নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গিয়ে পুলিশ ও ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযান চালিয়ে বোমা মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করে ধ্বংস করেছে যৌথবাহিনী।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিস্তাপাড়ের বিভিন্ন এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান। অভিযানে বিজিবি, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র তিস্তা নদী থেকে সিক্স সিলিন্ডার বোমা মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করে আসছিল। গত বৃহস্পতিবার পাথর উত্তোলন বন্ধ করতে গেলে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহীন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় চেয়ারম্যানসহ ১৭ জন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় রাতে থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়।
শুক্রবারের অভিযানে ৬টি বোমা মেশিন, ৬টি পাইপ, ৩০০টি প্লাস্টিক ড্রাম ও ১৯টি লোহার ছাকনি জব্দ করে ধ্বংস করা হয়। অভিযানে অংশ নেন ৫১ বিজিবির উপ-অধিনায়ক এ এফ এম জুলকার নাঈম ও ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তিস্তা নদীতে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কুমিল্লা নগরীতে চুরির উদ্দেশ্যে একটি বাসায় প্রবেশ করে পালানোর সময় বারান্দার লোহার গ্রিলে আটকে পড়েন এক যুবক। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। রোববার দুপুরে নগরীর ইসলামপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক যুবকের নাম মো. মারজান হোসেন জিহাদ (২২)। তিনি নগরীর ছোটরা এলাকার বাসিন্দা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিচতলার একটি বাসায় প্রবেশের পর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গ্রিলের ফাঁকে আটকে যান তিনি। দীর্ঘ সময় বের হতে ব্যর্থ হয়ে চিৎকার করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা তাকে টেনে বের করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেন। এদিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, গ্রিলের ফাঁকে আটকে থাকা যুবক নিজেকে ছাড়ানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করছেন এবং উপস্থিত লোকজনের কাছে সাহায্য চাইছেন। কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযুক্তকে ২০ দিনের কারাদণ্ড দেন। আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, টিকা গ্রহণকারীদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে সময় প্রয়োজন, এরপর সংক্রমণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। সোমবার (১১ মে) বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ২০২০ সালের পর নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায় বর্তমান হাম পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ছিল না, তবে দ্রুত টিকা সংগ্রহের ফলে বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টারে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। পরে তিনি চিকিৎসকদের উপস্থিতি রেজিস্টার পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ ও সংক্রমণে মোট ১১ শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জন উপসর্গ নিয়ে এবং ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল। রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২০৫ জন শিশুর শরীরে হামের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৭৮ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আঞ্চলিক বিভাজনে দেখা যায়, মৃত্যুবরণকারী ৪ জনের মধ্যে ৩ জন ঢাকা বিভাগে এবং ১ জন বরিশাল বিভাগে ছিল। একই সময়ে হামের উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনায় ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১ হাজার ৫০৩ শিশুর মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই ঢাকা বিভাগের। একই সময়ে ১ হাজার ১১৬ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৪৯ হাজারের বেশি শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং ৬ হাজার ৮১৯ জনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামের সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৯ জনের বেশি, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।