বগুড়ার নন্দীগ্রামে নির্বাচনী উত্তাপের মাঝে ভোট তহবিল বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে উপজেলার পারশুন গ্রামে এই ঘটনা ঘটে, যার ফলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও একজন স্থানীয় গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্দেহজনক সমাগম লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা পারশুন গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে গেলে অভিযোগ ওঠে যে, জামায়াতের কয়েকজন নেতা ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে গিয়ে হামলা-ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বগুড়া-৪ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ এই হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন পুলিশি উপস্থিতিতেও এ ধরনের পরিস্থিতির উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জেলা পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
কুমিল্লা সদর উপজেলার কটকবাজার এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) টানা আট ঘণ্টা বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। অভিযানটি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়। র্যাব কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম জানিয়েছেন, অভিযানকালে দুটি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে তিনটি বিদেশি পিস্তল, ছয়টি ম্যাগাজিন, একটি রিভলভার, দুটি একনালা বন্দুক, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং ৩৩টি দেশীয় অস্ত্র। মেজর সাদমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ভারত থেকে অবৈধ অস্ত্রের একটি চালান কুমিল্লায় প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘ নজরদারির পর নিশ্চিত হয় যে অস্ত্রগুলো একটি পুকুরে লুকানো ছিল। পরে পাশের আরেকটি পুকুর থেকে আরও কিছু বস্তা উদ্ধার করা হয়। অস্ত্র উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আগামী নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। র্যাব–১১ সিপিসি–২ কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, “উদ্ধারকৃত অস্ত্র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নাশকতার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ) আসনের লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী সিদ্দিকুল আলমের নির্বাচনী অফিসে গভীর রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নতুন বাবুপাড়া এলাকায় অফিসে হামলা চালানো হয়। এতে ৯ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন, দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান বুলেট বাবু ও কর্মী শাকিল আহমেদ রয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনকে রংপুরে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। প্রার্থী সিদ্দিকুল আলম অভিযোগ করেছেন, সাবেক যুবলীগ নেতা ও বর্তমানে জামায়াত নেতা জাকির হোসেনের নেতৃত্বে উগ্র সন্ত্রাসীরা অফিসে হামলা চালিয়ে কর্মীদের মারধর ও মালামাল তছনছ করেছে। তিনি তাদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেছেন। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহদী ইমাম জানান, অফিস থেকে টাকা বিতরণের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে, এবং যারা হামলায় জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর শাখার নায়েবে আমীর শফিকুল ইসলাম বলেন, হামলায় জামায়াত জড়িত নয়।
খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপগুলোকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা এলাকার উন্নয়নে বাধা দিচ্ছে, তাদের প্রতিহত করতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। এই সময় তিনি পানছড়ি উপজেলার ৩নং ইউনিয়নের পূজগাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এলাকার উদ্যোগী মহিলাদের সেলাই মেশিন প্রদান এবং হতদরিদ্রদের মাঝে হুইলচেয়ার ও শীতকম্বল বিতরণের আয়োজনকেও উল্লেখযোগ্য করেছেন। অনুষ্ঠানে সেনা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।