লীন ইমেজের প্রার্থী দেয়ার ঘোষনা দিলেও বরিশাল-২ আসনে দুর্নীতি আর কর ফাঁকির একাধিক মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এসব প্রার্থীরা মনোনয়নপত্রের সাথে হলফনামা সংযুক্ত করেছেন।
বিএনপি প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদের হলফনামা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। যারমধ্যে পাঁচটি মামলাই দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে দায়ের হওয়া। যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির একটি মামলা রয়েছে। যা বর্তমানে উচ্চ আদালতে স্থগিত রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছিলো। যার তিনটিই আয়কর ফাঁকির মামলা। যা বর্তমানে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
অপরদিকে ৩ জানুয়ারি মনোনয়ন বাছাইয়ে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর মনোনয়নপত্র স্থগিত করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। একটি সরকারি সংস্থার তথ্যমতে, আয়কর সংক্রান্ত জটিলতার কারনে তার মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে।
করখেলাপীতে শ্রেষ্ট : বরিশাল-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমাদানকারী ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে কেহই কর খেলাপি মামলায় অভিযুক্ত না থাকলেও তিনি (সরফুদ্দিন) কর খেলাপি মামলায় সবার উপরে অবস্থান করছেন।
ঢাকা কর অঞ্চল-৭ এর সার্কেল-১৩৩ কার্যালয় সূত্রে পাওয়া ২০১৪ সালের এক নথিতে জানা গেছে, করবর্ষ ১৯৯৯-২০০০ থেকে ২০০৭-২০০৮ করবর্ষ পর্যন্ত তার কাছে করদাবী ছিলো ৩৮ কোটি ৯১ লাখ ৬১ হাজার ৩৫২ টাকা। জরিমানা হয় ১৬৮ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৩৫ টাকা। তার কাছে মোট দাবী ২০৭ কোটি ২৯ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭ টাকা।
এবিষয়ে বরিশাল-২ আসনের একাধিক প্রার্থীরা বলেন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে দুর্নিতী ও কর ফাঁকির মামলা সংক্রান্ত বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। সরকারের কোটি কোটি টাকা করখেলাপি হয়েও যদি নির্বাচনের সুযোগ পায় তাহলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকেনা।
এবিষয়ে জানতে বরিশাল-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টুর হলফনামায় দেওয়া (০১৭১১-৬৩২৫০৬) মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলেও তাকে না পাওয়ায় কোন বক্তব্য নেওয়া যায়নি।  

রাজনীতি

আরও দেখুন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান
শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ১২ জানুয়ারি রংপুর সফর করবেন। এদিন বেলা ২টায় তিনি পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন এবং এরপর সড়কপথে দিনাজপুরে যাত্রা করবেন। তারেক রহমান চারদিনব্যাপী সফরে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফর করবেন। সফরে তিনি শহীদ ও জুলাই যোদ্ধাদের কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ এবং আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে বরণে সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। তবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন না হয় তা নিশ্চিত করতে বড় কোনো জমায়েত করা হবে না।

রংপুর ব্যুরো জানুয়ারী ৭, ২০২৬ 0
জয়শঙ্কর তারেক রহমানের হাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো একটি চিঠি তুলে দেন

ভারতের সঙ্গে বিএনপির কূটনৈতিক সংযোগে নতুন অধ্যায়

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান

তারেক রহমানের চার দিনের সফরসূচি ঘোষণা

কর ফাঁকির মামলায় শীর্ষে থাকা প্রার্থীর মনোনয়নপত্র স্থগিত

এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী)
বিএনপিতে দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ, একান্ত সচিব সাত্তার ও প্রেস সচিব সালেহ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দপ্তরে গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নেতৃত্ব স্থাপন করা হয়েছে। সাবেক সরকারি সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারকে তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এ এ এম সালেহ (সালেহ শিবলী) দপ্তরের প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নিয়োগের তথ্য নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এই দুই কর্মকর্তা আজই তাদের পদভূমি গ্রহণ করবেন এবং দলের কেন্দ্রীয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। নিয়োগের মাধ্যমে দলের প্রশাসনিক ও গণমাধ্যমিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক জানুয়ারী ৩, ২০২৬ 0
ডা. তাসনিম জারা

ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল

নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

নির্বাচনের প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ

নির্বাচনের প্রস্তুতি: নির্বাচন কমিশনের নতুন রোডম্যাপ প্রকাশ

জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক
জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক

জাতীয় বাজেট ঘিরে সংসদে তুমুল বিতর্ক প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে সংসদে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক ও আলোচনা। চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রী যে বাজেট উপস্থাপন করেছেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একপক্ষ বলছে এটি একটি “উন্নয়নমুখী ও বাস্তবসম্মত বাজেট”, অন্যপক্ষ এটিকে বলছে “গণবিরোধী, ঋণনির্ভর ও সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা।” চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৮ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, যেখানে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে মূল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা, রপ্তানিমুখী শিল্প, কৃষি এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে। কিন্তু বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূল্যস্ফীতি ও কর কাঠামো। বিরোধী দল অভিযোগ করে বলেছে, সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় দিশেহারা, তখন বাজেটে কর আরোপ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব জনগণের কাঁধে বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেবে। তারা দাবি করেন, এই বাজেট উচ্চবিত্ত ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানবান্ধব, যেখানে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার দলীয় সংসদ সদস্যরা বলেছেন, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও এই বাজেট স্থিতিশীলতা ধরে রাখবে। তারা যুক্তি দেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা উচ্চ থাকলেও তা অর্জনের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। তবে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অব্যবস্থাপনা একটি বড় বাধা হবে বলে মত দিয়েছেন অর্থনীতি বিশ্লেষকরা। অনেকেই বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে উন্নয়ন খাতে বড় বরাদ্দ থাকলেও সময়মতো কাজ শেষ হয় না, ফলে অর্থের অপচয় হয়। এই বাজেটে কৃষিখাতে কিছু প্রণোদনা থাকলেও, বাস্তব সহায়তা কম বলে অভিযোগ করেছে কৃষক সংগঠনগুলো। একইভাবে শিক্ষাখাতে ডিজিটাল রূপান্তরের কথা বলা হলেও, গ্রাম ও মফস্বলে প্রযুক্তির বাস্তবপ্রয়োগে ঘাটতি থাকায় তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে সুশাসন, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ, রপ্তানি বাজারে বৈচিত্র্য আনার প্রয়োজনীয়তা, এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ক দাবিগুলোও। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন একাধিক সংসদ সদস্য। সংসদে এই বাজেট নিয়ে আরও কয়েকদিন আলোচনা চলবে এবং সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তবে এরইমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গেছে—এই বাজেট কেবল আর্থিক দলিল নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্ক ও ভিশনের প্রতিফলনও বটে।

আয়ান তাহরিম জুন ২৮, ২০২৫ 0

জাতীয় নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত রাজনীতি: প্রধান দলগুলোর নতুন কৌশল

২০২৫ সালে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিতিতে রাজনৈতিক মঞ্চে ত্রিমুখী যুদ্ধ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে

0 Comments