রাজনীতি

জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

Icon
আয়ান তাহরিম
প্রকাশঃ জানুয়ারী ৩, ২০২৬
নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে
নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠকে জোট গঠনের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে নতুন জোট গঠনের আলোচনা শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিভিন্ন ইসলামী রাজনৈতিক দল ও কিছু জাতীয়তাবাদী ছোট দলের নেতৃবৃন্দ একাধিক দফায় বৈঠকে বসেছেন এবং একটি কার্যকর রাজনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের মতানৈক্য ও পারস্পরিক অনাস্থা ভুলে নেতারা এখন একটি বৃহত্তর ঐক্যের দিকে এগোচ্ছেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতারা মনে করছেন, দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোতে বিচ্ছিন্নভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারবে না। বিশেষ করে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই জোটের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন। এতে করে নির্বাচনে শক্ত অবস্থান গড়ে তোলার পাশাপাশি নিজেদের দাবি ও স্বার্থ আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন নেতৃবৃন্দ।

জোট গঠনের আলোচনায় অংশ নেওয়া দলগুলো একমত হয়েছে যে, তারা জাতীয় স্বার্থ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকার রক্ষায় একটি সমন্বিত অবস্থান গ্রহণ করবে। নির্বাচনী আসন ভাগাভাগি, প্রার্থী নির্বাচন, নীতিগত রূপরেখা ইত্যাদি বিষয়েও খসড়া আলোচনা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও সমঝোতা চুক্তির।

তবে এই প্রক্রিয়া নিঃসন্দেহে সহজ নয়। বিভিন্ন দলের ভিন্ন মতাদর্শ, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা ও আস্থার ঘাটতি মাঝে মাঝে প্রক্রিয়াকে মন্থর করে তুলছে। তবুও বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেক নেতাই আশাবাদী যে, বাস্তবতা ও সময়ের দাবি মেনে সবাই একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাবেন।

এই জোট গঠনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পালাবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তারা যদি বৃহৎ বিরোধী শক্তির সঙ্গে নির্বাচনী সমন্বয় করতে সক্ষম হয়, তবে তা ক্ষমতাসীন দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অন্যদিকে, একটি সুসংগঠিত ও নীতিনির্ভর জোট দেশের গণতন্ত্রের জন্যও হতে পারে ইতিবাচক বার্তা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে সমঝোতা এবং নেতৃত্বে নমনীয়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সবাই যদি নিজ নিজ দলীয় স্বার্থ কিছুটা পেছনে রেখে সম্মিলিত লক্ষ্যে একমত হতে পারেন, তাহলে এ জোট একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয়ে রূপ নিতে পারে।

সবদিক বিবেচনায় বলা যায়, নেত্রীমণ্ডলীর বৈঠক ও চলমান আলোচনা একটি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোয়, তবে অচিরেই এই নতুন জোট দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলতে পারে। জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি হতে পারে এই উদ্যোগের মাধ্যমে। এখন দেখার বিষয়—এই আলোচনা কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি বাস্তবে রূপ নেয় কার্যকর এক ঐক্যে।

রাজনীতি

আরও দেখুন
ছবি: প্রতিনিধি
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পারস্পরিক শুভেচ্ছায় প্রকাশ করলেন রাজনৈতিক সৌহার্দ্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে নির্বাচনের উত্তাপ পেরিয়ে বিরল রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের দৃশ্য দেখা গেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়া পাড়ায় নবনির্বাচিত বিএনপি এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলনের বাসভবনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।   অধ্যাপক আজাদ জানান, “মিলন আমার ছোট ভাই। দীর্ঘদিন একসঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে কাজ করেছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় আমি তার পাশে থাকব এবং রাজশাহী-৩ এর উন্নয়নে সহযোগিতা করব।” নবনির্বাচিত এমপি মিলন বলেন, “নির্বাচন গণতন্ত্রের উৎসব। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ। সকলের মতামতকে কাজে লাগিয়ে আসন উন্নয়ন করব।” নির্বাচন ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে শফিকুল হক মিলন পেয়েছেন ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৮ ভোট, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯২৭ ভোট। স্থানীয় পর্যায়ে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ উদ্যোগকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

রাজশাহী ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিশাঙ্কা

শেরপুর সদর-১ আসনে ‘ভোট কারচুপি’র অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

৪১ বছরে ইতিহাস! নাটোর-১ আসনে সর্বকনিষ্ঠ নারী এমপি পুতুলের জয়

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছে ৪টি ইসলামিক দল

ছবি: প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে ভোটে জিতেই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অফিস দীর্ঘ সময় ধরে তালাবদ্ধ থাকায় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে এটি খুলে দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। তিনি জানান, স্থানীয় উত্তেজনা কমাতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অফিস খুলে দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মন্তব্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা আবু দাউদ প্রধান বলেন, “এটি আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি স্থানীয় শান্তি উদ্যোগ। কেউ অন্যায় করলে তা আমি প্রশ্রয় দেবো না।” স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জানান, অফিসটি পূর্বে জামায়াতের কিছু লোক তালাবদ্ধ করেছিল। “আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকার মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। আপাতত এখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম হবে না, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে। অফিসটি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।” অফিস খুলে দেওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরাও এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং উভয়পক্ষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের আশা প্রকাশ করেছেন।

আমির খসরু লাবলু ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা হবে সন্ত্রাসমুক্ত ও অধিকারবান্ধব

এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত

জনগণের স্বপ্নপূরণে ফের সংসদে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত

ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম

বাগেরহাট–৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের রেকর্ড বিজয়

শেরপুর-১ আসনে জামায়াত ও শেরপুর-২ আসনে বিএনপি'র বিজয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর জেলার তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে দুইটিতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। অপর একটি আসনের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুজনিত কারণে স্থগিত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ভোটে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম শেরপুর-১ আসনে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী শেরপুর-২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। শেরপুর-১ আসনে জামায়াতের বড় জয় ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোট সমর্থিত ডা. সানসীলা জেবরীন প্রিয়াঙ্কা ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৪৯ হাজার ৪৬৯। এ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। শেরপুর-২ আসনে বিএনপি এগিয়ে ১৫৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত গোলাম কিবরিয়া (ভিপি) দাড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। দুই প্রার্থীর ব্যবধান ১০ হাজার ১৬ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল কায়েস হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে থাকেন। ভোটার উপস্থিতি ও গণভোট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, শেরপুর-১ আসনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১ শতাংশ এবং শেরপুর-২ আসনে ৫৪ শতাংশ। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে উভয় আসনেই ‘হ্যাঁ’ ভোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেলার দুই আসনে ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।  

শেরপুর প্রতিনিধি> ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

লাঙল নিয়ে ‘জানাজা’ আয়োজনের ছবি ভাইরাল

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

“১৭ বছরের সংগ্রামের পর এই বিজয় বাংলাদেশের”: মির্জা ফখরুল

ছবি: প্রতিনিধি

“প্রশাসনকে পুরো নিরপেক্ষ বলবো না”: এটিএম আজহারুল

0 Comments