পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঝিনাইদহে সাড়ে ৭ হাজার দরিদ্র-অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে শহরের আরাপপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ ও জোহান পরিবারের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
সকালের প্রথম প্রহর থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ও বয়স্ক মানুষ খাদ্য সহায়তা নিতে আরাপপুর এলাকায় জড়ো হন। অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারের জন্য ৮ কেজি চাল, ১ কেজি চিনি এবং আধা কেজি সেমাই প্রদান করা হয়, যা পেয়ে উপকারভোগীরা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
আয়োজকরা জানায়, সমাজের অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
বিয়ের সাজে নতুন বউকে নিয়ে ঘরে ফেরার কথা ছিল, সামনে ছিল পরিবারের সাথে প্রথম ইফতারের আনন্দ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মোংলার কাছেই থমকে গেল সেই পথ। বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ প্রাণ হারালেন ১৪ জন। এর মধ্যে বরের পরিবারেরই ৯ সদস্য। আজ জুমার নামাজের পর মোংলায় পাশাপাশি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হলো তাদের। বিয়ের আনন্দ নিয়ে ফেরা গাড়িটি পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে। নতুন বউ, বর আর স্বজনদের হাসিতে ভরা সেই যাত্রার সমাপ্তি হলো এক মুহূর্তের বিভীষিকায়। রাতভর অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে কেঁপে ওঠা মোংলা শহর আজ বিষাদ আর নিস্তব্ধতায় ঢাকা। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ভাবি ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল এবং চার শিশু সদস্য সামিউল ইসলাম ফাহিম, আলিফ, আরফা ও ইরাম। এক মুহূর্তের দুর্ঘটনায় বিলীন হয়ে গেল একটি পরিবারের প্রায় পুরো প্রজন্ম। অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া আক্তার মিতু, তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রায়। এছাড়া নিহত হয়েছেন মাইক্রোবাস চালক নাঈম। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার ভোরে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সকাল থেকেই রাজ্জাকের বাড়িতে ভিড় জমান শোকাতুর এলাকাবাসী। বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার মার্জিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌর বিএনপি সভাপতি আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ছাব্বিরের। বৃহস্পতিবার নতুন বউ নিয়ে ফেরার পথে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১৪ জন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মোংলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। এরপর পৌর কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় রাজ্জাক পরিবারের ৯ সদস্যকে। বিয়ের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই কবরের সারিতে ঠাঁই হলো তাদের। ইফতারের টেবিলে যাদের অপেক্ষায় ছিল প্রিয়জন, তারা ফিরলেন না আর— ফিরলো শুধু তাদের নিথর দেহ।
বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফ বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ ১৪ জন নিহতের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে আগামী দশ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মেজবাহ উদ্দীনকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, মোংলা ও রামপাল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)-এর একজন পরিদর্শক। জেলা প্রশাসক গোলাম মোঃ বাতেন জানান, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় সংঘটিত এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও বিআরটিএর সমন্বয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং কারও অবহেলা রয়েছে কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে কারও অবহেলা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাগেরহাটের রামপালে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ঘটনা ঘটে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মোংলা থেকে আসা একটি বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোংলাগামী মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। উভয় গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহত ও আহতদের মধ্যে কয়েকজন মিলে ওই মাইক্রোবাসে করে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোংলা ফিরছিলেন। হতাহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ কিছু আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। রামপাল থানার পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ ও নিহতদের পরিচয় নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে।