রাত পোহালেই ঈদ। আর এই উৎসবকে ঘিরে নতুন রূপে সেজে উঠেছে সাতক্ষীরার বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র। সুন্দরবন উপকূলীয় এই জেলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা একাধিক দর্শনীয় স্থান এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র (মিনি সুন্দরবন)

ইছামতি নদীর তীরে প্রায় ১৫০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই ম্যানগ্রোভ বন এখন ‘মিনি সুন্দরবন’ হিসেবে পরিচিত। কেওড়া, বাইন, সুন্দরীসহ নানা প্রজাতির গাছে ঘেরা এই স্থান প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা দেয়।
ঈদ উপলক্ষে এখানে উন্নত যোগাযোগ, সুপেয় পানি, বিশ্রামাগার, নামাজের স্থান, ইন্টারনেট সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। ‘অনামিকা লেক’ ঘিরে নৌভ্রমণ, ঘোড়ায় চড়া ও শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থাও দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে।

মোজাফ্ফর গার্ডেন (মন্টু মিয়ার পার্ক)

খড়িবিলায় প্রায় ১২০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা এই বিনোদন কেন্দ্রটি শহরের অন্যতম বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে লেক, প্যাডেল বোট, মাছ ধরার ব্যবস্থা, থ্রিডি থিয়েটার, চিড়িয়াখানা, চিলড্রেন পার্ক ও খেলার মাঠ।
ঈদকে সামনে রেখে আলোকসজ্জাসহ বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পিকনিক স্পট ও থাকার আধুনিক ব্যবস্থাও রয়েছে, যা পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য আদর্শ জায়গা।

আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম (মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর)

সুন্দরবনের কোলঘেঁষে মালঞ্চ নদীর চরে গড়ে ওঠা এই ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর। সারি সারি কেওড়া গাছ, সরু পথ, গোলপাতার ঘর—সব মিলিয়ে এক স্বপ্নময় পরিবেশ তৈরি করেছে।
এখানে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার, যেখান থেকে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা দেখা যায়। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মিলতে পারে হরিণ, বানর এমনকি রয়েল বেঙ্গল টাইগারেরও।

ঈদে বাড়ছে ভিড়, প্রস্তুত প্রশাসন
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এসব পর্যটন কেন্দ্রে হাজারো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, প্রকৃতি আর বিনোদনের মেলবন্ধনে সাতক্ষীরার এই পর্যটন কেন্দ্রগুলো ঈদে হয়ে উঠেছে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রিয় সৈয়দপুর। এক টাকায় ঈদের নতুন জামা দেওয়ার পর এবার খেটে খাওয়া মানুষের জন্য ১ টাকায় সেমাই, চিনি ও দুধ বিতরণ করে নতুন চমক দেখিয়েছে তারা। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে শহরের গোলাহাট রাজ্জাকিয়া গফুরিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বসানো হয় একটি অস্থায়ী দোকান। ব্যানারে লেখা ছিল— “১ টাকায় সেমাই চিনি দুধ”। আর সেই ডাকেই সাড়া দিয়ে ভিড় করেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ। সুবিধাভোগীরা জানান, মাত্র ১ টাকায় আধা কেজি লাচ্ছা সেমাই, চিনি ও দুধ পাওয়া তাদের কাছে অবিশ্বাস্য। রিকশাচালক মহিবুল আলম বলেন, “আমরা খেটে খাওয়া মানুষ, প্রতিটি টাকাই গুরুত্বপূর্ণ। আজ ১ টাকায় ঈদের প্রয়োজনীয় জিনিস পেয়ে সত্যিই ভালো লাগছে।” সংগঠনের সদস্যরা জানান, ঈদের আনন্দে সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের শামিল করতেই তাদের এই উদ্যোগ। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এসরার আনসারী ও নওশাদ আনসারী বলেন, “আমরা চাই মানুষ দানের অনুভূতি নয়, নিজের অর্থে কিনে নেওয়ার আনন্দ পাক। তাই প্রতীকী মূল্য রাখা হয়েছে।” উল্লেখ্য, প্রতি বছর ঈদকে সামনে রেখে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা দিয়ে আসছে এই সংগঠন। চলতি বছর ১ টাকার দোকানের মাধ্যমে জামা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার ২০টিরও অধিক গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকেই আনন্দঘন পরিবেশে মুসল্লিরা নির্ধারিত ঈদের জামাতে অংশ নেন। সকাল ৮টায় সদর উপজেলার কুশখালী ইউনিয়নের বাউখোলা মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা মহব্বত আলী। এ জামাতে ভোঁদড়া, ঘোনা, ভাড়খালী, মিরগিডাঙ্গা, ইসলামকাটি, গোয়ালচত্তরসহ অন্তত ২০টি গ্রামের কয়েকশ মুসল্লি অংশ নেন। নামাজ শেষে খুতবা ও বিশেষ মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। ইমাম মাওলানা মহব্বত আলী বলেন, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বিশ্বের অন্য প্রান্তে চাঁদ দেখার সংবাদের ভিত্তিতে তারা ঈদ উদযাপন করে থাকেন। ঈদের নামাজে অংশ নিতে আসা মুসল্লি আলি হোসেন জানান, সকালেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামাজ আদায় করতে পেরে তিনি আনন্দিত। আরেক মুসল্লি আব্দুল জলিল বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে একই দিনে ঈদ পালন করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। এছাড়া শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ও তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়নেও পৃথকভাবে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলার অধিকাংশ এলাকায় জাতীয়ভাবে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে দুঃস্থ ও গরীবদের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণ শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে নীলফামারী উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ। তিনি উপকারভোগীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর আবু হানিফা শাহ এবং নীলফামারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান আজাদও উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে মানবিক সহায়তার জন্য মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। এই অর্থ ৪৫০ জনের মধ্যে বিতরণ করা হবে, যেখানে প্রতিজনকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। উপকারভোগীদের তালিকা স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের পরিচিতদের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে।