শেরপুর জেলা শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শাহিনুল ইসলাম (৪০) শেরপুর সদর থানায় এএসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শহরের গৃর্দা নারায়ণপুর এলাকার একটি বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার টেবিরচর গ্রামের মৃত শামছুল হকের ছেলে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পর দুপুরে স্ত্রী সন্তানসহ বাবার বাড়ি যান। এরপর দীর্ঘ সময় ফোনে যোগাযোগ না হওয়ায় রাত ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বাসায় ফিরে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি আত্মহত্যা।
নিহতের পরিবার জানায়, তিনি দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ ঘটনায় সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগেরহাটের রামপালে বিশ্বমানের ক্যান্সার কেয়ার এণ্ড রিচার্স সেন্টার সংলগ্ন ব্রীজ নির্মাণের অগ্রগতি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে কেন্দ্রটি চালুর করার বিষয়ে খোঁজখবর নেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। শুক্রবার (০১ মে) বেলা ১১ টায় উপজেলার ঝনঝনিয়ায় নির্মাণাধীন ব্রীজ ও ক্যান্সার কেয়ার সেন্টারটি পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, জেলা পুলিশ সুপার মো. হাসান চৌধুরী, জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তামান্না ফেরদৌসি, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ চক্রবর্তী, ওসি সুব্রত বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ হাফিজুর রহমান তুহিন, সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল আমিন হাওলাদার, উপজেলা সচেতন নাগরিক ফোরামের সদস্য সচিব এম, এ সবুর রানাসহ ক্যান্সার কেয়ারের বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক কালে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রীজের দুই পারে অধিগ্রহণকৃত জমির জটিলতা নিরসন করে মালিকদের টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন। ব্রীজটি দ্রুততম সময়ের মধ্য নির্মিত হলে ক্যান্সার কেয়ারটি পুর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান, কেন্দ্রটির পরিচালক রেজা সেলিম। তিনি আরো জানান, কিছু মেসিনারিজ ভারী হওয়ায় নদীর কারণে স্থাপনে বিলম্ব হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্য আমাদের গ্রাম ক্যান্সার কেয়ারটি পরিপূর্ণভাবে চালু করা সম্ভব হবে। প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে আশ্বাস প্রদান করে প্রতিমন্ত্রী ডক্টর ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এ অঞ্চলে বিশ্বমানের এমন ক্যান্সার কেয়ার এন্ড রিসার্চটি যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যায়, এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগীতা করা হবে।
নোয়াখালীর চরপার্বতী ইউনিয়নে নদীভাঙনের হুমকিতে পড়েছে এক অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার ‘বীর নিবাস’। ছোট ফেনী নদীর তীব্র ভাঙনে বসতবাড়িটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জানা গেছে, সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রায় ১৪ লাখ ১০ হাজার ২০০ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িটি মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের একমাত্র আশ্রয়স্থল। বর্তমানে বাড়িটি নদী থেকে মাত্র ২০ ফুট দূরে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বাড়ির একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, আশপাশের এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে বহু ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও মৎস্যপুকুর নদীতে বিলীন হয়েছে। এতে কয়েকশ পরিবার চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হক বলেন, জীবনের শেষ সময়টুকু এই বীর নিবাসেই কাটাতে চান তিনি। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী হানিফ আনসারী জানান, নদীর বুকে জেগে ওঠা বালুচরের কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে বালুচর অপসারণ ও অন্তত দুই হাজার জিওব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নিলে এলাকা রক্ষা করা সম্ভব। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পুরো এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন, আসন্ন বর্ষার আগে চরপার্বতী ও চর হাজারী ইউনিয়নে নদীভাঙন রোধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আবেদন করা হয়েছে।
নীলফামারী সদর উপজেলার চাপড়া কাছারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। দুপুরে শেষ ঘণ্টার ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা মাঠ সংস্কারের দাবি জানায়। পরে শিক্ষকরা তাদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক ইলিয়াস হোসেন, আকলিমা বেগমসহ কয়েকজন শিক্ষক এবং নবম শ্রেণির মুহিন ইসলাম, অষ্টম শ্রেণির ইসরাত জাহান ও সপ্তম শ্রেণির সৈকত ইসলাম বক্তব্য দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে, বিদ্যালয়ের মাঠ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে কাঁদায় পরিণত হয়। নিচু হওয়ায় পাশের রাস্তার পানিও মাঠে প্রবেশ করে, ফলে চলাচল ও খেলাধুলা ব্যাহত হচ্ছে। তারা বলেন, উপযোগী মাঠ না থাকায় সহশিক্ষা কার্যক্রম ও খেলাধুলা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক জানান, মাঠ ভরাটের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনে আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল দিয়ে সংস্কার কাজ করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।