পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় ইজিবাইকের ধাক্কায় আব্দুল মমিন (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনা বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্লী বিদ্যুৎ মোড় এলাকায়, আটোয়ারী-বোদা আঞ্চলিক সড়কে ঘটে।
নিহত শিশু উপজেলার রাঁধানগড় ইউনিয়নের বড়দাপ গ্রামের রশিদুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশু রাস্তা পার হওয়ার সময় আটোয়ারী বাজারগামী একটি ইজিবাইক তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত শিশুকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন, যেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ইজিবাইক চালক পালিয়ে গেছে এবং এখনও তাকে সনাক্ত করা যায়নি।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নাটোরের লালপুর উপজেলায় সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনজন যাত্রী নিহত এবং অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে লালপুর-ঈশ্বরদী আঞ্চলিক মহাসড়কের নবীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইক ঈশ্বরদীর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পণ্যবাহী ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইজিবাইকটি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে গুরুতর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট ট্রাকের চালক ও সহকারী ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় ও আঞ্চলিক হাসপাতালে প্রেরণ করে। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগে সাতক্ষীরাজুড়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ লাইন, তেল না পাওয়ার অভিযোগ এবং ব্যবসা স্থগিতের হুমকিকে কেন্দ্র করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে অস্থিরতা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। সোমবার (২৩ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি মজুত পরিস্থিতি যাচাইসহ দৈনিক লেনদেনের হিসাবপত্র পর্যালোচনা করেন এবং গ্রাহকদের অভিযোগ সরাসরি শোনেন। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের একাংশ অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ সীমিত রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল। অন্যদিকে, পাম্প মালিকদের দাবি—এক শ্রেণির অসাধু চক্র বারবার তেল সংগ্রহ করে তা অধিক মূল্যে পুনর্বিক্রি করছে, যা বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট পাম্প মালিকরা আরও জানান, জ্বালানি পরিবহনের সময় ট্যাংকার লুটের আশঙ্কাসহ সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবিলম্বে কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা পরিচালনা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেন। এদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণপদ পাল জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক জ্বালানি তেল সংকট জনজীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা হঠাৎ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোল ও অকটেনের অভাবে পরিবহন খাত কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, ফলে চালকরা একের পর এক পাম্প ঘুরেও খালি হাতে ফিরে আসছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২২ মার্চ) সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন মফস্বল বাজার ও খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সম্পূর্ণ ঘাটতি দেখা দেয়। পরিস্থিতির কারণে অনেক চালক প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের লাকসাম উপজেলার ফিলিং স্টেশনগুলোতে ছুটে গেলেও সেখানেও মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, এর আগের দিন সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দামে—লিটারপ্রতি প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, যা প্রচলিত বাজারদরের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিষয়টি বাজার নিয়ন্ত্রণ আইন ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা বিধানের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। পরিবহন সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে স্থানীয় অর্থনীতি ও জরুরি সেবাখাতে পড়তে শুরু করেছে। মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন, পাশাপাশি হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক চালক জানান, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় নিজস্ব কোনো পেট্রোল পাম্প না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে খুচরা বিক্রেতা ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার পাম্পের ওপর নির্ভরশীল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বিকল্প ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় জ্বালানি বিক্রি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক হলে বিক্রি শুরু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত পুনর্বহাল এবং বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা, যাতে জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব হয় এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।