পঞ্চগড়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা শফিকুর রহমান বলেছেন, আমাদের কাছে কোন কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের কার্ড। আপনাদের বুকে আমরা ভালবাসার কার্ড চাই। জনগনের ট্যাক্সের টাকায় পরের ধনে পোদ্দারি এ আমরা করবো না।
তিনি শুক্রবার দুপুরে পঞ্চগড়ের চিনিকল মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এমন্তব্য করেন।
এসময় জামায়াত আমির বলেন, যারা চুরি করে বিদেশে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে গেছেন তাদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনবো ইনশাআল্লাহ। আমরা কারো উপর বোঝা চাপিয়ে দিতে চাইনা। আমরা দেশের যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। তাদের বেকার হতে দেবো না।
শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চলের মাটি উর্বর কিন্তু উত্তরাঞ্চলকে ষড়যন্ত্র করে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবার আর নয়। এবার তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ শ্লোগান হবে। উত্তরাঞ্চলকে আর পিছিয়ে রাখা যাবে না। উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে চারটি নদী গেছে। নদীগুলো শুকিয়ে মরুভূমি হয়ে গেছে।
জামায়াত আমির বলেন, ওরা ৫ বছরে একবার দরদের হান্ডিতে জাল দেয় আর উথলায়া ওঠে। আর বাকী সাড়ে ৪ বছর তাদের আর হারিকেন জ্বালিয়ে পাওয়া যায় না। কিছু কিছু মানুষ বসন্তের কোকিলের মত কুহুকুহু করছে। ভোট পেলে তাদের এলাকায় পাওয়া যাবে না।
পরে জামায়াত আমির ডা শফিকুর রহমান জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড় ১ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের হাতে শাপলা কলি ও পঞ্চগড় ২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সফিউল আলম সূফীর হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট চান। একই সাথে তাদের নির্বাচিত করতে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।
এসময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দল হাকিম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান সহ ১০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
এর আগে, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন যানবাহন ও পায়ে হেঁটে জনসভাস্থলে আসেন জোটের নেতাকর্মীরা। মুহুর্তেই জনসভাস্থল জনসমুদ্রে পরিণিত হয়। তিঁল ধারণের ঠাঁই ছিলনা পুরো চিনিকল মাঠে।
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) বিকাল ৫টায় উপজেলার ফয়লাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ আয়োজন করা হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সম্মানে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে ছাত্রশিবির রামপাল পশ্চিম শাখা। অনুষ্ঠানে শাখা সেক্রেটারি মো. মুরছালিন শেখের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন শাখা সভাপতি শাকিল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল ওয়াদুদ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা সেক্রেটারি মো. জিহাদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি হাফেজ মোরশেদ আলম, এইচআরডি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সিনান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বাগেরহাট জেলা সিনিয়র আহ্বায়ক খালিদ হাসান নোমান, মীর সাব্বির এবং ছাত্রদলের রামপাল উপজেলা সাবেক আহ্বায়ক মোল্লা তারিকুল ইসলাম শোভনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মী, সুধীজন এবং স্থানীয় এলাকাবাসী। অনুষ্ঠানে বক্তারা পারস্পরিক সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ইফতার মাহফিলে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি যুবকদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা যেন নিজের থেকে বেশি শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করেন। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া তার বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সংসদ সদস্য হাসনাত জানান, বিয়ের সময় মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বিয়ে করলে স্ত্রী যেন স্বাবলম্বী হয়, নিজের ও সন্তানের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। তাই নিজের থেকে কম শিক্ষিত মেয়েকে বিয়ে করার পরামর্শ কখনো গ্রহণ করব না।” তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করাই তাদের পরিবার ও সমাজ উন্নয়নের লক্ষ্য। এই বক্তব্য সামাজিক মাধ্যম ও স্থানীয় যুব সমাজে ইতিমধ্যেই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
রাজশাহীতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারণ ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ প্রাঙ্গণে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আসন্ন ১২ মার্চ নতুন সংসদের অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বর্তমান রাষ্ট্রপতির বক্তব্য শোনার উদ্দেশ্যে নয়, বরং সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে তারা সংসদে যোগ দেবেন। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কারের জন্য একটি সংস্কার পরিষদ গঠন করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা উচিত। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রপতির অপসারণ এবং তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে যারা ভারতে গ্রেফতা হয়েছে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যকর করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডটি শুধু প্রত্যক্ষ হামলাকারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর পেছনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ও তথাকথিত ‘ডিপস্টেট’ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা উচিত। সরকারের সাম্প্রতিক সামাজিক উদ্যোগের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি রোধ করা না গেলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রমের সুফল জনগণের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাবে না।