খাগড়াছড়ি বন বিভাগ সোমবার (৬ জানুয়ারি) একটি অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমা’র বাড়ি থেকে ১টি এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার (কালো ভালুক), ৬টি মায়া হরিণ এবং ২টি বানর উদ্ধার করেছে।
অভিযানটি খাগড়াছড়ি বন বিভাগের টীম ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের চট্টগ্রাম টীম যৌথভাবে পরিচালনা করে।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ ফরিদ মিঞা জানান, বন্যপ্রাণী ধরার বা পালনের বিষয়টি দণ্ডনীয় অপরাধ। উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো পরে কক্সবাজারের ডুলা হাজারা সাফারি পার্কে প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মানুষের মতোই প্রাণীদেরও প্রকৃতিতে বাঁচার অধিকার রয়েছে। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষা করা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসব প্রাণী দেখতে পাবে না।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আরিয়ান হাসান নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার গোল্লারপাড় বটগাইচ্ছা ব্রিজ সংলগ্ন শেরপুর–নালিতাবাড়ী সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আরিয়ান উপজেলার পশ্চিম কাপাশিয়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের ছেলে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। স্বজনদের বরাতে জানা যায়, শিশু আরিয়ান তার মা অন্তরার সঙ্গে গোল্লারপাড় এলাকায় খালার বাড়িতে যাওয়ার পথে ছিলেন। বটগাইচ্ছা ব্রিজ এলাকায় একটি অটোরিকশা থেকে নামার সময় মায়ের হাত ধরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দ্রুতগতির আরেকটি অটোরিকশা তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত আরিয়ানকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফারহানা মুমু তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
খাগড়াছড়িতে বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে খাগড়াছড়ি জেলাধীন মাটিরাঙ্গার নতুন পাড়া কারীমিয়া ক্বেরাতুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানার মাঠে মাটিরাঙ্গা কাঠ ব্যবসায়ী সমিতির আয়োজনে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক ও খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এটি শুধু একজন নেত্রীর নয়, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ওপরও আঘাত। অনুষ্ঠানটি মাটিরাঙ্গা কাঠ ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি ও পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজালাল কাজল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের সদস্যসহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৯৭ কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি। সম্পদের বড় অংশই অস্থাবর সম্পত্তি, যেখানে শেয়ার, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন আর্থিক বিনিয়োগের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য। ৬৪ বছর বয়সী আফরোজা খানম রিতা পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত চিত্র হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, আফরোজা খানম রিতার বার্ষিক মোট আয় ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার ৬৩৮ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আসে চাকরি থেকে। মুন্নু গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি বছরে ১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বেতন গ্রহণ করেন। এ ছাড়া কৃষিখাত থেকে তাঁর আয় দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকা, স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া বাবদ আয় ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আমানত থেকে আয় ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৩৮ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তিতে শেয়ারের আধিপত্য অস্থাবর সম্পত্তির হিসাবে তাঁর নামে নগদ অর্থ রয়েছে ৫ কোটি ৮৫ লাখ ৯৮ হাজার ২৯৯ টাকা। ব্যাংকে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ৪১ লাখ ৭ হাজার ৭৫৯ টাকা। সবচেয়ে বড় অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা শেয়ারের মূল্য দেখানো হয়েছে ৭৮ কোটি ১৪ লাখ ৬৫ হাজার ৯০৮ টাকা। এ ছাড়া স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ৪৪ লাখ ৪ হাজার ৮৫১ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর একটি ব্যক্তিগত গাড়ির মূল্য ধরা হয়েছে ৭৮ লাখ টাকা। তাঁর কাছে রয়েছে ১৬৪ ভরি স্বর্ণালংকার। এ ছাড়া ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্রের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৫ কোটি ৭২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৮ টাকা। উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পত্তি মুন্নু গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে কৃষিজমি রয়েছে ১৭ শতাংশ এবং অকৃষিজমি রয়েছে ৬২৭ শতাংশ। এ ছাড়া রাজধানীর গুলশান ও মগবাজার এলাকায় তাঁর দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। সব মিলিয়ে তাঁর স্থাবর সম্পত্তির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩১ হাজার ২৫০ টাকা। কর পরিশোধের তথ্য কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আফরোজা খানম রিতা নিজে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫৫ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৯ টাকা। তাঁর স্বামী একই অর্থবছরে কর দিয়েছেন ৮ লাখ ২৪ হাজার ১২২ টাকা। এ ছাড়া তাঁদের তিন সন্তান যথাক্রমে ২১ লাখ ৮৮ হাজার ৮০০ টাকা, ১৫ লাখ ১৯ হাজার ১৬৪ টাকা এবং ২২ লাখ ৩ হাজার ৬৮০ টাকা আয়কর পরিশোধ করেছেন। ফলে ওই অর্থবছরে তাঁদের পরিবারের মোট কর পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৫৩ হাজার ৭৩৫ টাকা। মোট সম্পদের হিসাব হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, আফরোজা খানম রিতার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি মিলিয়ে মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭ কোটি ১০ লাখ ৪৫ হাজার ৮৪৮ টাকা।