আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তেঁতুলিয়ায় মতবিনিময় সভা করেছেন। সভা উপজেলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজে অস্থায়ী বিজিবি ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজিবির রিজিওন কমান্ডার, পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাজী মো সায়েমুজ্জামান, পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মহাপরিচালক সিদ্দিকী সভায় বলেন, বিজিবি একটি পেশাদার ও রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে নির্বাচনকালীন সকল দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত। ভোটারদের নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে বিজিবি অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
তিনি জানান, দেশের ৪ হাজার ৪২৭ কিমি সীমান্ত এলাকা নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ৪৯৫ উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে ৩৭ হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী ৬১ উপজেলায় বিজিবি এককভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সারাদেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে ঝুঁকির ভিত্তিতে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে দায়িত্বে থাকবে।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বিজিবি সদস্যদের প্রশিক্ষণ, বিশেষ ব্রিফিং, আচরণবিধি ও পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্র, ব্যালট, কর্মকর্তা ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স, র্যাপিড অ্যাকশন টিম, কে-৯ ডগ স্কোয়াড, ড্রোন ও বডি অন ক্যামেরার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড় সীমান্ত ও পর্যটন এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে বিজিবি অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে। মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সরকারের, নির্বাচন কমিশন ও জনগণের সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন হবে।
এর আগে বিজিবি মহাপরিচালক হেলিকপ্টার যোগে তেঁতুলিয়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন এবং গাড়ি যোগে অস্থায়ী ক্যাম্প পরিদর্শন ও সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে বিজিবি ও পর্যটন সম্পর্কিত পরিদর্শন ও পরামর্শ দেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে গ্রন্থাগারের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় গ্রন্থাগার দিবস–২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শহরের পুরাতন বাবুপাড়াস্থ সৈয়দপুর গ্রন্থাগার চত্বরে কবিতা আবৃত্তি, বইপাঠ, উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর গ্রন্থাগারের সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের অধ্যক্ষ মো. শাবাহাত আলী সাব্বু। তিনি বলেন, “বই মানুষের প্রকৃত বন্ধু এবং জ্ঞানার্জনের প্রধান মাধ্যম। শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গঠনে গ্রন্থাগারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক রেহানা সুলতানা, শারমিন আক্তার, সিম্পল খাতুন ও সৈয়দপুর রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নবীন ইসলাম। বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবেরা মুসফিরাত সাফি ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমাইয়া জাহিদ রুদানা। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৫ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্পে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতি যাচাইয়ের জন্য একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়ায় ভোটকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের কৌশল প্রদর্শন করা হয়। সাতক্ষীরা ৩৭ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাভিদ হাসান জানান, ড্রোন, বডি ক্যামেরা ও সুরক্ষা অ্যাপসসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি আসনে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের উদ্যোগে জেলার সব নিরাপত্তা বাহিনীর অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড ও খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক। খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের জিটুআই মেজর কাজী মোস্তফা আরেফিনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার, জেলা আনসার কমান্ডেন্ট, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন জোন কমান্ডাররা। তারা নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিতভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করা হয়।