নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ভোট দিলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানো সম্ভব—এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি জাপা মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাকালে ধারণ করা বলে জানা গেছে।
ভাইরাল ভিডিওতে বড়ভিটা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পল্লীতে ভোট চাইতে গিয়ে বলেন, জাতীয় পার্টি সংসদে গেলে শেখ হাসিনাকে দেশে আনা যাবে। তিনি দাবি করেন, জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করলে শেখ হাসিনাকে ফেরানোর পথ তৈরি হবে এবং সংসদে না গেলে সে সুযোগ থাকবে না। বক্তব্যের সময় তার সঙ্গে জাপার ওয়ার্ড কমিটির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন নেটিজেন জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগের সহযোগী আখ্যা দিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। কেউ কেউ দলটি বর্জন ও নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুন অর রশিদ মামুন ভিডিওটি নিজের ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করে জাতীয় পার্টিকে কটাক্ষ করেন। পাশাপাশি আরও অনেক ব্যবহারকারী ভিডিওটির মন্তব্য অংশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলা রেড জুলাইয়ের আহ্বায়ক মোতালেব হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিওটি তার নজরে এসেছে। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। যারা ভোটের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের কথা বলছে, তাদের বয়কট করা প্রয়োজন।
ঢাকা-১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব ও তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। সোমবার (২ জানুয়ারি) ওই আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রিটটি দায়ের করেন। রিটে ড. এমএ কাইয়ুমের প্রার্থিতা স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে। নাহিদ ইসলামের পক্ষে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মূসা ও অ্যাডভোকেট আলী আজগর শরীফী। আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা জানান, চলতি সপ্তাহেই রিটটির শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে নির্বাচন কমিশন ঢাকা-১১ আসনে নাহিদ ইসলাম ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. এমএ কাইয়ুম—উভয়ের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় নিহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা রেজাউল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে ও তার কবর জিয়ারত করতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে উপস্থিত হন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ডা. শফিকুর রহমান। সকালে হেলিকপ্টারযোগে গোপালখিলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে কালো মাইক্রোবাসে শহীদ রেজাউল করিমের বাড়িতে পৌঁছান তিনি। সেখানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন, তাদের ধৈর্য ও ঈমানি শক্তি ধরে রাখার আহ্বান জানান। বিশেষ মুহূর্তে ডা. শফিকুর রহমান শহীদ রেজাউল করিমের মাত্র তিন বছরের সন্তানকে কোলে নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, যা উপস্থিতদের চোখে অশ্রু এনে দেয়। পরবর্তীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি শহীদ রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন এবং মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর রুহের মাগফিরাত ও শাহাদাত কবুলের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন জামায়াত কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ড. ছামিউল হক ফারুকী, মঞ্জুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ইসলামী ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দাঁড়ি পাল্লায় ভোট চাওয়ায় মায়েদের অপমান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়েতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামালপুর শহরের সিংহজানী স্কুল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন- কিছু জায়গায় মায়েরা ভোট চাইতে গেলে অপমান করছে দুর্বৃত্তরা। এসময় তিনি দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন আমির। ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন- কিছু দল হা ভোটের ব্যাপারে স্বস্তির সাথে কিছু বলছে না। লুকিয়ে লুকিয়ে বলছে, তাদেরকে তিনি প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান। এসময় ড. শফিকুর রহমান এবারের নির্বাচনকে বাক্ পরিবর্তনের নির্বাচন বলে দাবি করেন। জামালপুর জেলা জামায়েতের সেক্রেটারি এডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল আওয়ালের সঞ্চালনায় ও সদর-৫ আসনের এমপি প্রার্থী, জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. ছামিউল হক ফারুকী, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদসহ জেলা ও কেন্দ্রীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।