গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও পিছপা হবে না।
ট্রাম্পের যুক্তি, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না এলে সেখানে রাশিয়া বা চীন প্রভাব বিস্তার করতে পারে, যা ওয়াশিংটনের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে মালিকানা প্রয়োজন—লিজ বা আংশিক নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত গ্রিনল্যান্ড কেনার অর্থনৈতিক দিক নিয়ে আলোচনা না হলেও ভবিষ্যতে বিষয়টি আলোচনার টেবিলে থাকতে পারে। এর আগেও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী এর নিরাপত্তার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত। তবে প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক অবস্থান ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে রাশিয়া প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রোববার (১২ এপ্রিল) ক্রেমলিনের বরাতে জানানো হয়, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক আলাপে পুতিন এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন এবং রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে মস্কোর সক্রিয় সহায়তার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নিতে এবং দীর্ঘমেয়াদি ও ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় সহায়ক ভূমিকা পালনে প্রস্তুত। মস্কো এ উদ্যোগকে চলমান আঞ্চলিক সংকট নিরসনে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ হিসেবে দেখছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ সক্রিয় থাকলেও সাম্প্রতিক আলোচনা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।
ইসলামাবাদে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ফলাফল নিয়ে মন্তব্য করে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেছেন, দীর্ঘ যুদ্ধ-পরবর্তী অবিশ্বাস ও রাজনৈতিক সন্দেহের পরিবেশে এক বৈঠকে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো “বাস্তবসম্মত ছিল না”। তিনি জানান, দুই পক্ষই চরম আস্থাহীনতার মধ্য দিয়ে সংলাপে অংশ নেয়, ফলে শুরু থেকেই তাৎক্ষণিক চুক্তির প্রত্যাশা অতিরঞ্জিত ছিল। তবে যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এখন অগ্রাধিকারের বিষয়। ইসহাক দার আরও বলেন, জটিল এই ভূরাজনৈতিক সংকট সমাধানে ধাপে ধাপে আস্থা গড়ে তোলাই একমাত্র কার্যকর পথ, যেখানে সব পক্ষের রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আলোচনার ফলাফল নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও তেহরানের “বৈধ অধিকার” স্বীকৃতির ওপর। অন্যদিকে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি দাবি করেছে, মার্কিন “কঠোর শর্ত” ও অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। পাকিস্তান জানিয়েছে, তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা অব্যাহত রাখবে এবং ভবিষ্যৎ সংলাপের পথ খোলা রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত টানা ২১ ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় কোনো ধরনের চুক্তি বা কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ফলে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কার্যত ব্যর্থ হয়ে যায়। আলোচনা শেষে উভয় দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নেয়। ইরানি পক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর ও অতিরিক্ত শর্ত’কে দায়ী করা হয়েছে। ইরানি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান অগ্রহণযোগ্য ও একপাক্ষিক ছিল, যা আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করে। উল্লেখ্য, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চলমান এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে সর্বশেষ দফা আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।