নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানি ভাতা চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার। ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু করা হবে এবং পরবর্তীতে তা সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বে ঘোষিত প্রতিশ্রুতির আলোকে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের জন্য সম্মানি ভাতা প্রদানের বিষয়ে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। তবে ভাতার পরিমাণ আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে নির্ধারণ করা হবে।
সরকারি সূত্রে আরও জানানো হয়, দায়িত্ব গ্রহণের পর এ দিন প্রথমবারের মতো তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মদিবসের সূচনায় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহকে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং নীতিগত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই ভাতা কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ও খাদ্য মন্ত্রী আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন জানিয়েছেন, মন্ত্রী হিসেবে তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না এবং সরকারি বেতন-ভাতাও নেবেন না। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এ প্রতিশ্রুতি দেন। মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লায় প্রথম রপ্তানিমুখী কারখানা প্রতিষ্ঠা করা তার উদ্যোগে হয়েছে এবং জেলার শিল্প-অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে। তিনি কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ‘কুমিল্লা মডেল’ অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কুমিল্লাতেও কৃষি উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেবেন। আমিন-উর-রশীদ ইয়াছিন আরও জানিয়েছেন, কৃষকদের ফসল সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং কুমিল্লার ঐতিহ্য—ট্যাংক ও ব্যাংকের নগরী হিসেবে—রক্ষার চেষ্টা করা হবে। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
গণভোটে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পৃথক কোনো শপথের প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ায় জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন ও আলোচনার মাধ্যমেই গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোট কার্যকর হবে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। তিনি ব্যাখ্যা দেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর আইন প্রণয়নের সাংবিধানিক পথ সুস্পষ্ট; গণভোটের ফলাফল সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই কার্যকরতা পাবে। মন্ত্রী আরও জানান, গণভোটে প্রাপ্ত ‘না’ ভোট ও উত্থাপিত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বিষয়গুলোও সংসদে আলোচনার আওতায় আসবে এবং আইনগত ব্যাখ্যার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তার ভাষ্য, গণভোটে জনগণের রায় নীতি-নির্ধারণী কাঠামোর অংশ হিসেবে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়িত হবে। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে ‘মব’ সৃষ্টি বা বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার যে কোনো প্রচেষ্টা রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্বার্থবিরোধী বলে বিবেচিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরেও সৈয়দপুর পৌর এলাকায় বিভিন্ন সড়ক, পাড়া-মহল্লা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্বাচনী পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় এগুলো ছিঁড়ে রাস্তায় পড়ে বা গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলে থেকে নগর সৌন্দর্য ও পরিবেশের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী বিধিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে প্রার্থীদের নিজস্ব প্রচারণা সামগ্রী অপসারণ করতে হবে। তবে এখনও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচন কমিশন পরিবেশ সুরক্ষার কারণে কাগজের পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করলেও বাস্তবে প্রার্থীরা পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও প্লাস্টিকের ব্যানার ব্যবহার করেছেন। সরেজমিনে শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শেরেবাংলা রোড, জিআরপি চত্বর ও ক্যান্টনমেন্ট সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় অনেক ব্যানার এখনও ঝুলে আছে। অনেক জায়গায় খোলা ব্যানার ও ফেস্টুন ফুটপাত ও ড্রেনে পড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে। সৈয়দপুরের সেতুবন্ধন যুব উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি আলমগীর হোসেন বলেন, “প্লাস্টিক ও অপচনশীল ব্যানারের এই ব্যবহার পরিবেশ ও নগর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। দ্রুত অপসারণ জরুরি।” সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, নির্বাচন শেষে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রার্থীদের অপসারণের নির্দেশনা রয়েছে। পৌরসভার পক্ষ থেকে তখনই কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে, যদি কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসে। উল্লেখ্য নীলফামারী-৪ আসনের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম জয়লাভ করেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির আব্দুল গফুর সরকার ও জাতীয় পার্টির সিদ্দিকুল আলম।