দলীয় নীতিমালা ও নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার স্থলে নতুন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয় আমির শফিকুর রহমান-এর নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে। তবে ওই চিঠিতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা আমিরের অনুমোদিত নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এ কারণেই গত ২ মার্চ তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে ওই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান-কে। দলটির দাবি, সিদ্ধান্তটি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে গৃহীত হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো একটি চিঠিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। চিঠিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এমন প্রস্তাব আসায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে গণমাধ্যমে জানা গেছে। বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক আচরণে বিশ্বাসী। কোনো বিষয়ে বিভ্রান্তি বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে তা দ্রুত সংশোধনের নীতিতেই দলটি পদক্ষেপ নেয়।
রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রাঙ্গণে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ মার্চ নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে তারা সংসদে যোগ দেবেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যারা ভারতে গ্রেফতা হয়েছে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডটি শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা উচিত। সরকারের সাম্প্রতিক সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি রোধ করা না গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাবে না।
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার বল্লী মো. মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত ও তাঁর চেয়ার দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সহকারী শিক্ষক ও ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম আসামি একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তিনি বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। মামলার বাদী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামান। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর সাতক্ষীরার আমলি আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর একেএম আজহারুজ্জামান মুকুলসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে অভিযুক্তরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধর ও লাঞ্ছিত করে কক্ষ থেকে বের করে দেন এবং তাঁর চেয়ার দখল করেন। ঘটনাটির দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল মুজিদ জানান, সিআইডির তদন্তেও ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে, একই মামলায় এর আগে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ ও আজমল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নতুন অফিস খোলার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, তাই সব ক্ষেত্রে আইনগতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ফখরুল বলেন, নয়াপল্টন কার্যালয় বিএনপির আন্দোলন ও কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দু ছিল এবং এর মাধ্যমে জনগণকে অনুপ্রাণিত করা হতো। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কেও তিনি জানান, সরকারি নিয়ম মেনে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে দলীয় সংযুক্তি ও জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে।